নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে ইলিশের দাম বাড়ল, কেজিতে বেড়েছে ৩০০-৪০০ টাকা

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে বেড়েছে ইলিশের দাম। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বাড়ায় মাছঘাটে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে। ছোট আকারের ইলিশের দাম পড়ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে একই আকারের ইলিশের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম

ব্যবসায়ী নবীর হোসেন বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও।

তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ুক, এটা আমাদেরও কাম্য নয়। মূলত ইলিশের দাম কম থাকলে ক্রেতা বেশি আসে এবং বিক্রিও ভালো হয়। আগামী দুই দিনে যদি ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়ে, তাহলে দামও কমতে পারে।’

কুমিল্লা থেকে মাছ কিনতে আসা আসমা বেগম বলেন, ১০-১২ দিন আগেও চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট থেকে ইলিশ কিনেছেন তিনি। তখন যে দামে মাছ কিনেছিলেন, এখন একই ধরনের ইলিশের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।

তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ইলিশের দাম আরও কমবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো, দাম আরও বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মনে হয় না আর ইলিশ কিনতে পারব।’

২২ দিন বন্ধ থাকবে ইলিশ ধরা ও বিক্রি

আগামী ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটেও ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, বর্তমানে মৌসুমের শেষ পর্যায়ের ইলিশ বেচাকেনা চলছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরা শুরু হলে আবার ঘাটে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হবে।

নিষেধাজ্ঞার আগে বাকি দুই দিনে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরবরাহ বাড়ুক এবং ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসুক।’

মন্তব্য করুন

পিংক বাসে যাত্রী বাড়লেও দৈনিক ৫০-৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চলতি বছরের আগস্টে চালু করা হয় বিশেষায়িত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। শুরুর দিকে যাত্রীসংখ্যা কম থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল এবং অফিস সময়ের বাইরে যাত্রী কম থাকায় দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো অলস পড়ে থাকছে। ফলে যাত্রী বাড়লেও এই সেবায় প্রতিদিন বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়। প্রথম দিকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা হলেও সেপ্টেম্বরের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০-তে পৌঁছেছে।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হলেও এ সেবায় সরকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি পিংক বাস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস, বগুড়ার দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং চট্টগ্রামের একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলাচল করছে।

সার্ভিস চালুর পর ১৯ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ দিন বাসগুলো চলেছে। এ সময়ে মোট ২৭২টি ট্রিপ পরিচালনা করা হয়। এসব ট্রিপে প্রায় ২১ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে যাত্রী ছিলেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন।

এই ২০ দিনে পিংক বাস থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিপরীতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

অফিস সময়ের বাইরে কম যাত্রী

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাসগুলো দিনের প্রথম ট্রিপে ছাড়ে। ঢাকায় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বাস চলাচল করে। বগুড়া ও চট্টগ্রামে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টার দিকে বাস চলাচল করে।

ফলে দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো ডিপোতে অবস্থান করছে। যাত্রী না থাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাসগুলোর ব্যবহারও কম হচ্ছে।

স্টপেজ ও সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ

পিংক বাস চালুর সময় বিআরটিসি জানিয়েছিল, ঢাকার ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি নির্ধারিত স্পটে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা থাকবে।

তবে অনেক যাত্রীর অভিযোগ, অপেক্ষমাণ যাত্রী না থাকলে নির্ধারিত স্টপেজেও বাস থামছে না। ফলে রুটের অন্যান্য স্থান থেকে নারীরা ইচ্ছা থাকলেও বাসটিতে উঠতে পারছেন না।

এ ছাড়া বাস ছাড়ার সময় ও নির্দিষ্ট স্টপেজে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় অনেক নারী পিংক বাস ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিশেষায়িত বাস নিয়ে ভিন্নমত

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী পিংক বাস সার্ভিসকে অদূরদর্শী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও জরিপ ছাড়াই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এটি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানও নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসকে স্থায়ী সমাধান মনে করেন না। তাঁর মতে, শুধু বাসের রং ও নাম পরিবর্তন করে নারীবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং সব গণপরিবহনকেই নারী ও শিশুবান্ধব করতে হবে।

তবে বিআরটিসির ডিজিএম (অপারেশন) শুকদেব ঢালী বলেন, বর্তমানে লাভ-ক্ষতির হিসাবের চেয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাত্র এক মাসে যাত্রীসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।

নারী চালকের সংখ্যা বেড়েছে

পিংক বাস পরিচালনায় প্রশিক্ষণ শেষে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০ জন নারী চালক গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে নারী চালকের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিআরটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপে নারী চালকদের প্রশিক্ষণ চলতি মাসেই শুরু হবে। ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্যও তাঁদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আসছে আরও ১০০ আধুনিক বাস

পিংক বাস সার্ভিসকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহরে আরও ১০০টি আধুনিক বাস যুক্ত করা হবে।

নতুন বাসগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হবে। এতে ওয়াই-ফাই, সিসি ক্যামেরা, এসি ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন বাস যুক্ত হলে সেবার মান ও যাত্রীসংখ্যা দুটিই বাড়বে।

তবে বর্তমানে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও প্রতিদিনের বড় অঙ্কের ভর্তুকি এবং দিনের একটি বড় সময় বাস অলস পড়ে থাকার কারণে পিংক বাস সার্ভিসকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

রাবিনা ট্যান্ডনের খোঁচা: “আজকাল কলেজের মেয়েরা তো প্রতি সপ্তাহেই নতুন প্রেমে!

