চুয়েটে উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান এবং নির্ধারিত চেয়ারে বসেন।
এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
অথচ সোমবার ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিতে উপাচার্যের ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ভবনটি ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
আলটিমেটামের সময় শেষ হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মুকুট পরলেই রাজা হওয়া যায় না, স্যার। পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। এত কিছুর পরও সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে, তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করে আপনি ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা বোধগম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির কাছে শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ, সংযম ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন। উপাচার্যের এ পদক্ষেপ সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পদের মর্যাদা শুধু আসনে বসে নয়, বরং আচরণ ও গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান তিনি।
উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।