কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে যুবকদের জনসম্পদে রূপান্তরে বিএনপির কর্মপরিকল্পনা: ড. মঈন খান

কারিগরি শিক্ষায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। কোলাজ- এডুকেশন বাংলা
কারিগরি শিক্ষায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। কোলাজ- এডুকেশন বাংলা

দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে সফল করতে হলে অবশ্যই জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিএনপি এক কোটি তরুণকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দিয়ে কর্মে নিয়োজিত করার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল শনিবার (তারিখটি অনুমিত) বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) এর উদ্যোগে আয়োজিত "সোসিও ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ থ্রো টিভ্যাট: প্রবলেমস এন্ড প্রসপেক্টস" শীর্ষক সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ যুবক এবং যুব শ্রেণিতে বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষিত 'যুবকের হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের' প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি এই যুব শ্রেণিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মূল প্রবন্ধে কর্মসংস্থান ও দক্ষতার অভাব:

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরআই এর সভাপতি ও সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতির হতাশার চিত্র তুলে ধরা হয়:

  • বাংলাদেশের ২০ শতাংশ যুবক বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক হলেও মাত্র ১৬.৮ শতাংশ যুবক কর্মসংস্থান করতে পেরেছে।

  • ইউজিসির ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, প্রতিবছর দশ লাখ যুবক জব মার্কেটে প্রবেশ করলেও অর্ধেকেরও কম যুবক কর্মসংস্থান পায়।

  • বিএমইটির ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর দশ লাখ যুবক বিদেশে চাকরির জন্য গেলেও এদের অধিকাংশই অদক্ষ, ফলে তারা কম বেতন পায় ও নিম্নমানের কাজে নিয়োজিত হয়।

  • সুতরাং, প্রশিক্ষিত জনগণ ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

কারিগরি শিক্ষায় বৈশ্বিক উদাহরণ এবং বাংলাদেশ:

প্রবন্ধে বিদেশে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার সফলতার উদাহরণ তুলে ধরা হয়:

দেশ কারিগরি শিক্ষার দৃষ্টান্ত
জার্মানি ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহণ করে কাজে প্রবেশ করে।
মালয়েশিয়া প্রতিবছর বিশ লাখ যুবককে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দান করে।
সিঙ্গাপুর স্কিলস ফিউচার প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার সঙ্গে কারখানার সংযোগ স্থাপন এবং বয়স নির্বিশেষে সবাইকে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেয়।
ভিয়েতনাম শিক্ষার সঙ্গে ম্যানুফেকচারের লিংকআপ করে বেকারত্ব ৭ শতাংশের কমে নামিয়ে এনেছে।

কিন্তু বাংলাদেশ কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় দৃশ্যমানভাবে পিছিয়ে আছে। এই উপলব্ধি থেকেই বিএনপি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।

সুপারিশমালা এবং শিক্ষকদের প্রতি অঙ্গীকার:

সেমিনারে উপস্থাপিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • কারিগরি শিক্ষার উন্মুক্তকরণ ও এটিকে মূলধারার শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ।

  • একটি একক অথরিটির মাধ্যমে একীভূত দক্ষতা শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি।

  • কলকারখানার চাহিদা ভিত্তিক কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ ও শক্তিশালীকরণ।

  • দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল গঠন।

  • ডিজিটাল ও সবুজ অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ।

  • নারী সমাজকে সমানতালে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় সম্পৃক্তকরণ।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে শিক্ষা তার একমাত্র 'ভিশন' হবে এবং শিক্ষকদের জাতীয়করণ, ভাতা বাড়ানোসহ কোনো বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না।

অন্যান্য বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত:

  • ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার: কর্মসংস্থান বিহীন শিক্ষাকে অসম্পূর্ণ বিদ্যা আখ্যা দিয়ে শিক্ষাকে কর্মসংস্থানমুখী করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে সক্ষম শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

  • অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া: সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তে তরুণ সমাজকে কর্মমুখী শিক্ষার ওপর আগ্রহী হতে আহ্বান জানান।

  • ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ: দেশের অধিকাংশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং পড়ানো হলেও কর্পোরেট বডিতে চিফ অ্যাকাউন্টেন্টরা বাইরের, যা শিক্ষা আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করেছে। এই ফারাক পূরণ করতে সিলেবাসকে নতুন করে সাজাতে হবে।

  • ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামসুন্নাহার: কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার কারিকুলামকে দেশ-বিদেশের চাহিদার উপযোগী করে তৈরি এবং শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির (বুটেক্স) ভিসি ড. জুলহাস উদ্দিন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং অন্যান্য শিক্ষাবিদ ও নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন

