আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকদের সুখবর দিচ্ছে মাউশি

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের জন্য আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকদের নতুন করে তা দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ বিষয়ে টেলিটক ও জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাউশির একটি সূত্র জানায়, আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকদের আবারও পাসওয়ার্ড পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি হয়েছে। তবে আইডি-পাসওয়ার্ড জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে পাঠানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সভা এখনো শেষ হয়নি। তবে আইডি-পাসওয়ার্ডের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।’

মাউশির একটি সূত্র জানায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বদলির জন্য ১১ হাজার ৯৮৬ জন শিক্ষক আবেদন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

প্রথম-পঞ্চমে লটারি, ষষ্ঠ-নবমে ভর্তি পরীক্ষা

২০২৭ থেকে স্কুলে ভর্তি পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ভাবনা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৭ আগস্ট ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিক সভা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এতে এখনো কিছু সংশোধন বাকি রয়েছে। সংশোধন শেষে খসড়াটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদ্যমান ভর্তি নীতিমালা সংশোধন করে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হতে পারে।

কোন শ্রেণিতে কত নম্বরের পরীক্ষা

প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষার সময় থাকবে এক ঘণ্টা। এতে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে।

অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের। সময় থাকবে দুই ঘণ্টা। এ পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রায় এক যুগ পর পরিবর্তনের ভাবনা

সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় এক যুগ ধরে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হচ্ছে। শুরুতে শুধু প্রথম শ্রেণিতে এ পদ্ধতি চালু থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির সময় অন্যান্য শ্রেণিতেও লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৪ সালে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ শিক্

মন্তব্য করুন

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নজিরবিহীন আর্থিক দুর্নীতি (পর্ব-০১)

মাত্র ২ মাসে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়, টেন্ডার ছাড়াই 'স্পট কোটেশন'!

ঢাকা: মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে উন্নয়নমূলক কাজের নামে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও মজুরি খাতে ৩,১৮,৮৯,০৫৪/- (তিন কোটি আঠারো লক্ষ ঊননব্বই হাজার চুয়ান্ন) টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

কোটি কোটি টাকার মজুরি, টেন্ডার নেই

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২0২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (প্রায় দুই মাস) এডহক কমিটির নির্দেশে ৪ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়। এই কাজের মধ্যে নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ব্যবহৃত শ্রমিক মজুরি বাবদ ব্যয়িত অর্থের হিসাব নিম্নরূপ:

কাজের বিবরণ

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম

ব্যয়িত টাকার পরিমাণ

রং করা (লেবার)

বান্না এন্টারপ্রাইজ

১,৩০,৯২,৯৭৭/-

রাজমিস্ত্রী, কাঠ, সেনিটারী (লেবার)

মেসার্স শিলা এন্টারপ্রাইজ

৬১,২০,৪৬০/-

টাইলস, মোজাইক ও ইলেকট্রিক (লেবার)

তানভীর এন্টারপ্রাইজ

১৩,৭৭,৪৭৪/-

গ্রীল, অভিভাবক সেড (লেবার)

মেসার্স মোল্লা ওয়েল্ড

১২,৪৮,১৪৩/-

মোট শ্রমিক মজুরি ব্যয়

 

৩,১৮,৮৯,০৫৪/-

(এছাড়া মালামাল ক্রয় বাবদ আরও ১,২৩,৭৪,৪৩৭/- টাকা নগদে ব্যয় করা হয়)।

বিধি লঙ্ঘন করে স্পট কোটেশন

তদন্তে ডিআইএ নিশ্চিত করেছে যে, এই বিশাল অঙ্কের মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি।

  • পিপিআর-এর লঙ্ঘন: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) অনুযায়ী, ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকার অধিক মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদান করতে হয়।
  • ক্ষমতার অপব্যবহার: কিন্তু মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬ লক্ষ টাকার সীমা অতিক্রম করে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা ব্যয় করেছে 'স্পট কোটেশনের' মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত হয়নি, যা আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের পথ সুগম করেছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

বাতিল কমিটি দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদন আরও জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নতুন এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ (১৮/১১/২০২৪) জারির পরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আখলাক আহম্মেদ পূর্বের (বাতিলকৃত) এডহক কমিটির মাধ্যমেই কার্যক্রম চালিয়ে যান। বাতিল কমিটির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের এই উন্নয়ন কাজ করানো হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করার শামিল।

রাজস্ব ফাঁকি

উন্নয়ন কাজের জন্য ঠিকাদারদের পরিশোধিত ৩,১২,১৮,০০০/- টাকার ওপর ধার্যকৃত ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। শ্রমিক মজুরি বাবদ ব্যয়িত বিপুল অঙ্কের অর্থের ওপরও এই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য মোট ৩৮,০২,২৫০/- (আটত্রিশ লক্ষ দুই হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা অবিলম্বে জমা দেওয়ার জন্য প্রতিবেদনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে একটি বাতিল কমিটি মাত্র দুই মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা টেন্ডার ছাড়াই মজুরি খাতে ব্যয় করে সরকারি বিধিমালাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।

 ( দ্বিতীয় পর্ব আসছে শিগগিরই, কারা কারা এই লুটপাটে জড়িত তাদেরও পরিচয় তুলে ধরা হবে )

 

মন্তব্য করুন

শিক্ষার আকাশে মাইলস্টোন কলেজের উজ্জ্বল নক্ষত্র: এইচএসসিতে রেকর্ড সাফল্য, শোকের মাঝেও দীপ্তি

শিক্ষার মান ও সফলতার দীর্ঘ যাত্রায় আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক স্থাপন করল ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় শতভাগ পাসের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে আবারো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

