দেশের কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, হাইকোর্টে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে ৩০৩ জন শিশু রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে এসব শিশুর নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়। পাশাপাশি তাদের খেলনা, পোশাক ও শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়।
শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় তাদের পছন্দের নিকটাত্মীয়দের হেফাজতে অথবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
এর আগে গত ১৫ জুন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও বয়সের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে কারা কর্তৃপক্ষ এখনো সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ ও রুল জারি করেন।
রুলে কারাগারে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, সঠিক বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর এ রিটের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, কারা অধিদপ্তরের ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ছিল ২৯৯টি শিশু। এর মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুর মায়েদের বড় একটি অংশ মাদক মামলার আসামি। তাঁদের মধ্যে কেউ সাজাপ্রাপ্ত, আবার কারও মামলা বিচারাধীন। সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১০০ শিশু। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০ জন, রাজশাহী বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫ জন, রংপুর বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কারাগারে ২০ জন, সিলেট বিভাগের পাঁচটি কারাগারে ১৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি কারাগারে ১৩ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের ছয়টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে চার শিশু।