নতুন করে উপবৃত্তি পাবেন ৫৯ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরকারি এ সহায়তার আওতায় আসবেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি বিতরণ ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তা প্রদান’ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য DTE Stipend MIS সফটওয়্যারে প্রোফাইল তৈরি ও লগইন করতে প্রয়োজনীয় User ID এবং বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো হবে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন অন্তর্ভুক্ত ৫৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে DTE Stipend MIS সফটওয়্যারে আগের User ID পুনরুদ্ধার করে উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বরিশাল অঞ্চলের ‘ব্যাংকেরহাট কো-অপারেটিভ (ডিগ্রি) কলেজ, ভোলা সদর, ভোলা’কে আপাতত উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির EIIN ১০১২১০ এবং কারিগরি কোড ৪০০০০৭। একই কারিগরি কোডের একটি স্কুল অংশ (EIIN ১০১১০৭) ইতোমধ্যে DTE Stipend MIS-এ অন্তর্ভুক্ত থাকায় কলেজ অংশের জন্য আলাদা কারিগরি কোড প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজের অনুকূলে পৃথক কারিগরি কোড সংগ্রহ করে তা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৃথক কোড পাওয়া গেলে কলেজ অংশকে উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মন্তব্য করুন

কুমিল্লায় কারিগরি শিক্ষার সুফল ও ভর্তির প্রচারণা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে “কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভর্তির প্রচারণা” বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি  কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও সমানতালে বেকারত্বের সংখ্যাও বাড়ছে। বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বুঝতে হবে, আগামীর বিশ্ব হলো কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর।”

তিনি আরও বলেন, “কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আমরা দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কাজ করছি। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করলে কোনো শিক্ষার্থী বেকার থাকে না। ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের কারিগরিমুখী করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ মিকাইল, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক কাজী ফারুক আহমদ, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) মো. আনোয়ারুল কবির এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কারিগরি অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, বৃহত্তর কুমিল্লার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ইমাম ও সাংবাদিকবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যের পর কারিগরি শিক্ষায় করণীয় ও সফলতা নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অতিথিদের মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ড. খ. ম. কবিরুল ইসলাম কারিগরি শিক্ষার সুফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

 

মন্তব্য করুন

ভাড়া বাড়িতে দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা অনুমোদনের নতুন নীতিমালা

 

সরকার নতুন নীতিমালা জারি করে ভাড়া বাড়িতে দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির অনুমতি দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের পুরোনো নীতিমালা সংশোধন করে ‘বেসরকারি মাদ্রাসা (দাখিল ও আলিম) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।


ভাড়া বাড়িতে মাদ্রাসা অনুমোদন

নীতিমালায় বলা হয়েছে—

  • সিটি করপোরেশন, শিল্প এলাকা ও পৌরসভায় ভাড়া বাড়িতে মাদ্রাসা স্থাপন করা যাবে।

  • ভাড়ার চুক্তিপত্র কমপক্ষে ৬ বছরের হতে হবে।

  • মাদ্রাসার নামে ব্যাংকে অন্তত ৫ লাখ টাকার ডিপোজিট থাকতে হবে।

  • ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, মিশন, এনজিও, ফাউন্ডেশন বা দাতব্য সংস্থা এসব মাদ্রাসা পরিচালনা করতে পারবে।


দূরত্ব ও জনসংখ্যার শর্ত

  • সিটি করপোরেশন, শিল্প এলাকা ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে ১ কিলোমিটার, আলিম মাদ্রাসার মধ্যে ২ কিলোমিটার দূরত্ব থাকতে হবে।

  • মফস্বলে দাখিল মাদ্রাসার জন্য দূরত্ব হবে ২ কিলোমিটার, আলিমের জন্য ৩ কিলোমিটার।

  • দাখিল মাদ্রাসা স্থাপনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ন্যূনতম ১০ হাজার মানুষ থাকতে হবে।

  • আলিম মাদ্রাসার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জনসংখ্যা হতে হবে ৪০ হাজার।


পাঠদানের অনুমোদন

  • দাখিল সহশিক্ষা মাদ্রাসায় প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।

  • দাখিল বালিকা মাদ্রাসায় প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।

  • আলিম সহশিক্ষা মাদ্রাসায় প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং আলিম বালিকা মাদ্রাসায় গড়ে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।


বিশেষ ছাড়ের বিধান

নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনগ্রসর এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, দ্বীপ, বস্তি, নারী শিক্ষা বা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা যাবে।

  • সিটি করপোরেশন, শিল্প এলাকা ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় জনসংখ্যার শর্ত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

  • তবে সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া কোনো মাদ্রাসার অনুমোদন মিলবে না।


