শাবিপ্রবিতে ফের শোক, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদমানের বাড়ি রাজবাড়ীর মধ্য ভবানীপুর এলাকায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে মোটরসাইকেলে করে মদিনা মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন সাদমান। পথে একটি স্পিডব্রেকারের কাছে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লাগে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা সাদমানের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, স্পিডব্রেকারের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, সাদমানের মৃত্যুতে শাবিপ্রবি পরিবার শোকাহত। তার অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে রওনা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

মর্গের এক্সহস্ট ফ্যানের দূষিত বাতাস ঢুকছে একাডেমিক ভবনে, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

মর্গের দুর্গন্ধে শেকৃবিতে ক্লাসে বমি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ। তীব্র পচা গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা। এমনকি দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের বমি করা ও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান দিয়ে বের হওয়া দূষিত বাতাস সরাসরি রাস্তার অপর পাশে থাকা শেকৃবির একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মাহবুবুজ্জামান ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা করা তিনটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক আনসার সদস্য মাস্ক পরে ডিউটি করছেন। তিনি বলেন, ‘পচা গন্ধে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে ডিউটি করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পচা গন্ধে ক্লাসে টেকা যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে ক্লাসের মধ্যেই বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের শামিল।’

অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষকও

দুর্গন্ধের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মকর্তারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘মর্গের তীব্র গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের ক্লাসরুমে অবস্থান করা যাচ্ছে না। আমি নিজেও এই গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি কার্যকর সমাধান করা দরকার।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

বিষয়টি নিয়ে শেকৃবি রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম জানান, সমস্যা সমাধানে তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

‘মর্গ নির্মাণে শুরুতেই স্থাপত্যগত ভুল ছিল’

মর্গের অবকাঠামোগত ও নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডা. সোলায়মান কবীর।

তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যগত দিক থেকে শুরুতেই বড় ভুল ছিল। মর্গ কখনোই একদম রাস্তার ওপর হতে পারে না। তাছাড়া অবকাঠামোতেও কিছু ত্রুটি আছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত বাতাস পরিশোধনে বিশেষ কেমিক্যাল আনা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসবে।’

আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কমানোর পরিবর্তে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

মর্গের বাতাস নির্গমনের ব্যবস্থা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে শেকৃবি ক্যাম্পাসে দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

সময় শেষ হওয়ার আগেই মেডিকেল সেন্টার বন্ধ, ববি চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ রাখার অভিযোগে দপ্তরপ্রধান ডা. শাম্মী আক্তার নিপাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল সেন্টার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টার খোলা রাখা হয়।

কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্যের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. শাম্মী আক্তার নিপা বলেন, এর আগেও মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়েছে। তিনি শুধু অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টার কত ঘণ্টা খোলা থাকবে, এ বিষয়ে কোনো অফিস আদেশ ছিল না। এ ছাড়া সেন্টারে জনবল সংকটও রয়েছে।’

কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যেহেতু আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর জবাব দেব।’

মন্তব্য করুন

বালতি সরানো নিয়ে বিরোধ, যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান।

কী ঘটেছিল

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার দুপুরে গোসল করতে ওয়াশরুমে গিয়ে একটি বালতি দেখতে পান তিনি। বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক ওয়াশরুমের দরজায় বারবার টোকা দেন। পরে বের হলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

জুয়েলের অভিযোগ, এরপর তানভীর তাঁর রুমে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে তাঁকে ক্যাম্পাসের একটি চায়ের দোকানে ডাকা হয়। সেখানে তানভীর, কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েলের দাবি, সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দেন। এতে তিনি টেবিল থেকে পড়ে যান। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। পরে বন্ধুরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।

কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত

যবিপ্রবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কানে রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে তিনি সুপারিশ করেছেন।

পরীক্ষা সম্পন্ন হলে কানের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। দরজায় নক করে বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় দুজনের বন্ধুরা মিলে বসেন। তাঁর দাবি, কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন।

তানভীর বলেন, বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় পরে জুয়েলকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁর কানে গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শনিবার সকালে জানতে পারেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তানভীর জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারেন। পরে তাঁরা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, সকালে চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, হলের বাইরে আমতলায় বিষয়টি সমাধানের সময় তানভীর জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেন। এতে তাঁর শ্রবণ সমস্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

ঢাকা কলেজের হলে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে বহিরাগত আটক

ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মোদ্দাদেকুর রহমান নামে এক বহিরাগতকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আটকের পর শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে কলেজ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

ঢাকা কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোদ্দাদেকুর রহমান সিটি কলেজ থেকে বিবিএ এবং বিইউপি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোসলের ভিডিও ধারণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটকের পর ওই শিক্ষার্থী মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যার কথা দাবি করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ উত্তর ছাত্রাবাসের প্রভোস্ট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘বহিরাগত একজনকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করে। পরে তারা কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। এরপর কলেজ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাঁর অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করে।’

তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

প্রভোস্ট জানান, ওই ব্যক্তির অভিভাবক তাঁর মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে নাকি অভিভাবকের কাছে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন
×