ঢাকার কংক্রিটের শহরে শেকৃবিতে চন্দনা টিয়ার মেলা
সবুজে ঘেরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই দেখা মেলে শত শত টিয়া পাখির। বিশেষ করে কৃষি অনুষদের পুরোনো শহীদ মিনারের পাশের কাঠবাদাম গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে চন্দনা টিয়ার উপস্থিতি ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করেছে অনন্য এক প্রাকৃতিক আবহ।
যানজট, ধোঁয়া-ধুলো আর ইট-পাথরের কংক্রিটে ঘেরা ঢাকা শহরে সবুজের দেখা মেলা যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রাচীন গাছপালা কমে যাওয়ায় নগরজীবন হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। তবে রাজধানীর বুকেই এর ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা যায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ক্যাম্পাসে।
প্রায় ৮৭ একর আয়তনের সবুজে ঘেরা এই ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশই তৈরি করছে না, বরং নানা প্রজাতির পাখিরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসে কান পাতলেই শোনা যায় পাখির কলকাকলি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে চন্দনা টিয়ার ঝাঁক।
কৃষি অনুষদের পুরোনো শহীদ মিনারের পাশে থাকা কাঠবাদাম গাছটিতে প্রতিদিনই দেখা যায় একঝাঁক চন্দনা টিয়া। বিশেষ করে দুপুরের দিকে এক পায়ে ডাল কিংবা খাবার শক্ত করে ধরে কাঠবাদাম খাওয়ার দৃশ্যটি সহজেই পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এক পা দিয়ে খাবার ধরে খাওয়ার এই কৌশল টিয়া প্রজাতির স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যেরই অংশ।
টিয়া প্রজাতির মধ্যে আকারে বড় ও দৃষ্টিনন্দন পাখিগুলোর একটি চন্দনা টিয়া। এর ইংরেজি নাম Alexandrine Parakeet এবং বৈজ্ঞানিক নাম Psittacula eupatria। সাধারণত ৫২ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এ পাখিটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘাড়ের পেছনে থাকা গোলাপি-কালো রঙের আভা।
শুধু শহীদ মিনারের পাশের কাঠবাদাম গাছই নয়, শেকৃবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকাতেই দেখা যায় এসব পাখির বিচরণ। এগ্রোনমি ফিল্ড, হর্টিকালচার ফার্ম, পুরোনো এগ্রিবিজনেস অনুষদ ও এগ্রোফরেস্ট ফিল্ডসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়া উড়ে বেড়ায়।
নগরায়ণের চাপে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরোনো গাছপালা হারিয়ে গেলেও শেকৃবির সবুজ প্রাঙ্গণে এখনো টিকে আছে অনেক পুরোনো গাছ। এসব গাছ পাখিদের খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেও ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠেছে পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ আশ্রয়স্থল।
কংক্রিটের শহরে যেখানে মুক্ত প্রকৃতির দেখা পাওয়া কঠিন, সেখানে শেকৃবির বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ আর মুক্ত আকাশে চন্দনা টিয়ার অবাধ বিচরণ যেন হারিয়ে যাওয়া বাংলার এক টুকরো চিরচেনা ছবি। প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতার মাঝেও এই দৃশ্য ক্যাম্পাসবাসীর মনে এনে দেয় প্রকৃতির সান্নিধ্যের এক অন্যরকম অনুভূতি।