শিক্ষা বোর্ডের মন্তব্য

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন,
“অনেক প্রাইভেট মাদ্রাসা আগে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিতো। এখন তারা নিজেদের নামে পরীক্ষা দিতে পারবে। সরকার আর্থিকভাবে ব্যয় বহন করছে না, অথচ এসব প্রতিষ্ঠান ভালো পারফর্ম করছে। তাই তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত থাকবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে হবে।”


দেশে মাদ্রাসার বর্তমান চিত্র (সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী)

  • স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা (প্রথম–পঞ্চম শ্রেণি): ৩,৪৩৩টি (এমপিওভুক্ত ১,৫১৯টি, শিক্ষক ৪,৪৩১ জন)

  • দাখিল মাদ্রাসা (ষষ্ঠ–দশম শ্রেণি): ৬,৫৯৩টি (এমপিওভুক্ত ৫,৩৭১টি, শিক্ষক ৭০,৯৮২ জন)

  • আলিম মাদ্রাসা (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি): ১,৫৫৮টি (এমপিওভুক্ত ৯৮২টি, শিক্ষক ২০,০৮১ জন)

  • কামিল মাদ্রাসা (স্নাতকোত্তর স্তর): ২১৯টি (এমপিওভুক্ত ১৪৫টি, শিক্ষক ৫,০৭৯ জন)

  • এমপিওবিহীন মাদ্রাসা: প্রায় ১,৭৩০টি

সব মিলিয়ে, এমপিও ও নন-এমপিও উভয় ধরনের মাদ্রাসাই সরকারের অনুমোদন নিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য করুন

সফটওয়্যার সমস্যায় আটকে বদলি, সময় বাড়ানোর চিন্তা ডিটিইর

সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতায় বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার সময় বাড়ানোর কথা ভাবছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিটিই)। বর্তমানে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা নির্ধারিত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তথ্য দিতে পারছে না।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের তথ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের পরও তথ্য দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নতুন এমপিও-টি-টি-এস (MPO-TTS) সফটওয়্যারে প্রবেশ করে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই সফটওয়্যার নিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। কোথাও প্রতিষ্ঠানের ধরন ভুল দেখাচ্ছে, কোথাও কাঙ্ক্ষিত বিষয় বা পদের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ই-মেইল-সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যারে প্রবেশই করতে পারছে না।

এসব সমস্যা জানিয়ে এখন পর্যন্ত সফটওয়্যারের ‘মন্তব্য’ ঘরে দুই শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তবে এ সংখ্যা সমস্যায় পড়া শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা নয়; এটি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জমা দেওয়া অভিযোগের সংখ্যা।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহৃত ইএফটি (EFT) সিস্টেমে থাকা ২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন বদলি সফটওয়্যারে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানান্তরের সময় কিছু তথ্য সঠিকভাবে না আসায় নতুন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।

এর ফলে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ইনস্টিটিউট টাইপ’ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেমন, স্বতন্ত্র এইচএসসি ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যারে সংযুক্ত এইচএসসি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয় ও পদের তালিকাতেও অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এতে শূন্যপদের সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

ই-মেইল-সংক্রান্ত সমস্যাও জটিলতা বাড়িয়েছে। এর আগে ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত বা ভুল ই-মেইল ব্যবহার করায় ওটিপি পাওয়া ও লগইনে সমস্যা হচ্ছে। কোথাও একই ই-মেইল দিয়ে একাধিক ব্যবহারকারী প্রবেশের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, সফটওয়্যারে পাওয়া অসঙ্গতিগুলো যাচাই করে সংশোধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য নিশ্চিত না করে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চায় না অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের এমপিও শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংযুক্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান এখনো শূন্যপদের চাহিদা দিতে পারছেন না। যদি সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের সংখ্যা না জানতে পারি, তাহলে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে পারব না। তাই সময় বাড়ানোর চিন্তা করছি।’

তিনি বলেন, সফটওয়্যার নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সফটওয়্যারের ‘কমেন্ট বক্সে’ সমস্যার কথা জানানো যাবে। ই-মেইল জটিলতার কারণে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলো অফিস চলাকালে ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ দিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মন্তব্য করুন

বদলির পর নতুন প্রতিষ্ঠানে বেতন কার্যকর নিয়ে অনিশ্চয়তায় কারিগরি শিক্ষকরা

কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এগোলেও বদলির পর নতুন কর্মস্থলে বেতন-ভাতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ সংক্রান্ত সফটওয়্যার ব্যবস্থা চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর বেতন পেতে শিক্ষকদের জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলির পর একজন শিক্ষকের বেতন নতুন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে এ কাজে ব্যবহৃত আগের সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুন একটি সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো নতুন কর্মস্থলে শিক্ষকের বেতন কার্যকরের সফটওয়্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নতুন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক বদলি হবেন, সেখানে তাঁর বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। এটি শেষ পর্যায়ের একটি বিষয়। আগের সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। নতুন কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। চুক্তি হয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে।”

