চরাঞ্চলের স্কুলে পাঠদান বন্ধ, শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী আবাস গড়ে উঠেছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদী বেষ্টিত দিয়ারা নাড়িকেল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আবাসিক হোটেলের মতো ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে বাইরের শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার জায়গা হিসেবে।

এ অঞ্চলের আরও অন্তত দশটি বিদ্যালয়ে একই চিত্র— কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, আবার কোথাও শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শিক্ষক অনুপস্থিত। ফলে বিদ্যালয়গুলো কাগজে-কলমে চালু থাকলেও বাস্তবে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী বেষ্টিত এই এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে বাইরের কৃষি শ্রমিকরা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সম্প্রতি কিছু স্কুল কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “কিছু মানুষ এখন বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকে, রান্না-বান্নাও করে। শুনেছি তারা টাকা দিয়ে ঘর ব্যবহার করে। এটা তো সরকারি স্কুল— এমন হওয়া ঠিক নয়।”

চরখুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “স্থানীয় মাতব্বর মান্নান শিকদার তার আবাদি জমিতে কাজের জন্য বাইরে থেকে কিছু শ্রমিক এনেছেন। তারাই স্কুলে অবস্থান করছেন। ভাড়া দেওয়া হয়নি, তারা জোর করে আছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।”

শিক্ষার্থী না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী খুবই কম। একটি রুমেই কষ্ট করে ক্লাস নিতে হয়।”

একই অবস্থা ইউনিয়নের মোজাফফরপুর, বিশ্বনাথপুর আকন্দি, নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি ও কটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, কোথাও আবার উল্টো। শ্রেণিকক্ষ ধুলায় ঢাকা, মাঠে নেই শিশুদের কোলাহল।

স্থানীয় অভিভাবক রফিক শেখ বলেন, “আমাদের এলাকার স্কুলগুলো শুধু নামেই আছে। শিক্ষকরা মাসে এক-দুদিন এসে সই করে চলে যান। বাচ্চারা পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে।”
রোকেয়া বেগম বলেন, “আমরা চাই সন্তানরা স্কুলে যাক, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক না হলে এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

অন্যদিকে, শিক্ষকরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। নৌযান সংকট, নদীর স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

মোজাফফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া সত্যিই কঠিন। বর্ষাকালে নদীর স্রোতের কারণে নৌকা পাওয়া যায় না।”
বিশ্বনাথপুর আকনকান্দি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, “অনেক সময় নৌকা না পেলে পুরো দিনই স্কুলে পৌঁছানো যায় না। তাই কখনো কখনো দুপুরে ছুটি দিতে হয়।”

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভাড়া দেওয়া বা শ্রমিক থাকার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র: আরটিভি নিউজ

মন্তব্য করুন

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে রোববার থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ।

তিনি বলেন, “দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (রোববার) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষক, আর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক কোটি

এদিকে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি ও আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

মন্তব্য করুন

বেতন–পদোন্নতির দাবিতে রাস্তায় শিক্ষকরা, ক্লাস বন্ধ এক কোটি শিক্ষার্থীর

সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে দেশের সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থী পাঠচ্যুত হয়েছে।

বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকরা পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে।

শাহবাগে হামলার পর কর্মসূচি এগিয়ে আনলেন শিক্ষকরা : ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। মূলত ১৫ নভেম্বরের পর কর্মবিরতির পরিকল্পনা থাকলেও, শনিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার পরই শিক্ষকরা তা আগাম শুরু করেন।

সংগঠনের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের ওপর হামলায় বহু শিক্ষক আহত হয়েছেন, কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের শিক্ষকরা একযোগে ক্লাস বর্জন করেছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”

তিনি আরও জানান, তারা ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে “স্কুলে তালা ঝুলিয়ে” দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষার তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রজব আলী বলেন,

“আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এখন ক্লাস বন্ধ থাকায় তার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এক বছরে দ্বিতীয় দফা আন্দোলন

চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কর্মবিরতিতে গেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর আগে মে মাসে তারা ধাপে ধাপে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা এবং আধাবেলা কর্মবিরতি পালনের পর ২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের আশ্বাসে ১ জুন তারা ক্লাসে ফেরেন। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।


১১তম গ্রেডের আশ্বাস, শিক্ষকদের দাবি ১০ম গ্রেড

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতা আবুল কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন নতুন পে-কমিশনের আলোকে তারা ১০ম গ্রেডের দাবি তুলেছেন।

“সরকার বলছে ১১তম গ্রেড দেবে, কিন্তু এখনো অনুমোদন দেয়নি। তাই আমরা দশম গ্রেডের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি,” বলেন তিনি।


