ঢাকার কংক্রিটের শহরে শেকৃবিতে চন্দনা টিয়ার মেলা

সবুজে ঘেরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই দেখা মেলে শত শত টিয়া পাখির। বিশেষ করে কৃষি অনুষদের পুরোনো শহীদ মিনারের পাশের কাঠবাদাম গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে চন্দনা টিয়ার উপস্থিতি ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করেছে অনন্য এক প্রাকৃতিক আবহ।

যানজট, ধোঁয়া-ধুলো আর ইট-পাথরের কংক্রিটে ঘেরা ঢাকা শহরে সবুজের দেখা মেলা যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। প্রাচীন গাছপালা কমে যাওয়ায় নগরজীবন হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। তবে রাজধানীর বুকেই এর ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা যায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ক্যাম্পাসে।

প্রায় ৮৭ একর আয়তনের সবুজে ঘেরা এই ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশই তৈরি করছে না, বরং নানা প্রজাতির পাখিরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসে কান পাতলেই শোনা যায় পাখির কলকাকলি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে চন্দনা টিয়ার ঝাঁক।

কৃষি অনুষদের পুরোনো শহীদ মিনারের পাশে থাকা কাঠবাদাম গাছটিতে প্রতিদিনই দেখা যায় একঝাঁক চন্দনা টিয়া। বিশেষ করে দুপুরের দিকে এক পায়ে ডাল কিংবা খাবার শক্ত করে ধরে কাঠবাদাম খাওয়ার দৃশ্যটি সহজেই পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এক পা দিয়ে খাবার ধরে খাওয়ার এই কৌশল টিয়া প্রজাতির স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যেরই অংশ।

টিয়া প্রজাতির মধ্যে আকারে বড় ও দৃষ্টিনন্দন পাখিগুলোর একটি চন্দনা টিয়া। এর ইংরেজি নাম Alexandrine Parakeet এবং বৈজ্ঞানিক নাম Psittacula eupatria। সাধারণত ৫২ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এ পাখিটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘাড়ের পেছনে থাকা গোলাপি-কালো রঙের আভা।

শুধু শহীদ মিনারের পাশের কাঠবাদাম গাছই নয়, শেকৃবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকাতেই দেখা যায় এসব পাখির বিচরণ। এগ্রোনমি ফিল্ড, হর্টিকালচার ফার্ম, পুরোনো এগ্রিবিজনেস অনুষদ ও এগ্রোফরেস্ট ফিল্ডসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়া উড়ে বেড়ায়।

নগরায়ণের চাপে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরোনো গাছপালা হারিয়ে গেলেও শেকৃবির সবুজ প্রাঙ্গণে এখনো টিকে আছে অনেক পুরোনো গাছ। এসব গাছ পাখিদের খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেও ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠেছে পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ আশ্রয়স্থল।

কংক্রিটের শহরে যেখানে মুক্ত প্রকৃতির দেখা পাওয়া কঠিন, সেখানে শেকৃবির বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ আর মুক্ত আকাশে চন্দনা টিয়ার অবাধ বিচরণ যেন হারিয়ে যাওয়া বাংলার এক টুকরো চিরচেনা ছবি। প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতার মাঝেও এই দৃশ্য ক্যাম্পাসবাসীর মনে এনে দেয় প্রকৃতির সান্নিধ্যের এক অন্যরকম অনুভূতি।

মন্তব্য করুন

জাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়নে জাকসুর ওয়েবসাইট, এখনই ব্যবহার করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। তবে ওয়েবসাইটটি আপাতত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করবে জাকসু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও এটি এখনো কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব—আমরা সেটিই দেখিয়ে দিতে চাই। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

জাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট কোর্স না করা শিক্ষক কিংবা বিভাগের বাইরের কোনো শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।

ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

প্রশাসনের দায়িত্ব, বললেন উপাচার্য

জাকসুর উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তবে জাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কীভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।’

ঢাবিতেও চালু হয়েছে শিক্ষক মূল্যায়ন

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে duevaluation.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ওয়েব অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য করুন

কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ছুটি শেষে কাজে না ফেরায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক স্থায়ী বহিষ্কার

