অক্টোবরের প্রথমার্ধে এমপিও শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের পরিকল্পনা

বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের জন্য অক্টোবরের প্রথমার্ধকে লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বদলি প্রক্রিয়ায় থাকা বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের পর সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষকদের বদলি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বদলির সার্বিক বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে অবহিত করা হয়। সভায় টেলিটকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বদলির ফল প্রকাশের সময় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রাথমিকভাবে অক্টোবরের প্রথমার্ধের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ]মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষকদের বদলি নিয়ে আবারও সভা হবে। সেখানে বদলি প্রক্রিয়ায় থাকা জটিলতাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা হবে, সেটি জানার পর বদলির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সীমা বলা যাবে। যদি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়, তাহলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেও ফল প্রকাশ করা হতে পারে।’

যেসব বিষয়ে আলোচনা

সভা সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদনে ভুল থাকা শিক্ষকদের আবেদন এডিট বা বাতিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি শূন্য পদ না থাকা এবং জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিস্থাপন হওয়া ১৯৫টি পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা  বলেন, ‘যাদের আবেদনে ভুল হয়েছে, তাদের আবেদন এডিট বা বাতিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ইতিবাচক। তবে শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত না থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রোববারের সভায় বদলি নিয়ে বেশ কিছু বিষয় আলোচনা হলেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার আবারও সভা ডাকা হয়েছে।

সোমবার ফের সভা

মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি নিয়ে আগামীকাল সোমবার দুপুর ২টায় আবারও সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবারের সভায় বদলি প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসনে সিদ্ধান্ত এলে ফল প্রকাশের সময়সীমা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ জানা গেল

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরাই এবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ডের তথ্যমতে, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১১+ এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২২ বছর নির্ধারিত। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী অনুমোদিত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ওইএমএন বা ইএসআইএফ বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সোনালি সেবার স্লিপ প্রিন্ট করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে শিক্ষার্থীর তথ্য ইএসআইএফ পূরণ করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। ফাইনাল সাবমিটের আগে ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

আর রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টাকা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমের জন্য রাখবে এবং ২৪ টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
 

বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যদের ওপর বর্তাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে ইআইআইএন সংগ্রহের পর সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। স্বীকৃতি হালনাগাদ না থাকলে দ্রুত স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

২০০০ বিধিতে আত্তীকৃত ২২৭ প্রভাষকের খসড়া তালিকা প্রকাশ

২০০০ বিধিতে আত্তীকৃত প্রভাষক পর্যায়ের ২২৭ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০০০ বিধিতে আত্তীকৃত প্রভাষক পর্যায়ের শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে তাদের চাকরিসংক্রান্ত সার্বিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়ভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত করা এ খসড়া তালিকা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়া তালিকায় কোনো শিক্ষকের নামের পাশে মন্তব্য কলামে এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) সংক্রান্ত মন্তব্য থাকলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই মন্তব্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণক উপপরিচালক (কলেজ-১)-এর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসিআর সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া বর্তমান কর্মস্থল, নিয়োগ ও যোগদানের তারিখ, জন্মতারিখ, নিজ জেলা ইত্যাদি তথ্যের কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার পরও খসড়া তালিকায় কোনো শিক্ষকের নাম না থাকলে তাকেও আবেদনপত্র ও প্রামাণ্য কাগজপত্র আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ddgovtcollege@gmail.com ঠিকানায় পাঠাতে হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়োগ, যোগদান, নিয়মিতকরণ, বিভাগীয় পরীক্ষা ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য হালনাগাদের পর অধ্যক্ষের মাধ্যমে পিডিএস (পার্সোনাল ডাটা শিট) অনুমোদন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রমাণক জমা দিতে হবে। পরবর্তী কার্যক্রমে এসব তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

বিসিএস শিক্ষা সমিতির কোটি টাকার হিসাবে অসংগতি, অডিটে মিলেছে নানা অনিয়ম

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি’র ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদকালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম ও হিসাবের অসংগতির তথ্য উঠে এসেছে। সমিতির অডিট ও অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ভাউচার ছাড়া টাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না পাওয়া, একই খরচ একাধিকবার দেখানো এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংগঠনের অর্থ ব্যয়ের মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালে সমিতির বর্তমান কমিটির উদ্যোগে আগের কয়েক বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিট করা হয়। প্রফেসর এস এম মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি এ অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

অডিট প্রতিবেদনে সমিতির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ১৬টি অসংগতি ও ফাইন্ডিংস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় ভাউচার ছাড়া নগদ অর্থ প্রদান, একই বিল একাধিকবার উপস্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না থাকার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ লাখ টাকার ব্যয়ের হিসাব নেই

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ মেয়াদের অডিটে সমিতির বিশেষ তহবিল (মামলা) থেকে মোট ৩৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ব্যয়ের বিবরণ অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সমিতির মূল আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক-সংক্রান্ত চেক রেজিস্টার, কেনাকাটার স্টক রেজিস্টার, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্থ প্রাপ্তির রসিদ এবং বকেয়া চাঁদার বিস্তারিত হিসাবও অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাধারণ তহবিল থেকে মামলায় ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়

মামলা পরিচালনার জন্য সমিতির পৃথক বিশেষ তহবিল থাকার পরও সাধারণ তহবিল থেকে এ খাতে অর্থ ব্যয়ের তথ্য পেয়েছে অডিট কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা পরিচালনার নামে সাধারণ তহবিল থেকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এসব ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রিকুইজেশন বা প্রয়োজনীয় কার্যবিবরণী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদারও পূর্ণাঙ্গ হিসাব অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

