ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

 

ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখনও শেষ হয়নি একটি ছোট্ট প্রাণের লড়াই। নেপালের রসুয়া জেলায় বন্যার তিন দিন পর মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা শিশুটিকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে।

রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি বেড়ে সেখানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরে গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে মাটি ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু স্থাপনা। এরপর থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খনন শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির সন্ধান মেলে। পরে তাকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে এপিএফের তিমুরে সীমান্ত চৌকিতে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃষ্টিসীমার কারণে উড্ডয়নে দেরি হয়। ফলে শিশুটিকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। উদ্ধারকারীরা শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন।

পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা

তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে উদ্ধারকর্মীদের সাহস ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন লিখেছেন, ‘যে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দলটি উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’

এদিকে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে স্বজনদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবার বা স্বজনদের সন্ধান করছে। কেউ মানিশা মাগার বা তার পরিবারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার জানিয়েছেন, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে গবেষণা ও মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বন্যার ভয়াবহতায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নেপালে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিন মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ছয় বছরের মানিশা মাগারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পরও শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে উদ্ধারকর্মীদের মধ্যেও। এখন তার দ্রুত সুস্থতা এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় সবাই।

মন্তব্য করুন

পাঠ্যবই ছাপায় ফের সিন্ডিকেটের অভিযোগ, একাই ৮ লটে আনন্দ প্রিন্টার্স

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার দরপত্রে ফের ছাপাখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একাধিক লটে একক দরপত্র জমা পড়ায় এ অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যে অষ্টম ও নবম শ্রেণির আটটি লটে একমাত্র দরদাতা হিসেবে অংশ নিয়েছে আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই ছাপার আটটি লটে দরপত্র জমা দিয়েছে আনন্দ প্রিন্টার্স। এসব লটে অন্য কোনো ছাপাখানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। ফলে একক দরদাতা হিসেবে সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাব করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনসিটিবির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের প্রতি ফর্মা (৮ পৃষ্ঠা) ছাপার প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী প্রাক্কলিত দরের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি বা ১০ শতাংশ কম দর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আনন্দ প্রিন্টার্স যে আটটি লটে একক দরপত্র জমা দিয়েছে, সেগুলোতে ১৫ লাখের বেশি বই রয়েছে। এসব বই ছাপাতে কয়েক কোটি ফর্মা প্রয়োজন হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়া হলে শুধু এই আট লটের বই ছাপাতেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।’

তার অভিযোগ, ছাপাখানাগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিভিন্ন লট ভাগাভাগি করে নেওয়ায় কোনো কোনো লটে অন্য প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি। ফলে একক দরদাতা হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠান বেশি দর দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

মূল্যায়নে বাদ পড়ছে আট লট

এনসিটিবি সূত্র জানায়, একক দরপত্রের পাশাপাশি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর দেওয়ায় আনন্দ প্রিন্টার্সের আটটি লটের দরপত্র মূল্যায়নে বাদ পড়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব লটে কাজ দিলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে—এমন বিবেচনায় মূল্যায়ন কমিটি লটগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে।

লটগুলো বাতিল হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. রাব্বানী জব্বারের সঙ্গে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতার প্রতিষ্ঠান আনন্দ প্রিন্টার্স

রাব্বানী জব্বার সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। ২০২১ সালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাব্বানী জব্বার পাঠ্যবই ছাপার কাজের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে বর্তমান দরপত্রে আনন্দ প্রিন্টার্সের অংশগ্রহণ ও একক দরদাতা হওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘সিন্ডিকেট করে কাউকে লাভবান হতে দেওয়া হবে না’

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের টেন্ডার ওপেন করার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করেছেন। এটি এখন সরকারি ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি কোনো লটের রি-টেন্ডার বা পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন পড়ে, সেটা করা হবে। কাউকে সিন্ডিকেট করে লাভবান হতে দেওয়া হবে না।’

৩০ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপানো হবে

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির জন্য তিন কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবম শ্রেণির জন্য পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই রয়েছে।

এসব পাঠ্যবই ছাপাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা। বিপুল পরিমাণ এ সরকারি কাজের দরপত্রে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ব্যয় ঠেকানো নিয়ে এখন নজর রয়েছে এনসিটিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

মন্তব্য করুন

নকলের শাস্তিতে কুমিল্লার দুই কলেজ শীর্ষে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লার দুটি কলেজ। কলেজ দুটি হলো—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির ১০ জন করে মোট ২০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় পড়েছেন।

কুমিল্লার এই দুই কলেজের পরেই রয়েছে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ। এ কলেজের ৯ পরীক্ষার্থী নকলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে মোট ২৮৮ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কয়েকজনকে পরবর্তী এক থেকে চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

যেভাবে নির্ধারণ করা হয় শাস্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। এরপর অপরাধের ধরন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়।

অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়।

২১৬ জনের শুধু পরীক্ষা বাতিল

পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তি পাওয়া ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৪ জনকে পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনকে পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, নকল ও অন্যান্য অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

‘শিক্ষার্থীদের শুধু ধর্মীয় জ্ঞানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না’ — মাদ্রাসা বোর্ড চেয়ারম্যান