‘দশম গ্রেড যৌক্তিক নয়’—অভিযোগ উপদেষ্টার

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,

“প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন, তাই সহকারী শিক্ষকদের এক লাফে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে আনা সম্ভব নয়। আমরা ১১তম গ্রেডের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানও জানান,

“সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছি। অনুমোদন পেলেই তা কার্যকর হবে।”


শিখন ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা

তিনি আরও বলেন,

“বার্ষিক পরীক্ষার আগে এ কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ফেলবে। বই পেতে দেরি, আগের কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে শিখন ঘাটতি অনেক বেড়েছে।”

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিতে অভিজ্ঞতা বাড়ল: নতুন নিয়োগ বিধিমালার গেজেট প্রকাশ

 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নতুন বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির অভিজ্ঞতা ৮ বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছে। এছাড়া নিয়োগের যোগ্যতা, কোটা এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

নতুন বিধিমালায় পরিবর্তন: গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫' জারি করা হয়। এই বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর মাধ্যমে আগের 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯' রহিত হয়ে যাবে।

প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া: নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে এবং বাকি ২০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে পদোন্নতির যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেই শূন্যপদগুলোও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

পদোন্নতির যোগ্যতা (সহকারী শিক্ষকদের জন্য): প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক (সঙ্গীত) বা সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদে কর্মরত শিক্ষকদের এখন মৌলিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি স্থায়ীকরণসহ কমপক্ষে ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ২০১৯ সালের বিধিমালায় এই অভিজ্ঞতা ছিল ৮ বছর।

সরাসরি নিয়োগের যোগ্যতা: সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ অথবা সমমানের জিপিএ বা সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া, প্রার্থীদের অবশ্যই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

আসন্ন নিয়োগ কার্যক্রম: এই নতুন বিধিমালা অনুযায়ী আগামীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই সহকারী শিক্ষকের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতে পারে। এছাড়া, দেশের প্রায় ৪০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক শূন্যপদে শিগগির পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন চলছে, বেড়েছে সময়

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য একটি বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এই পদে আবেদন প্রক্রিয়া চলছে এবং আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা ও বেতনস্কেল:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ-সহ স্নাতক অথবা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা এর সমমানের সিজিপিএ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • বেতন গ্রেড: এই পদে চাকরি পেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা $12500 - 30230$ টাকা স্কেলে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা $11300 - 27230$ টাকা স্কেলে বেতন পাবেন।

পরীক্ষার পদ্ধতি:

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য মোট $100$ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার পদ্ধতি দুটি ধাপে বিভক্ত:

  1. লিখিত পরীক্ষা ( $90$ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) থেকে প্রশ্ন করা হবে। এই ধাপে উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে ন্যূনতম $50\%$ নম্বর পেতে হবে।

  2. মৌখিক পরীক্ষা ($10$ নম্বর): লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল $10$ নম্বরের মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ পেল চলনবিলের ‘ভাসমান স্কুল’

ভাসমান স্কুল
ভাসমান স্কুল

বাংলাদেশের চলনবিল এলাকার সৌরশক্তিচালিত 'ভাসমান স্কুল' ইউনেস্কোর মর্যাদাপূর্ণ কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ অর্জন করেছে। এটি শিক্ষায় নতুন উদ্ভাবন এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসারে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান, যা চীনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদান করা হয়।

শুক্রবার সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কার প্রাপ্তির তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের শত শত মনোনয়নের মধ্য থেকে ইউনেস্কো যে তিনটি উদ্যোগকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশের সিধুলাই ভাসমান স্কুল, আয়ারল্যান্ডের লার্ন উইথ নালা ই-লার্নিং এবং মরক্কোর সেকেন্ড চান্স স্কুল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ২৭ সেপ্টেম্বর চীনের শানডং প্রদেশের চুফু শহরে, কনফুসিয়াসের জন্মস্থানে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান তার প্রতিষ্ঠান সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার পক্ষে ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন।

চলনবিল অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ রেজোয়ান শৈশবে প্রতি বছর বর্ষাকালে তার স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে দেখতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ২০০২ সালে একটি নৌকাকে স্কুলে রূপান্তরিত করার উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেন। তার এই উদ্যোগটি বিশ্বের প্রথম ভাসমান স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সৌরশক্তিনির্ভর এসব ভাসমান স্কুল এখনো লাইব্রেরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে, যা বর্ষায় চারদিকে পানিবেষ্টিত গ্রামগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে।

ইউনেস্কো এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি উদ্ভাবনী উপায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই এই ভাসমান স্কুলের সাফল্যের মূল কারণ।

বর্তমানে সিধুলাইয়ের ভাসমান স্কুলের এই মডেল বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনুসরণ করছে। শুধু তাই নয়, এই অনন্য উদ্যোগ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।  মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

মন্তব্য করুন
×