অডিটে যেসব অনিয়মের তথ্য

অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কয়েকটি অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে শওকত হোসেন নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ কেনার তথ্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে কোনো ভাউচার ছাড়াই কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে নাসিরুল আজম বাপ্পিকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাজী হাসান ও নাজমুল নামে দুজনকে ৩ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির দুপুরের খাবারের বিল একই ভাউচারে দুইবার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এ খাতে খাবারের বিল ১৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং ফটোকপি বাবদ ১ হাজার ৫০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাশ বুকের হিসাব পাওয়া যায়নি বলেও অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অধিকাংশ ভাউচারে কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং তারিখ না থাকার বিষয়ও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমিতির মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পৃথকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করায় দুই হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অমিল দেখা যায়। ফলে সঠিকভাবে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া বিভিন্ন খরচের বিল-ভাউচারে ভ্যাট পরিশোধ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহারের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসের বিলেও কোষাধ্যক্ষ ও সম্পাদকের স্বাক্ষর না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অডিট কমিটির সুপারিশ

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ করেছে অডিট কমিটি। এর মধ্যে প্রতিটি বিল ও ভাউচারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা, ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে ক্যাশ বুক ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদে সমিতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সময়ে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর সমিতির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যা বলছেন বর্তমান সদস্য সচিব

অভিযোগের বিষয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৬ সালে আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা রেখে এসেছিলাম। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিল-ভাউচারসহ জমা দিয়েছিলাম। তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কী হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

অডিট প্রতিবেদনে উঠে আসা আর্থিক অসংগতিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুন

এবার এইচএসসিতে এত কম পাসের কারণ কী ?

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার (৫৮.৮৩%) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার এই ফলাফলকে "বাস্তবভিত্তিক" এবং "স্বাভাবিক" বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও মূল্যায়নে কঠোরতা তুলে ধরেছেন।

পাসের হার কমার প্রধান কারণগুলো হলো:

১. শিক্ষার প্রকৃত ঘাটতি (Learning Crisis):

  • শিক্ষা উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশে শেখার সংকট শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই এবং সেই ঘাটতি বছর বছর সঞ্চিত হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এসে বড় আকারে ধরা পড়েছে।

  • দীর্ঘদিন ধরে শুধু 'ভালো' ফলাফল দেখানোর জন্য পাসের হার ও জিপিএ-৫-কে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে ধরার প্রবণতা ছিল, যা শেখার প্রকৃত ঘাটতিকে আড়াল করে রেখেছিল।
     

    বছর

    পাসের হার (%)

    ২০১৫

    ৭৪.৭৭

    ২০১৬

    ৭৮.০৫

    ২০১৭

    ৭৮.৭৭

    ২০১৮

    ৭৬.৭৪

    ২০১৯

    ৭৩.৯৭

    ২০২০

    ১০০ (অটোপাস)

    ২০২১

    ৯৫.২৬

    ২০২২

    ৮৫.৯৫

    ২০২৩

    ৭৮.৬৪

    ২০২৪

    ৭৭.৭৮

    ২০২৫

    ৫৮.৮৩

২. মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন ও কঠোরতা:

  • শিক্ষা উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবারের মূল্যায়নে "অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি" নয়, বরং "ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততা"-কে বেছে নেওয়া হয়েছে।

  • তিনি সকল শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছিলেন— যেন ফলাফলের বাস্তবতা বিকৃত না হয় এবং সীমান্তরেখায় থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায্যতা বজায় রেখে কঠোরভাবে খাতা দেখা হয়।

  • এর অর্থ হলো, আগে যে "গ্রেস মার্কস" বা কিছুটা উদারভাবে নম্বর দেওয়ার প্রবণতা ছিল, এবার তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব ফলাফলে পড়েছে।

৩. বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা:

  • ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরের মতে, শিক্ষার্থীরা ইংরেজি, গণিত এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা দেখিয়েছে, যা সামগ্রিক পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে।

৪. কোভিড-পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা:

  • এটিই প্রথম পরীক্ষা, যা কোভিড-১৯ মহামারীর পরে পূর্ণ নম্বর, পূর্ণ সময় এবং পূর্ণ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে (বিশেষ করে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২) পরীক্ষা বাতিল, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিষয় ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশিত হওয়ায় পাসের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ফেরায় পাসের হার কমেছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা এই ফলাফলকে "ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মসমালোচনার সুযোগ" হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিও শিক্ষকদের কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ জন্য সশরীরে বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

একই সঙ্গে অবসর সুবিধার অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারক চক্রের খপ্পরে না পড়তে শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বোর্ড।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট থেকে পাঠানো অবসর সুবিধা ভাতার আবেদনকারীদের মধ্যে যারা এখনো ভাতা পাননি, শুধু তাদেরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সশরীরে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে এসব কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

আবেদনকারীদের আবেদনের রিসিটের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।

ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠাতে হবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের ঠিকানায়। পাশাপাশি শাখাভিত্তিক ই-মেইলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে। স্কুল শাখার জন্য school.terbb@gmail.com, কলেজ ও কারিগরি শাখার জন্য college.terbb@gmail.com এবং মাদ্রাসা শাখার জন্য madrasha.terbb@gmail.com ঠিকানায় কাগজপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিজ্ঞপ্তিতে অবসর সুবিধাপ্রত্যাশী শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে আইবাস++ অথবা ইএফটির মাধ্যমে অবসর সুবিধার অর্থ পৌঁছে যাবে। তাই এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া অবসর সুবিধা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ এবং অনলাইন আবেদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বোর্ডের নির্ধারিত মাধ্যম থেকে এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×