দেশের কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, হাইকোর্টে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে ৩০৩ জন শিশু রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে এসব শিশুর নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়। পাশাপাশি তাদের খেলনা, পোশাক ও শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়।

শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় তাদের পছন্দের নিকটাত্মীয়দের হেফাজতে অথবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

এর আগে গত ১৫ জুন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও বয়সের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে কারা কর্তৃপক্ষ এখনো সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ ও রুল জারি করেন।

রুলে কারাগারে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, সঠিক বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর এ রিটের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, কারা অধিদপ্তরের ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ছিল ২৯৯টি শিশু। এর মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুর মায়েদের বড় একটি অংশ মাদক মামলার আসামি। তাঁদের মধ্যে কেউ সাজাপ্রাপ্ত, আবার কারও মামলা বিচারাধীন। সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১০০ শিশু। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০ জন, রাজশাহী বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫ জন, রংপুর বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কারাগারে ২০ জন, সিলেট বিভাগের পাঁচটি কারাগারে ১৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি কারাগারে ১৩ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের ছয়টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে চার শিশু।

মন্তব্য করুন

সাতকানিয়ায় দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ; প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল

বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী ঈশা দাশ (১২) মারা গেছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর রয়েল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।

নিহতের জেঠা ও ঠাকুরদিঘী পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে রয়েল হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় মহাসড়ক পার হচ্ছিল ঈশা। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম নগরীর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে প্রায় চার ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। তারা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা।

বিক্ষুব্ধরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপন করতে হবে। তাদের অবরোধে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা।

সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে জানা যায়, ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গতিরোধক স্থাপনের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিল সরকার

 

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষকদের মর্যাদা বাস্তবে নিশ্চিতের আহ্বান

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার—শিক্ষকদের মর্যাদা যেন শুধু ফুলের তোড়াতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এর বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে শিক্ষকদের যথাযথ বেতন-ভাতা, পূর্ণ নিরাপত্তা এবং মানসম্মত কর্মপরিবেশের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান এআই ও প্রযুক্তির যুগে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষকদের মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

‘আমরাই হব আগামী দিনের শিক্ষক’

শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীরাই, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী, শিক্ষকতা পেশায় আসতেন। আজ আমরা সেই স্লোগান থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছি।’

‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী তরুণরা গর্ব করে বলবে—“আমরাই হব আগামী দিনের শিক্ষক”’, যোগ করেন তিনি।

১২ থেকে ১০২ জন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে এই দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হতো। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০২ জনে উন্নীত করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং বিকেলে কেবিনেট মিটিং—এমন অত্যন্ত ব্যস্ত সূচির মাঝেও স্বল্প সময় বের করে তিনি প্রতিটি শিক্ষককে নিজ হাতে মেডেল পরিয়ে, টাকার চেক ও সনদপত্র দিয়ে সম্মানিত করার এই সুন্দর আয়োজন করেছেন।’

সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০২ শিক্ষকের তালিকা: ‘গুণী শিক্ষকগণের তালিকা.pdf’

মন্তব্য করুন

শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে নির্ধারিত আসনে বসেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমানসহ বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ এ আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ‘শৈশব’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।

মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত আধুনিক সোলার প্যানেল ও সাবস্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

লাওসে বাংলাদেশিদের শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

লাওসে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার প্রলোভনে পড়ে কাউকে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুমোদন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

একই নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমিক শ্রেণির ভিসা ইস্যুও বন্ধ রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ইস্যু স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।দেশি পোশাক বাছুন

এই পরিস্থিতিতে লাওসে কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ভুয়া ভিসা, কাল্পনিক চাকরির প্রস্তাব এবং অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার বিষয়ে অর্থ প্রদান কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত। অনুমোদিত নয়—এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাওসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেশটির সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।

মন্তব্য করুন
×