সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি
‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি। এর উদ্বোধন হবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাবে। সপ্তাহের পাঁচটি স্কুল দিবসে নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে—

  • রবিবার: ১২০ গ্রাম বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • সোমবার: বনরুটি ও ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ

  • মঙ্গলবার: ৭৫ গ্রাম ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা/মৌসুমি ফল

  • বুধবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • বৃহস্পতিবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় মোট এনার্জির ২৫.৯%, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২.২%, প্রোটিনের ১৬.৪% এবং ফ্যাটের ২১.৭% গ্রহণ করতে পারবে—যা শিশুদের শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা উন্নত করা এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ বাড়ানোও এই প্রকল্পের অংশ।

তিনি আরও বলেন, ফিডিং কর্মসূচি চালু হলে বিদ্যালয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি হবে এবং ক্ষুধা নিবারণের ফলে শেখার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

মন্তব্য করুন

চরাঞ্চলের স্কুলে পাঠদান বন্ধ, শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী আবাস গড়ে উঠেছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদী বেষ্টিত দিয়ারা নাড়িকেল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আবাসিক হোটেলের মতো ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে বাইরের শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার জায়গা হিসেবে।

এ অঞ্চলের আরও অন্তত দশটি বিদ্যালয়ে একই চিত্র— কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, আবার কোথাও শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শিক্ষক অনুপস্থিত। ফলে বিদ্যালয়গুলো কাগজে-কলমে চালু থাকলেও বাস্তবে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী বেষ্টিত এই এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে বাইরের কৃষি শ্রমিকরা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সম্প্রতি কিছু স্কুল কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “কিছু মানুষ এখন বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকে, রান্না-বান্নাও করে। শুনেছি তারা টাকা দিয়ে ঘর ব্যবহার করে। এটা তো সরকারি স্কুল— এমন হওয়া ঠিক নয়।”

চরখুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “স্থানীয় মাতব্বর মান্নান শিকদার তার আবাদি জমিতে কাজের জন্য বাইরে থেকে কিছু শ্রমিক এনেছেন। তারাই স্কুলে অবস্থান করছেন। ভাড়া দেওয়া হয়নি, তারা জোর করে আছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।”

শিক্ষার্থী না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী খুবই কম। একটি রুমেই কষ্ট করে ক্লাস নিতে হয়।”

একই অবস্থা ইউনিয়নের মোজাফফরপুর, বিশ্বনাথপুর আকন্দি, নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি ও কটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, কোথাও আবার উল্টো। শ্রেণিকক্ষ ধুলায় ঢাকা, মাঠে নেই শিশুদের কোলাহল।

স্থানীয় অভিভাবক রফিক শেখ বলেন, “আমাদের এলাকার স্কুলগুলো শুধু নামেই আছে। শিক্ষকরা মাসে এক-দুদিন এসে সই করে চলে যান। বাচ্চারা পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে।”
রোকেয়া বেগম বলেন, “আমরা চাই সন্তানরা স্কুলে যাক, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক না হলে এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

অন্যদিকে, শিক্ষকরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। নৌযান সংকট, নদীর স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

মোজাফফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া সত্যিই কঠিন। বর্ষাকালে নদীর স্রোতের কারণে নৌকা পাওয়া যায় না।”
বিশ্বনাথপুর আকনকান্দি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, “অনেক সময় নৌকা না পেলে পুরো দিনই স্কুলে পৌঁছানো যায় না। তাই কখনো কখনো দুপুরে ছুটি দিতে হয়।”

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভাড়া দেওয়া বা শ্রমিক থাকার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র: আরটিভি নিউজ

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ পেল চলনবিলের ‘ভাসমান স্কুল’

ভাসমান স্কুল
ভাসমান স্কুল

বাংলাদেশের চলনবিল এলাকার সৌরশক্তিচালিত 'ভাসমান স্কুল' ইউনেস্কোর মর্যাদাপূর্ণ কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ অর্জন করেছে। এটি শিক্ষায় নতুন উদ্ভাবন এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসারে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান, যা চীনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদান করা হয়।