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা নূরুল হক বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা আর অবহেলিত থাকবে না। আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) মানিকগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজিত বর্ণাঢ্য রিইউনিয়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রযুক্তি, দক্ষতা, মানবিকতা এবং নেতৃত্বগুণের বিকাশ ঘটিয়ে তাদের আধুনিক শিক্ষার মূলধারায় এগিয়ে নিতে হবে। সরকারও মাদ্রাসা শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

রিইউনিয়ন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সরকার মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মো. ওবায়দুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্মতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু সায়েম এবং ইবনে সিনা হাসপাতালের ডিজিএম মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে নূর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা সামসুদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মান্নান।

রিইউনিয়নকে ঘিরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ ও সম্মাননা প্রদান।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বললেন

‘জিয়াউর রহমানের ওপর বিশ্বজুড়ে গবেষণা হয়’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যার ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলছে। কারণ, তিনি স্বাধীনতার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের যে মৌলিক ভিত্তি প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সম্প্রতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন দেশের প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও রাজনীতির মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ‘উৎপাদনের রাজনীতি’ চালু করেন এবং মানুষকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেন। এর মাধ্যমে জাতিকে আত্মপরিচয়ের শক্তিতে দৃঢ় করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান। তিনি এই দেশে সকলের জন্য কথা বলা ও রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন, যার সুফল আমরা আজও পাচ্ছি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. ফকির রফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ শিশিম, গাজীপুর জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. ইয়াকুব মিয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সরকার।

মন্তব্য করুন

জকসু নির্বাচন সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ বছর ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত শীতকালীন ছুটি জানুয়ারি মাসে স্থানান্তর করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম জানান, যেসব বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হবে, তাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন ও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামী ১৩ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

উপাচার্য বলেন, “আগামী ২২ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানদের মতামতের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতেই জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী—

  • ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি: ৯ ও ১১ নভেম্বর

  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ: ১২ নভেম্বর

  • মনোনয়নপত্র বিতরণ: ১৩–১৭ নভেম্বর

  • মনোনয়ন দাখিল: ১৭–১৮ নভেম্বর

  • মনোনয়ন বাছাই: ১৯–২০ নভেম্বর

  • প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর

  • আপত্তি নিষ্পত্তি: ২৪–২৬ নভেম্বর

  • ডোপ টেস্ট: ২৭ ও ৩০ নভেম্বর

  • চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: ৩ ডিসেম্বর

  • মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর

  • প্রচারণা চলবে: ৯–১৯ ডিসেম্বর

  • ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা: ২২ ডিসেম্বর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং জকসু নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

মন্তব্য করুন

স্কুল-কলেজ নির্মাণে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের তদন্ত শুরু

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) আওতাধীন স্কুল ও কলেজের একতলা ভবন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত ৯ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক ভবনের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। অথচ বরাদ্দ অর্থের ৯০ শতাংশই ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছে, আর কাজের মানও খুব নিম্নমানের।

অনেক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 이에 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৩ অক্টোবর ইইডির প্রধান প্রকৌশলীকে পাঁচ প্রকৌশলী ও ১১ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর ইইডি আদেশ জারি করে। ১৭ নভেম্বর ওই পাঁচ প্রকৌশলী ও ১১ ঠিকাদার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশিত হয়েছেন।

অনিয়মের অভিযোগে থাকা প্রকৌশলীদের মধ্যে রয়েছেন:

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ মো. আসাদুজ্জামান

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পিআরএল) মীর মুয়াজ্জেম হোসেন

  • নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. জরজিসুর রহমান

  • ঢাকা মেট্রোর উপসহকারী প্রকৌশলী এ কে এম মনিরুজ্জামান

  • উপসহকারী প্রকৌশলী জামিল হোসেন

একাধিক সূত্রের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা ও ওএসডি প্রকৌশলী রায়হান বাদশার সঙ্গে আসাদুজ্জামান ও জরজিসুরের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে তাদের স্বপদে থাকা অবস্থায় তদন্ত কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী সাংবাদিককে জানান, “মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি কাজ করছে।”

নাটোর জেলার একাধিক স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিলমারিয়া দাখিল মাদরাসার কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২১ সালের ২২ জুন। ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজের মাত্র ৩০ শতাংশ বাকি থাকলেও ঠিকাদারকে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছে না।

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে ‘লাইসেন্স বাণিজ্য’ চলছে। দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ দেশে একাধিক জেলায় একচেটিয়া কাজ পাচ্ছে এবং লাইসেন্স ভাড়া বাবদ অর্থ রাজনৈতিক ফান্ডে যাচ্ছে। এর সঙ্গে প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান যুক্ত।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ প্রকৌশলী জরজিসুর রহমানকে অভিজ্ঞতা, বিভাগ বা মেধাক্রম ছাড়াই যান্ত্রিক নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

নাটোরের কয়েকটি স্কুল ও কলেজের নির্মাণে অসংখ্য কোটি টাকা বিল পরিশোধ হলেও কাজ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী মিলিত হয়ে বিল ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন।

তদন্ত কমিটি সোমবার সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে।

মন্তব্য করুন
×