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন—মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। পরে সভায় তাঁদের স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। শিগগিরই সেগুলোর লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশ হবে।’

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

জাবি মেডিকেল সেন্টারের নামফলক থেকে জাকসু জিএসের নাম প্রত্যাহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী নামফলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নাম রাখা হয়েছিল। তবে এটিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় উল্লেখ করে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রধান অতিথি বা উদ্বোধনকারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনার নামফলকেও দীর্ঘদিন ধরে এ রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

তবে ‘জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬’-এর উদ্বোধনী নামফলকে উপাচার্যের নামের পাশাপাশি জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নামও উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় পরে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাবে না—এমন কোনো নীতিমালা তিনি দেখেননি। তাঁর দাবি, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জাকসুর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জরুরি কক্ষ, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ল্যাবসহ মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন সুবিধা আধুনিকায়নের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা ভূমিকা রেখেছেন, নামফলকে তাদের স্বীকৃতি থাকায় এতে দোষের কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নামফলকে জাকসুর জিএসের নাম রাখা এবং পরে তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুর অবস্থানের মধ্যে ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

গোবিপ্রবিতে ছাত্র গণমঞ্চ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শাখা ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সহ-সভাপতি আনোয়ার জড়িত বলে দাবি করেছে ছাত্র গণমঞ্চ। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিকুল ইসলাম শফিক।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্র গণমঞ্চ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র, আহত সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র গণমঞ্চের দাবি, সোমবার শহীদ তিতুমীর হলে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে শাওন তাদের থামাতে এগিয়ে যান। একই সঙ্গে হলের আসবাবপত্র বা অন্য কোনো জিনিস যাতে ভাঙচুর না হয়, সে বিষয়েও তিনি বাধা দেন। তখন রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করে শফিকুল ইসলাম শফিক ও আনোয়ারের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, হামলায় শাওন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার ডান হাতের কবজিতে ফাটল শনাক্ত করেন।

সমাবেশে ছাত্র গণমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র বলেন, ‘এই প্রশাসন হলো জমিদার, হামলাকারীরা জমিদারের পেয়াদার পেয়াদা আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলো প্রজা। এই হামলাকারীদের কারওই ছাত্রত্ব নেই। তারা সবসময় সরকারি দল ও প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালায়। প্রত্যেকটি মারামারির ঘটনায় তাদের সামনের সারিতে পাওয়া যায়, অথচ তাদের বিচার কখনোই হয় না। এবার প্রশাসন তাদের বিচার না করলে আমরা প্রশাসনের বিচার করব।’

আহত নাফিস আহমাদ শাওন বলেন, ‘আমি বলছি না, আমি তদন্ত চাই; আমি বলছি, তদন্ত করতে হবে এবং সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যকর করতে হবে। আমরা আর প্রশাসনকে সন্ত্রাস পুষে বড় করতে দেব না।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি বলেন, ‘কাউকে গিয়ে মারা হয়নি এবং শাওনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের দেখাও হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে শাওন ছিল কি না, তাও জানি না। এই ধরনের অভিযোগ কেন এবং কী কারণে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি আমি বলতে পারি না।’

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বরং আমি নিজেই হাসপাতালে শাওনকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং তার হাতে আঘাত লেগে ফাটল ধরেছে, তা প্রত্যক্ষ করেছি। শাওনের ওপর আমি হামলা করিনি। আর তার ওপর কে হামলা করেছে, তাও জানি না।’

সমাবেশ শেষে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার জানান, হামলার ঘটনায় বিচার দাবিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

মন্তব্য করুন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেকৃবির রজতজয়ন্তী উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রজতজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর উড়িয়ে রজতজয়ন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।

কৃষি অনুষদের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি, আবাসিক হল ও বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা কৃষক-কৃষাণী, জেলে-জেলেনী ও পশু চিকিৎসকের সাজে অংশ নেন। নাচ-গানের মাধ্যমে তারা বাংলার কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়।

দিনের পরবর্তী আয়োজনে সকাল ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছরের অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা এবং শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ঐতিহ্য ও অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা শেকৃবির শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
×