‘৬ লাখ এমপিও শিক্ষককে বদলি করা সম্ভব নয়’

বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রায় ৬ লাখ শিক্ষককে অনলাইনে বদলির সুযোগ দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের বদলি করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এনটিআরসিএর ৬ লাখ শিক্ষককে অনলাইনের মাধ্যমে বদলির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আসলে শিক্ষকদের হয়রানি করা। বাস্তবে বদলি হবে না। কারণ বাংলাদেশে ২ শতাংশ শিক্ষক সরকারি এবং ৯৮ শতাংশ শিক্ষক বেসরকারি।’

তিনি বলেন, সরকারি শিক্ষকদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মন্ত্রী-সচিবদের দপ্তরে ব্যাপক চাপ থাকে। সেখানে ৬ লাখ বেসরকারি শিক্ষককে বদলির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সক্ষমতা তৈরি করা হয়নি।

‘২ শতাংশ সরকারি শিক্ষকের জন্য মন্ত্রী ও সচিবের কক্ষে যে ভিড় থাকে, তা আপনারা দেখেছেন। এই ২ শতাংশ শিক্ষককে যেখানে তারা সামলাতে পারে না, সেখানে কীভাবে ৬ লাখ শিক্ষককে সামলাবে? এটার জন্য কোনো সফটওয়্যার বা সিস্টেম তৈরি করা হয়নি। অথচ শিক্ষকদের বলা হচ্ছে, তোমরা আবেদন করো,’ বলেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা নাচতে নাচতে আবেদন করছেন, তারা মনে করছেন তাদের বদলি হয়ে গেছে। আসলে এটা শিক্ষকদের হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।’

এ সময় প্রথমে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, এ জন্য সরকারের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন নেই।

জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ

সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সেলিম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ২০১০ সালের একটি সমাবেশের আগে তিনি খালেদা জিয়াকে লিখিতভাবে জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়া জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করার কথা বলেছিলেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, তখন আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন করতে পারলে বড় একটি সমাবেশে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে তাকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

৫৪ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করা এবং শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে।

তৈরি হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য চার বিষয়ের দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে মাউশির মহাপরিচালক কর্তৃক প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বাছাই করে মাস্টার ট্রেইনার পুল প্রস্তুত করা হবে।

আবেদনে যেসব শর্ত

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই অগ্রায়ণপত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা প্রযোজ্য অন্যান্য সনদ ও অফিস আদেশ থাকলে সেগুলোর প্রমাণকও দাখিল করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর

মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত অনলাইন লিংকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠনের পর তাদের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ জানা গেল

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরাই এবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ডের তথ্যমতে, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১১+ এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২২ বছর নির্ধারিত। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী অনুমোদিত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ওইএমএন বা ইএসআইএফ বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সোনালি সেবার স্লিপ প্রিন্ট করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে শিক্ষার্থীর তথ্য ইএসআইএফ পূরণ করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। ফাইনাল সাবমিটের আগে ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

আর রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টাকা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমের জন্য রাখবে এবং ২৪ টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
 

বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যদের ওপর বর্তাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে ইআইআইএন সংগ্রহের পর সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। স্বীকৃতি হালনাগাদ না থাকলে দ্রুত স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মার্চেই এসএসসি পরীক্ষা, পেছানোর সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রমজান, মৌসুমি বৃষ্টি-বন্যা এবং পরবর্তী এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বিবেচনা করেই পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের পর তা মার্চে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ এবং পরীক্ষা আরও পেছানোর সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এক হাজারের বেশি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। তারা রোজার আগেই, ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলেন। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের একটি সম্ভাব্য সময় ধরেছিলাম।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ১০ মার্চ তা শেষ হবে। একই সঙ্গে মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এসএসসি, এরপর এইচএসসি এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা—সবকিছুর সঙ্গে সমন্বয় করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’

তার ভাষ্য, সবদিক বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি মাসকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করা হয়েছিল। তবে রমজানের কারণে ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোজা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরীক্ষা আরও পেছানোর সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘তবে পরীক্ষা পেছানোর আর কোনো কারণ নেই।’

এর আগে চীন সফর শেষে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে পাঁচটি বড় অর্জনের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করে। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ছিলেন।

সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বা টিভেট ব্যবস্থার মডেল ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। পাশাপাশি টিভেট খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সফরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

প্রধান-সহকারী প্রধান নিয়োগে থাকছে না কমিটির কর্তৃত্ব; এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতা বহাল

ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কমছে, সভাপতি পদে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাতে না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষমতা বহাল রাখা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি এনটিআরসিএর সুপারিশকৃত বা প্রত্যয়নকৃত নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতাও কমিটির হাতে থাকবে।

তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো ম্যানেজিং কমিটির কর্তৃত্ব থাকছে না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকলেও প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সভাপতি মনোনয়নে ফিরছে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

কমিটির ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে।

অর্থাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি অন্য যোগ্য ব্যক্তিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ রাখা হয়নি। তখন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে; তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম আসলে অন্যদের এ পদে বসার সুযোগ কম।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামোয় একদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কমবে, অন্যদিকে সভাপতি মনোনয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

মন্তব্য করুন

এসএসসি ২০২৬ পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের পাশাপাশি পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। একই সময়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

ফল প্রকাশের সময়: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা
ফল পাওয়া যাবে: সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে
এসএমএস: পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার স্কুল সরকারি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কে সরকারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০২৬ (১১ ভাদ্র ১৪৩৩) থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য করুন
×