নিয়োগের পরই এমপিও নয়, যে কারণে বেতন পেতে সময় লাগে
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করলেই সঙ্গে সঙ্গে এমপিওভুক্ত হন না শিক্ষকরা। নিয়োগের পর শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদ, পদ, বিষয় বা ট্রেডসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হয়। এরপর নির্ধারিত কমিটির অনুমোদন, মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া ও বাজেটসংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ হলে এমপিও কার্যকর করা হয়।
এ কারণে নিয়োগ ও যোগদানের পর বেতন-ভাতা পেতে শিক্ষকদের কিছুটা সময় লাগে বলে জানিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, কোনো শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানের দিন থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর এমপিও কার্যকর হয় না। নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর এমপিও কার্যকর করা হয়।
তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার আগে তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা যাচাই করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদসহ নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর এমপিও কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।’
সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদন
এমপিও কার্যকরের নিয়ম তুলে ধরে মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, ‘আমাদের নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাত সদস্যের কমিটিতে অনুমোদন হওয়ার পর থেকে তাঁর এমপিও কার্যকর হবে। অর্থাৎ শুধু নিয়োগপত্র পাওয়া বা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করলেই বেতন-ভাতা পাওয়ার অধিকার কার্যকর হয় না; এমপিও অনুমোদনের নির্ধারিত ধাপও সম্পন্ন করতে হয়।’
তিনি জানান, এমপিও অনুমোদনের আগে শিক্ষকের সনদ ও যোগ্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাচাইয়ের সময় সনদে সমস্যা, এমনকি জাল সনদের মতো বিষয়ও ধরা পড়তে পারে।
একইভাবে নিয়োগের সময় কোনো শিক্ষক প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন কি না, পরবর্তী সময়ে সেই যোগ্যতা অর্জন করেছেন কি না—এসব বিষয়ও নীতিমালা অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও পরে সেই যোগ্যতা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার বিধান অনুযায়ী তা যাচাই করা হয়। এসব বিষয় পরীক্ষা না করে সরাসরি এমপিও দেওয়া সম্ভব নয়।’
পদ ও ট্রেডের সামঞ্জস্যও যাচাই
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিও কার্যকরের ক্ষেত্রে শিক্ষক কোন পদে, কোন বিষয় বা ট্রেডের বিপরীতে নিয়োগ পেয়েছেন, সেটিও যাচাই করা হয়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমপিও কার্যকরের প্রক্রিয়ায় বিষয় বা ট্রেডের সামঞ্জস্যও যাচাই করতে হয়। কারণ কারিগরি শিক্ষায় ভোকেশনাল, বিএম, কৃষি এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রেড ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক কোন প্রতিষ্ঠানে, কোন পদে বা কোন ট্রেডের বিপরীতে নিয়োগ পেয়েছেন, তা যাচাই করতে হয়। সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে শিক্ষকের যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কাঠামোর সামঞ্জস্যও দেখা হয়।
কারিগরি শিক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড থাকায় এমপিও দেওয়ার সময় এসব তথ্য সমন্বয় করে যাচাই করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের সংযুক্ততা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ও পরীক্ষা করতে হয়।
মন্ত্রণালয় ও বাজেটের ধাপও রয়েছে
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকের তথ্য যাচাই-বাছাই ও কমিটির অনুমোদনের পরই এমপিও কার্যকর হয়ে যায় না। এরপর আরও কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
প্রথমে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল পাঠানো হয়। অধিদপ্তরে সেগুলো যাচাই করে নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো, অনুমোদন এবং বাজেটসংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ করতে হয়। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন এবং বেতন-ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা হয়।
মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, ‘প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল পাঠানো হয়। এরপর অধিদপ্তরে তা যাচাই করে কমিটির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় ও বাজেট-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পর শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন।’
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগের পর দ্রুত এমপিও কার্যকর করতে হলে প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানো জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি বা তথ্যের অসংগতি থাকলে যাচাই-বাছাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এমপিও কার্যকর হতেও দেরি হয়।