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাবিনা ট্যান্ডন। নব্বইয়ের দশকে তাদের রোমান্স ছিল ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার কেন্দ্রে। ‘মোহরা’ ছবির সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা পরে বাগদান পর্যন্ত গড়ায়। তবে কিছু বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাবিনাকে আবারও সেই পুরনো সম্পর্ক ও বাগদান ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিনেত্রী হেসে বলেন, “আমি তো সেসব ভুলেই গেছি।” তিনি আরও বলেন, “কিছু অনস্ক্রিন জুটি মানুষ ভুলতে পারে না। ‘মোহরা’-র সময় আমরা হিট জুটি ছিলাম, এখনও কোথাও দেখা হলে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা হয়। সবাই নিজের জীবনে এগিয়ে যায়।”

রাবিনা হালকা রসিকতার ছলে আরও বলেন, “আজকাল মেয়েরা কলেজে প্রতি সপ্তাহেই বয়ফ্রেন্ড বদলায়। আর আমার একটাই বাগদান ভাঙা— সেটাই এখনও লোকের মাথায় ঘুরছে! কেন জানি না। সবাই তো জীবনে এগিয়ে যায়, কেউ বিচ্ছেদ করে, কেউ নতুনভাবে শুরু করে— এতে এত ভাবনার কী আছে?”

বর্তমানে রাবিনা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী অনিল থাডানির সঙ্গে; তাদের ২১ বছরের সংসার। দম্পতির মেয়ে রাশা থাডানি এ বছরই বলিউডে পা রেখেছেন। অন্যদিকে, অক্ষয় কুমারও ২০০১ সালে অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নাকে বিয়ে করে সংসারী হন।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার অক্ষয় ও রাবিনাকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে বড় পর্দায়— আসছে তাদের নতুন ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’।

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুল পর্যায়ের। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী—১৯০ জন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন (২২ দশমিক ৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১ শতাংশ) এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।

অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।

তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা সরকারি জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনে রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

ধাতু-জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOF) উদ্ভাবনের জন্য চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি।

বুধবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির মতে, তিন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের আণবিক কাঠামোর ভেতর দিয়ে গ্যাস ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ উপাদানের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।

যে কারণে নোবেল

ধাতু-জৈব কাঠামো এমন এক ধরনের ছিদ্রযুক্ত উপাদান, যার ভেতরে অণু বা গ্যাস আটকে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করার সুযোগ রয়েছে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মতো কাজে এর ব্যবহার সম্ভব।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে বলেন, ধাতু-জৈব কাঠামো ‘অসীম সম্ভাবনার’ দ্বার খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের পছন্দমতো উপাদান নকশা করতে পারছেন।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি পানিতে থাকা ক্ষতিকর পিএফএএস আলাদা করা, পরিবেশে জমে থাকা ওষুধের অবশেষ ভেঙে ফেলা এবং শুষ্ক অঞ্চলের বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিন নোবেলজয়ী

জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়ার জন্ম ১৯৫১ সালে কিয়োটো শহরে। ১৯৭৯ সালে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রিচার্ড রবসনের জন্ম ১৯৩৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসবার্নে। ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

অন্যদিকে ওমর এম. ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পুরস্কার হিসেবে যা পাবেন

এ বছর নোবেলজয়ীরা পাবেন একটি নোবেল মেডেল, একটি সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোনো বিভাগে একাধিক ব্যক্তি পুরস্কার পেলে অর্থের পরিমাণ সাধারণত তাঁদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয়। চলতি বছরের ঘোষণার সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞান, ৭ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৮ অক্টোবর রসায়ন, ৯ অক্টোবর সাহিত্য এবং ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা।

মন্তব্য করুন

রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মারধরের শিকার এবং তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী সাংবাদিক আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন আতিকুর। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। তখন তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার বিভাগ ও ভিডিও করার কারণ জানতে চান। পরে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। তাদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

তবে এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আতিকুর। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্যান্য ভিডিওও মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আতিকুর বলেন, ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনের সময় হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ কারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের জন্য পূবালী ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা চালু করতে পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শেকৃবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম এবং পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, শেকৃবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা কম খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবে পূবালী ব্যাংক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল বাশার।

বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমন সহযোগিতা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা সহজ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। এই সমঝোতার মাধ্যমে শেকৃবিয়ানরা ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ সুবিধা পাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেকৃবির পারস্পরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ফলে শেকৃবিয়ানরা সাশ্রয়ী ও বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ও পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
×