শুক্রবার সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কার প্রাপ্তির তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের শত শত মনোনয়নের মধ্য থেকে ইউনেস্কো যে তিনটি উদ্যোগকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশের সিধুলাই ভাসমান স্কুল, আয়ারল্যান্ডের লার্ন উইথ নালা ই-লার্নিং এবং মরক্কোর সেকেন্ড চান্স স্কুল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ২৭ সেপ্টেম্বর চীনের শানডং প্রদেশের চুফু শহরে, কনফুসিয়াসের জন্মস্থানে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান তার প্রতিষ্ঠান সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার পক্ষে ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন।

চলনবিল অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ রেজোয়ান শৈশবে প্রতি বছর বর্ষাকালে তার স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে দেখতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ২০০২ সালে একটি নৌকাকে স্কুলে রূপান্তরিত করার উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেন। তার এই উদ্যোগটি বিশ্বের প্রথম ভাসমান স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সৌরশক্তিনির্ভর এসব ভাসমান স্কুল এখনো লাইব্রেরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে, যা বর্ষায় চারদিকে পানিবেষ্টিত গ্রামগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে।

ইউনেস্কো এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি উদ্ভাবনী উপায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই এই ভাসমান স্কুলের সাফল্যের মূল কারণ।

বর্তমানে সিধুলাইয়ের ভাসমান স্কুলের এই মডেল বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনুসরণ করছে। শুধু তাই নয়, এই অনন্য উদ্যোগ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

মন্তব্য করুন

নাটোর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির শুরু

নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন
নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পুষ্টিহীনতা ও বিদ্যালয় চলাকালে শিশুদের ক্ষুধা দূর করতে সহায়তা করবে, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আরও মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়বে। তিনি জানান, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই উদ্যোগটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ডমেনিকো স্কালপেল্লি। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হবে।

এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের বেশি হবে, ঝরে পড়া কমবে, প্রতি বছর প্রকৃত ভর্তির হার ১০ শতাংশের বেশি বাড়বে এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে।

পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।  মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারীদের বিশেষ কোটা বাতিল: নতুন বিধিমালায় ৭ শতাংশ কোটা ও নতুন পদ সৃষ্টি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ৬০ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্যদের জন্য ৭ শতাংশ কোটা রেখে অবশিষ্ট ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা ও কোটা পরিবর্তন: ২৮ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫' নামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন বিধিমালার অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৯৩ শতাংশ হবে মেধাভিত্তিক। বাকি ৭ শতাংশ পদ নিম্নলিখিত কোটার আওতায় রাখা হয়েছে:

  • মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য: ৫ শতাংশ

  • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য: ১ শতাংশ

  • শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য: ১ শতাংশ

তবে কোটার আওতায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই শূন্য পদগুলো মেধার ভিত্তিতেই পূরণ করা হবে।

আগের কোটা বাতিল: স্মরণীয় যে, ২০১৯ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত ছিল। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ ছিল পুরুষদের জন্য এবং ২০ শতাংশ ছিল পোষ্য কোটা। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯' রহিত বলে বিবেচিত হবে।

অন্যান্য পরিবর্তন:

  • নিয়োগ পদ্ধতি: সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকছে।

  • নিয়োগের স্থান: নিয়োগ প্রক্রিয়া উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে।

  • বিষয়ভিত্তিক সংরক্ষণ: বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ পদ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে।

  • নতুন পদ সৃষ্টি: সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবারের মতো আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন চলছে, বেড়েছে সময়

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য একটি বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এই পদে আবেদন প্রক্রিয়া চলছে এবং আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা ও বেতনস্কেল:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ-সহ স্নাতক অথবা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা এর সমমানের সিজিপিএ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • বেতন গ্রেড: এই পদে চাকরি পেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা $12500 - 30230$ টাকা স্কেলে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা $11300 - 27230$ টাকা স্কেলে বেতন পাবেন।

পরীক্ষার পদ্ধতি:

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য মোট $100$ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার পদ্ধতি দুটি ধাপে বিভক্ত:

  1. লিখিত পরীক্ষা ( $90$ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) থেকে প্রশ্ন করা হবে। এই ধাপে উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে ন্যূনতম $50\%$ নম্বর পেতে হবে।

  2. মৌখিক পরীক্ষা ($10$ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল $10$ নম্বরের মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

মন্তব্য করুন
×