চলতি বছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ২ হাজার ৯৮১ জন কৃতী শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৭৯১ জন শিক্ষার্থী, যা কলেজের সামগ্রিক ফলাফলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশেষ করে, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ঈর্ষণীয়। এ বিভাগ থেকে ২ হাজার ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭০ জন। এখানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক উঁচুতে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ-৫ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করেছেন।

 

সাফল্যের নেপথ্যে: ঐকান্তিকতা ও কঠোর পরিশ্রম

নিয়মিতভাবে এমন চমৎকার ফলাফলের ধারা অব্যাহত রাখার রহস্য উন্মোচন করে মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, "এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। এটি শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অবদানের ফল। কলেজ প্রশাসনের সঠিক তদারকি, শিক্ষকদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম, ছাত্রছাত্রীদের একাগ্রতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে প্রতি বছর আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।"

অধ্যক্ষ আরও জোর দিয়ে বলেন, "আমরা শুধু নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকি না, বরং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করি। এটিই ভালো ফলাফল অর্জনের প্রধান নিয়ামক।" তিনি উত্তীর্ণ সব ছাত্রছাত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনে আরও সফল হওয়ার এবং দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আশা প্রকাশ করেন।

 

শোককে শক্তিতে রূপান্তর: মর্মাহত অধ্যক্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি

তবে এই বিশাল আনন্দক্ষণেও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের কণ্ঠে ছিল শোকের ছায়া। তিনি এই ফলাফলের মহতী সাফল্য গত ২১ জুলাই এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৪ জন জীবন হারান এবং অনেকে আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জনই ছিলেন মাইলস্টোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল শিক্ষার্থী।

এই শোকাবহ ঘটনায় বিধ্বস্ত হলেও, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থেকে যে ফলাফল অর্জন করেছে, তা শোককে শক্তিতে পরিণত করার এক অনন্য উদাহরণ। মাইলস্টোন কলেজ প্রমাণ করল, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিভিয়ে দেওয়া যায় না।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু শনিবার

লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ৪২ দিনব্যাপী ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং’-এর তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। দেশের ১৪টি সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে (টিটিসি) বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ ব্যাচে চারটি বিষয়ের প্রতিটিতে ৪০ জন করে মোট ১৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্প দপ্তর থেকে সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগ করে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ শুরুর আগের দিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে প্রশিক্ষণার্থীদের।

রিপোর্টিংয়ের সময় কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বয়স যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, চাকরিতে প্রথম যোগদানের কপি, বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমপিও প্রাপ্তির আদেশের কপি অথবা সর্বশেষ মাসের আইবাস জেনারেটেড বেতন বিলের কপি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ছাড়পত্র। এসব কাগজপত্র ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে।

পুরোটা আবাসিক প্রশিক্ষণ

মাউশি জানিয়েছে, ৪২ দিনের এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ আবাসিক। ফলে প্রশিক্ষণের পুরো সময় প্রশিক্ষণার্থীদের নির্ধারিত আবাসিক ব্যবস্থায় থেকে অংশ নিতে হবে। বিষয়টি প্রশিক্ষণার্থীদের আগেই জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণের প্রথম এক সপ্তাহের খাবার ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

থাকবে কো-অর্ডিনেশন কমিটি

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থী গ্রুপের বিপরীতে একটি করে কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রুপের প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি।

সংশ্লিষ্ট টিটিসির মাস্টার ট্রেইনারদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বাস্তবায়নে টিটিসির অন্যান্য অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদেরও কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত বাজেটের বিস্তারিত বিভাজন ও ব্যয় নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রশিক্ষণের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বাজেট অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সব প্রশিক্ষণার্থীর হাতে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের কপি পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট টিটিসিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর

ভেঙে হচ্ছে দুটি পৃথক অধিদপ্তর

মাউশিকে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) ভেঙে দুটি পৃথক অধিদপ্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে একটি হবে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং অন্যটি হবে কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার পর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এই দুটি পৃথক অধিদপ্তর গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অধিদপ্তর দুটির জন্য পৃথক জনবলকাঠামো (অর্গানোগ্রাম), কার্যতালিকা (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) সহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ রোববার (১২ অক্টোবর, ২০২৫, ধরে নেওয়া হলো) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন যুগ্ম সচিবকে।

কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুটি পৃথক জনবলকাঠামো প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি ও বিতর্ক: মাউশিকে বিভক্ত করার এই উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে ভাগ করে 'মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর' এবং 'উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অধিদপ্তর' করার কথা ছিল, যা তখন বাস্তবায়িত হয়নি। তবে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঠিকই গঠিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সরকারের আমলেও শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবে মাউশিকে দুই ভাগ করার বিষয়টি উঠে এসেছিল।

তবে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রয়েছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা চান না মাউশিকে ভাগ করা হোক। অন্যদিকে, মাধ্যমিকের শিক্ষকেরা দ্রুত তাঁদের জন্য আলাদা 'মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর' করার পক্ষে।

মন্তব্য করুন

দারুল ইহসানের সনদধারী গ্রন্থাগার শিক্ষকদের তথ্য চাইল মাউশি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে সনদ অর্জনকারী সহকারী শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে।

মাউশির সহকারী পরিচালক এস এম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও কমিটির সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দারুল ইহসান থেকে সনদপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী ই-মেইলের মাধ্যমে এই তথ্য মাউশিতে পাঠাতে হবে।

শিক্ষকদের যে সকল তথ্য জানাতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে:

  • জেলার নাম

  • শিক্ষকের নাম ও পদবি

  • কর্মস্থলের ঠিকানা

  • প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ

  • দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদ ও ক্যাম্পাসের নাম

  • দারুল ইহসানের সনদের পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো সনদ অর্জন করা হয়েছে কি না (যদি থাকে, সেই তথ্য)।

মন্তব্য করুন
×