বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারীদের বিশেষ কোটা বাতিল: নতুন বিধিমালায় ৭ শতাংশ কোটা ও নতুন পদ সৃষ্টি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ৬০ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্যদের জন্য ৭ শতাংশ কোটা রেখে অবশিষ্ট ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা ও কোটা পরিবর্তন: ২৮ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫' নামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন বিধিমালার অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৯৩ শতাংশ হবে মেধাভিত্তিক। বাকি ৭ শতাংশ পদ নিম্নলিখিত কোটার আওতায় রাখা হয়েছে:

  • মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য: ৫ শতাংশ

  • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য: ১ শতাংশ

  • শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য: ১ শতাংশ

তবে কোটার আওতায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই শূন্য পদগুলো মেধার ভিত্তিতেই পূরণ করা হবে।

আগের কোটা বাতিল: স্মরণীয় যে, ২০১৯ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত ছিল। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ ছিল পুরুষদের জন্য এবং ২০ শতাংশ ছিল পোষ্য কোটা। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯' রহিত বলে বিবেচিত হবে।

অন্যান্য পরিবর্তন:

  • নিয়োগ পদ্ধতি: সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকছে।

  • নিয়োগের স্থান: নিয়োগ প্রক্রিয়া উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে।

  • বিষয়ভিত্তিক সংরক্ষণ: বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ পদ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে।

  • নতুন পদ সৃষ্টি: সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবারের মতো আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন চলছে, বেড়েছে সময়

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য একটি বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এই পদে আবেদন প্রক্রিয়া চলছে এবং আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা ও বেতনস্কেল:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ-সহ স্নাতক অথবা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা এর সমমানের সিজিপিএ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • বেতন গ্রেড: এই পদে চাকরি পেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা $12500 - 30230$ টাকা স্কেলে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা $11300 - 27230$ টাকা স্কেলে বেতন পাবেন।

পরীক্ষার পদ্ধতি:

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য মোট $100$ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার পদ্ধতি দুটি ধাপে বিভক্ত:

  1. লিখিত পরীক্ষা ( $90$ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) থেকে প্রশ্ন করা হবে। এই ধাপে উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে ন্যূনতম $50\%$ নম্বর পেতে হবে।

  2. মৌখিক পরীক্ষা ($10$ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল $10$ নম্বরের মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

মন্তব্য করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন শুরু ৮ নভেম্বর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম ধাপে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আজ, ৮ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রার্থীদের জন্য বেতন হবে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ত্রয়োদশ গ্রেডে। আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাত

মন্তব্য করুন

ডিপিএডের মানোন্নয়ন পরীক্ষা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর, রুটিন প্রকাশ

ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানোন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ পরীক্ষা চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

নেপের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে এ সুযোগ কেবল প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

পরীক্ষার সূচি

১০ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষা পরিচিতি ও শিক্ষাদর্শন এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিখন মূল্যায়ন ও ফলাবর্তন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষণ পদ্ধতি-কৌশল ও শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষাক্রম ও শিখন সামগ্রী পরীক্ষা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিশুর বিকাশ ও শিখন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন-বাংলা পরীক্ষা হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাণিতিক দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই এ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি হননি—এমন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানাবেন। প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে নির্ধারিত গোপনীয় ই-মেইলে পাঠানো হবে। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট নিজে ই-মেইল পরিচালনা করবেন এবং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

পরীক্ষার হলে বই, খাতা, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি, ল্যাপটপসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া যাবে না।

প্রতিটি পরীক্ষা শেষে নেপ থেকে পাঠানো কোড নম্বর ব্যবহার করে উত্তরপত্র কোডিং করতে হবে। এরপর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতিসংক্রান্ত ইউনিটভিত্তিক উত্তরপত্র মিলিয়ে প্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য ২০০ টাকা বীমাকৃত পার্সেলের মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রথম সেমিস্টারের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী আবারও অনুত্তীর্ণ হলে ভবিষ্যতে তাকে আর মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়নি।

এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন, অনিয়ম বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে ডিপিএড নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ পেল চলনবিলের ‘ভাসমান স্কুল’

