বিইউপির ভর্তি পরীক্ষা জানুয়ারিতে, ৬ অনুষদের সূচি প্রকাশ

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। ছয়টি অনুষদের পরীক্ষা চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ ও ৯ জানুয়ারি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২ জানুয়ারি নেওয়া হবে আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের পরীক্ষা।

এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদ, মেডিকেল স্ট্যাডিজ অনুষদ এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থাৎ, ছয়টি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ১, ২, ৮ ও ৯ জানুয়ারি—এই চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের সময়সূচি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। আবেদন শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে ডিসেম্বরে সরকারের নতুন কর্মসংস্থান উদ্যোগ

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে দেওয়া অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন এবং মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বর ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

মাহদী আমিন জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সরকারের লক্ষ্য হলো তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। একই সঙ্গে মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের জনবলের চাহিদা রয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। একদিকে থাকবে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য, অন্যদিকে থাকবে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদা। এই দুই তথ্যের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

নিয়মিত হবে ক্যারিয়ার ফেয়ার

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি দেশব্যাপী নিয়মিত ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জেলা পর্যায়ে এসব ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমিয়ে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল খুঁজে নিতে পারবে।

মাহদী আমিন বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা হবে।

এই ব্যবস্থার আওতায় চাকরিপ্রার্থীদের সিভি লেখার কৌশল, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, ইন্টারভিউ মোকাবিলা এবং চাকরির বাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে।

বিদেশগামী তরুণদেরও যুক্ত করা হবে

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি নিবন্ধন না করলেও বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) অথবা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

সরকার এমন একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ তাঁর ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

মন্তব্য করুন

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের জন্য বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি: শূন্যপদের চাহিদা নেওয়া শুরু

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্যপদের তথ্য বা চাহিদা সংগ্রহ শুরু করেছে সংস্থাটি।

চাহিদা দেওয়ার সময়সীমা:

  • শুরু: বুধবার (১৯ নভেম্বর)

  • শেষ: আগামী ২৮ নভেম্বর

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, যে সমস্ত পদ ৩০ সেপ্টেম্বরের (২০২৫) মধ্যে শূন্য হয়েছে, শুধুমাত্র সেই এমপিওভুক্ত পদগুলোর চাহিদা অনলাইনে দিতে হবে।

নির্দেশিকা ও নীতিমালা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এবং কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ থেকে জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী প্যাটার্নভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা দিতে হবে।

  • শূন্যপদের তথ্য অনলাইনে দেওয়ার পর, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে ই-রিকুইজিশন ফি জমা দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা গ্রহণ করা হবে।

  • পূর্বের জারি করা কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় দেওয়া অনলাইন চাহিদা বহাল থাকবে না।

  • অফলাইনে, হার্ডকপিতে বা ই-মেইলের মাধ্যমে কোনো চাহিদা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এনটিআরসিএতে নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিম্নলিখিত প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে অনলাইনে এই চাহিদা জমা দিতে পারবেন:

  •  ওয়েবসাইট: http://ngi.teletalk.com.bd

  • অথবা, এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটের (www.ntrca.gov.bd) "ই-রিকুইজিশন" সেবা বক্সের "ই-রিকুইজিশন লগইন" অপশনে ক্লিক করে।

মন্তব্য করুন

জাবির ভর্তি পরীক্ষা এবারও ক্যাম্পাসেই, বিভাগীয় শহরে নয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এবারও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

তিনি বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত দিয়েছে, গত বছরের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষা হবে। অন্যান্য বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।’

এর আগে গত বছর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

যে কারণে বিভাগীয় শহরে হচ্ছে না

বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা না নেওয়ার পেছনে সময়, পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, শিক্ষক ও ভিজিলেশন সংকট এবং শিক্ষার্থীদের বাড়তি আর্থিক চাপের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় নিয়মিত একাডেমিক ও আবাসিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনেও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ কিংবা ঈদের পর পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলবে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের অধিকাংশ দিনই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম থাকে। ফলে বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষা আয়োজন করতে গেলে জাবির ভর্তি পরীক্ষা মার্চের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শহরে পরীক্ষা নিতে গেলে আবেদন ফি ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। আবার সবার জন্য সমান আবেদন ফি রাখার নীতির কারণে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে বলে জানান তিনি।

ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে নতুন প্রস্তাব

ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র বা প্রশ্নের ধরন নির্ধারণের বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে একটি প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম কিছুটা আলাদা হওয়ায় তাদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কীভাবে প্রণয়ন করা যায়, সে বিষয়ে উপাচার্য একটি প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটি। কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ফ্যাকাল্টির ইউনিটভিত্তিক প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ভবিষ্যতে কম শিফটে পরীক্ষা

বর্তমান ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়িয়ে কম শিফটে, এমনকি এক শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হয়েছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘হঠাৎ করে শিফটের সংখ্যা কমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে না। আমাদের শিক্ষকসংখ্যা সীমিত। পাশাপাশি পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় ভিজিলেশন ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তাই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আবেদন নেওয়া বা বিভিন্ন জেলা শহরে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। কারণ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও সীমিত আসনের কারণে তাদের বড় অংশকেই শেষ পর্যন্ত ভর্তি করা সম্ভব হবে না।

একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা তিন বিষয়ে

মঙ্গলবারের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় মোট তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা। এগুলো হলো—নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এবং গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন।

গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন নিয়েও সভায় বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডিন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে উপাচার্য আলোচনা করবেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএস: লিখিত ফল ৭-১০ দিনে, ভাইভা ২৬ অক্টোবর শুরু

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার (এমসিকিউ টাইপ) ফলাফল সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রকাশিত হবে। এরপর ২৬ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেবল ঢাকা মহানগরীর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে এই লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫২ জন আবেদন করেছিলেন। কতজন প্রার্থী আসলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তা এখনো সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানায়নি। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি।

পিএসসি সূত্রমতে, এই বিশেষ বিসিএসের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সরকারি সাধারণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোতে শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ করা। এই লক্ষ্য পূরণে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করে শীঘ্র মৌখিক পরীক্ষা শুরু করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিএসসির এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, পরীক্ষার্থী কম থাকায় চিকিৎসক নিয়োগের ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ফল তিন দিনেই দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ৪৯তম বিসিএসে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই লিখিত পরীক্ষার ফল ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই প্রকাশের সম্ভাবনা আছে।

পিএসসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়ে ২৬ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। ওই সদস্য জানান, মৌখিক পরীক্ষা এই মাসেই শুরু হয়ে নভেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ফল বা নিয়োগের সুপারিশ করা হতে পারে। তবে ফলাফল তৈরির কাজ দ্রুত শেষ হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা সম্ভব হতে পারে।

মন্তব্য করুন

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ, শুরু ১৪ মার্চ

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ১৪ মার্চ থেকে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষা শুরু হবে। তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যা আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এসএসসি পরীক্ষার এ সময়সূচি প্রকাশ করে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হবে। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনি এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তাত্ত্বিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুই অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে দায়ী করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে লিখে নির্ধারিত বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের সৃজনশীল/রচনামূলক, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী শুধু নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। ভিন্ন কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। তবে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না।

সৃজনশীল/রচনামূলক, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সরবরাহ করতে হবে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে।

পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ বিষয়ে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দৈনিক পত্রিকা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

এক নজরে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা

  • পরীক্ষা শুরু: ১৪ মার্চ ২০২৭

  • তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ: ১৫ এপ্রিল ২০২৭

  • ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশনা: ২২ এপ্রিল ২০২৭-এর মধ্যে

  • প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু: সকাল ১০টা

  • পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে

মন্তব্য করুন

কুবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৫ ফেব্রুয়ারি, শেষ ৭ ফেব্রুয়ারি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ‘বি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) পরীক্ষা হবে ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায়। আর ‘সি’ ইউনিটের (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায়।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী শহরেও ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র রাখা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×