দুই মাস না যেতেই চুয়েটের উপাচার্য বদল, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

 

নিয়োগের দুই মাস না পেরোতেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখার দাবি জানান।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর প্রকাশের পরপরই বিক্ষোভে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখার দাবি জানান।

দুই মাসেই পরিবর্তন

এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

তবে নিয়োগের প্রায় দুই মাসের মাথায় তাঁর স্থলে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

অধ্যাপক সায়েম সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময়ই তিনি নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। অন্যদিকে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাঁকে কুয়েটের উপ-উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্পাসে’

চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমার মিশন-ভিশন এটাই। আমি জানি না কেন বাদ দিল।’

তিনি জানান, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ নিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও যান তিনি। ঢাকায় অবস্থান করেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন।

অধ্যাপক সায়েম বলেন, ‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্

মন্তব্য করুন

অপ্রতিম হত্যায় উত্তাল কুবি, বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হারিয়ে শোক ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর রোববার জানাজা ও দাফন শেষে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রত্যাহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও স্থানীয়রা অংশ নেন। জানাজার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম অপ্রতিম হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘অপ্রতিমের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, ক্লু পেয়েছি; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, সেটা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় যতক্ষণ না তারা নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ কেবল অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। কুমিল্লায় এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে পরিবার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালান। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের কাছের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

দাফন সম্পন্ন, পরিবারের আহাজারি

প্রথম জানাজার পর গন্ধমতি ঈদগাহে অপ্রতিমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাসার পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের আগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা কোনো অপরাধ করেনি। তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।’

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘ও-ই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। আজ ঘরে ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই। আমরা কীভাবে এই শূন্যতা মেনে নেব, জানি না।’

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুবি ক্যাম্পাসে শোকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

জবির নতুন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইউট্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী দুই বছর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

মন্তব্য করুন

শেষ দিনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’, জাকসু ভবনে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

 

দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ভবন। উদ্যোক্তা মেলা, মেহেদি উৎসব ও ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দশম জাকসুর এক বছর মেয়াদি দায়িত্বের শেষ দিন উদযাপন করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাকসু ভবনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’ শীর্ষক এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, দায়িত্বের শেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতেই এ আয়োজন।

উদ্যোক্তা মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেহেদি উৎসব এবং জাকসুর প্রতি নিজেদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা জানাতে ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখার আয়োজন রাখা হয়।

‘জাকসুর মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি পৌঁছানো সহজ হয়েছে’

আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তনিমা পাটোয়ারী বলেন, গত এক বছরে জাকসু রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও প্রশ্নের মধ্যেও প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে তারা ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাকসুর সদস্য ও সম্পাদকদের সহজে কাছে পেয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পেরেছেন। জাকসু না থাকলে প্রশাসনের কাছে এভাবে পৌঁছানো অনেক কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তনিমা আরও বলেন, দশম জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একাদশ জাকসু নির্বাচনও দ্রুত আয়োজন করা উচিত।

‘ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে’

জাকসুর কার্যকরী নারী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু ভবনের তালা খোলে। এরপর এক বছর ধরে ভিপি-জিএসসহ প্রত্যেক সম্পাদক নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন।

বিভিন্ন বাধা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে বাজেট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কাজ করা সম্ভব হয়নি।

শেষ দিনের আয়োজন সম্পর্কে নাবিলা বলেন, ‘শেষ বিকেলের উৎসব’-এ নারী প্রতিনিধিরা একসঙ্গে হয়েছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেও আয়োজনটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কোনো আশ্বাস এখনো পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

জাকসুর দায়িত্বশীলরা জানান, শেষ দিনের এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি এক বছরের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন
×