ভাসমান স্কুল
ভাসমান স্কুল

বাংলাদেশের চলনবিল এলাকার সৌরশক্তিচালিত 'ভাসমান স্কুল' ইউনেস্কোর মর্যাদাপূর্ণ কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ অর্জন করেছে। এটি শিক্ষায় নতুন উদ্ভাবন এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসারে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান, যা চীনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদান করা হয়।

শুক্রবার সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কার প্রাপ্তির তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের শত শত মনোনয়নের মধ্য থেকে ইউনেস্কো যে তিনটি উদ্যোগকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশের সিধুলাই ভাসমান স্কুল, আয়ারল্যান্ডের লার্ন উইথ নালা ই-লার্নিং এবং মরক্কোর সেকেন্ড চান্স স্কুল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ২৭ সেপ্টেম্বর চীনের শানডং প্রদেশের চুফু শহরে, কনফুসিয়াসের জন্মস্থানে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান তার প্রতিষ্ঠান সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার পক্ষে ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন।

চলনবিল অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ রেজোয়ান শৈশবে প্রতি বছর বর্ষাকালে তার স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে দেখতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ২০০২ সালে একটি নৌকাকে স্কুলে রূপান্তরিত করার উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেন। তার এই উদ্যোগটি বিশ্বের প্রথম ভাসমান স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সৌরশক্তিনির্ভর এসব ভাসমান স্কুল এখনো লাইব্রেরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে, যা বর্ষায় চারদিকে পানিবেষ্টিত গ্রামগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে।

ইউনেস্কো এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি উদ্ভাবনী উপায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই এই ভাসমান স্কুলের সাফল্যের মূল কারণ।

বর্তমানে সিধুলাইয়ের ভাসমান স্কুলের এই মডেল বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনুসরণ করছে। শুধু তাই নয়, এই অনন্য উদ্যোগ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: ৫৩৪ বিদ্যালয়ে ২৬১৭ কোটি টাকার ‘রূপান্তর যাত্রা’ শুরু

 দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করতে এক বিশাল অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচির সূচনা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। প্রায় ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে, সারাদেশের ৫৩৪টি নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেহারা পাল্টে দেওয়ার এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

‘বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১০টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায়, গ্রামীণ ও নগরীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এক নতুন রূপে সেজে উঠবে।

 

যেসব স্কুলে আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক সাম্প্রতিক চিঠিতে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি প্রধান ধারার বিদ্যালয় উপকৃত হবে:

১. মডেল স্কুলসমূহ: ৬৪টি জেলার বিদ্যমান ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলগুলোর তথ্য ইতিমধ্যেই আইপিইএমআইএস সিস্টেম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ২. সিটি কর্পোরেশন এলাকার স্কুলসমূহ: দেশের ১০টি সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে নির্বাচিত ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ৪৬টি বিদ্যালয়ের তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক প্রত্যয়নসহ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।

 

২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকার রূপরেখা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ (২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা) ব্যয় হবে বিদ্যালয়ের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • আধুনিক শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ: শিক্ষার্থীদের আরামদায়ক ও কার্যকর পাঠদানের পরিবেশ সৃষ্টি।

  • স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন: স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার মান নিশ্চিত করা।

  • বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

  • প্রশাসনিক ভবনের আধুনিকায়ন: শিক্ষকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি।

  • খেলার মাঠের উন্নয়ন: শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত খেলার পরিবেশ তৈরি।

 

সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪৬টি বিদ্যালয়ের তালিকা প্রেরণের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যয়নপত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। এর ফলস্বরূপ, শিশুরা বিদ্যালয়ে আসার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হবে এবং জাতি গঠনের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

এই প্রকল্প কেবল ইট-সিমেন্টের উন্নয়ন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শিক্ষণ-শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার এক সুদূরপ্রসারী বিনিয়োগ, যা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

মন্তব্য করুন

নাটোর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির শুরু

নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন
নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পুষ্টিহীনতা ও বিদ্যালয় চলাকালে শিশুদের ক্ষুধা দূর করতে সহায়তা করবে, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আরও মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়বে। তিনি জানান, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই উদ্যোগটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ডমেনিকো স্কালপেল্লি। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হবে।

এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের বেশি হবে, ঝরে পড়া কমবে, প্রতি বছর প্রকৃত ভর্তির হার ১০ শতাংশের বেশি বাড়বে এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে।

পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

মন্তব্য করুন
×