তবে সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বদলি কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, “দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ যেকোনো একটি কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়ে যাবে।”

শূন্যপদ নিয়েও জটিলতা

এদিকে শিক্ষকদের বদলির আগে প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। বদলি কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে এমপিও-টিটিএস সফটওয়্যারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তবে সফটওয়্যারে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বাস্তব পরিস্থিতির মিল না থাকায় শূন্যপদ নির্ধারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানে কতটি পদে শিক্ষক বদলি করা যাবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বদলি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একদিকে যেমন শূন্যপদের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তেমনি বদলির পর নতুন কর্মস্থলে শিক্ষকদের বেত

মন্তব্য করুন

নিয়োগের পরই এমপিও নয়, যে কারণে বেতন পেতে সময় লাগে

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করলেই সঙ্গে সঙ্গে এমপিওভুক্ত হন না শিক্ষকরা। নিয়োগের পর শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদ, পদ, বিষয় বা ট্রেডসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হয়। এরপর নির্ধারিত কমিটির অনুমোদন, মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া ও বাজেটসংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ হলে এমপিও কার্যকর করা হয়।

এ কারণে নিয়োগ ও যোগদানের পর বেতন-ভাতা পেতে শিক্ষকদের কিছুটা সময় লাগে বলে জানিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম  বলেন, কোনো শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানের দিন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর এমপিও কার্যকর হয় না। নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর এমপিও কার্যকর করা হয়।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার আগে তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা যাচাই করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদসহ নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর এমপিও কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।’

সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদন

এমপিও কার্যকরের নিয়ম তুলে ধরে মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, ‘আমাদের নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাত সদস্যের কমিটিতে অনুমোদন হওয়ার পর থেকে তাঁর এমপিও কার্যকর হবে। অর্থাৎ শুধু নিয়োগপত্র পাওয়া বা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করলেই বেতন-ভাতা পাওয়ার অধিকার কার্যকর হয় না; এমপিও অনুমোদনের নির্ধারিত ধাপও সম্পন্ন করতে হয়।’

তিনি জানান, এমপিও অনুমোদনের আগে শিক্ষকের সনদ ও যোগ্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাচাইয়ের সময় সনদে সমস্যা, এমনকি জাল সনদের মতো বিষয়ও ধরা পড়তে পারে।

একইভাবে নিয়োগের সময় কোনো শিক্ষক প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন কি না, পরবর্তী সময়ে সেই যোগ্যতা অর্জন করেছেন কি না—এসব বিষয়ও নীতিমালা অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।

মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও পরে সেই যোগ্যতা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার বিধান অনুযায়ী তা যাচাই করা হয়। এসব বিষয় পরীক্ষা না করে সরাসরি এমপিও দেওয়া সম্ভব নয়।’

পদ ও ট্রেডের সামঞ্জস্যও যাচাই

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিও কার্যকরের ক্ষেত্রে শিক্ষক কোন পদে, কোন বিষয় বা ট্রেডের বিপরীতে নিয়োগ পেয়েছেন, সেটিও যাচাই করা হয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমপিও কার্যকরের প্রক্রিয়ায় বিষয় বা ট্রেডের সামঞ্জস্যও যাচাই করতে হয়। কারণ কারিগরি শিক্ষায় ভোকেশনাল, বিএম, কৃষি এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রেড ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক কোন প্রতিষ্ঠানে, কোন পদে বা কোন ট্রেডের বিপরীতে নিয়োগ পেয়েছেন, তা যাচাই করতে হয়। সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে শিক্ষকের যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কাঠামোর সামঞ্জস্যও দেখা হয়।

কারিগরি শিক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড থাকায় এমপিও দেওয়ার সময় এসব তথ্য সমন্বয় করে যাচাই করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের সংযুক্ততা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ও পরীক্ষা করতে হয়।

মন্ত্রণালয় ও বাজেটের ধাপও রয়েছে

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকের তথ্য যাচাই-বাছাই ও কমিটির অনুমোদনের পরই এমপিও কার্যকর হয়ে যায় না। এরপর আরও কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথমে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল পাঠানো হয়। অধিদপ্তরে সেগুলো যাচাই করে নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো, অনুমোদন এবং বাজেটসংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ করতে হয়। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন এবং বেতন-ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা হয়।

মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, ‘প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল পাঠানো হয়। এরপর অধিদপ্তরে তা যাচাই করে কমিটির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় ও বাজেট-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পর শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন।’

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগের পর দ্রুত এমপিও কার্যকর করতে হলে প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানো জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি বা তথ্যের অসংগতি থাকলে যাচাই-বাছাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এমপিও কার্যকর হতেও দেরি হয়।

মন্তব্য করুন
×