চুয়েটে উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান এবং নির্ধারিত চেয়ারে বসেন।

এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

অথচ সোমবার ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিতে উপাচার্যের ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ভবনটি ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

আলটিমেটামের সময় শেষ হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মুকুট পরলেই রাজা হওয়া যায় না, স্যার। পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। এত কিছুর পরও সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে, তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করে আপনি ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা বোধগম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির কাছে শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ, সংযম ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন। উপাচার্যের এ পদক্ষেপ সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পদের মর্যাদা শুধু আসনে বসে নয়, বরং আচরণ ও গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান তিনি।

উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের প্রধান গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রাজশাহী রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব আলী সেখানে এগিয়ে গেলে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আইয়ুবের বন্ধু নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। পরে তার জ্ঞান ছিল না। কয়েকবার বমি করার পাশাপাশি তার নাক দিয়ে রক্তপাতও হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে রাবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইন অবরোধ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে লং মার্চ করেন।

আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। তিনি জানান, আইয়ুবের চিকিৎসার বিষয়ে নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না’—অধ্যাপক ড. রজব আলী

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ‘রূপালী বাংলাদেশ’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফাহিম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে কক্ষে আটকে রাখা এবং ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য (রেজিস্ট্রেশন নম্বর) দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কমিটির আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সম্প্রতি শেকৃবিতে ২০০৯-২০২৪ সালের নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা জানতে অধ্যাপক ড. রজব আলীর কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম। কার্যালয়ে পৌঁছে কমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষে তিনি বের হওয়ার সময় তাকে পুনরায় ডেকে পাঠান অধ্যাপক রজব।

এ সময় পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ওই অধ্যাপক তার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কোন বিভাগে এমএস করছেন এবং সুপারভাইজারের নাম জানতে চান। সাংবাদিক তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা জানালেও অধ্যাপক রজব আলী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।

সাংবাদিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অধ্যাপক রজব আলী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “তুমি কি আমাকে চেনো? আমি এখানে ৩২ বছর শিক্ষকতা করছি। যদি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে না চাও, তাহলে সাংবাদিকতা করতে কেন এসেছ? যদি ডিগ্রির ভয় পাও, তাহলে কেন সাংবাদিকতা করতে এসেছ?”

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন এবং প্রক্টরকে ফোন করে ওই সাংবাদিকের পরিচয় যাচাই করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে এই কমিটির তথ্য না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয় না, তিনি তাদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখেন এবং তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেন না। পরবর্তীতে শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মাহমুদ মাহিনকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর ওই সাংবাদিক কক্ষ ত্যাগ করেন।

শেকৃবিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতির নানা অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কৃষি অনুষদের এন্টোমলজি (কীটতত্ত্ব) বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। মূলত সেই তদন্ত কমিটির অগ্রগতির খোঁজ নিতে গিয়েই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সংবাদকর্মী।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম ফয়সাল বলেন, “আমি আমার পেশাগত জায়গা থেকে যতটুকু সৌজন্যতা বজায় রাখা সম্ভব, তা বজায় রেখেছি। স্যারকে আমার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানানোই আমার একমাত্র অসৌজন্যমূলক আচরণ। তিনি আমাকে কোনো ডকুমেন্ট দেখাননি বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। বরং কয়েক বান্ডিল কাগজপত্র আমার সামনে রেখে দেখিয়েছেন যে তাঁরা কাজ করছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি গোপনীয় কাজের কোনো তথ্য এখন শেয়ার করব না। তুমি এখন আসতে পারো।’

তথ্য সংগ্রহ শেষে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে ফের ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে কক্ষ থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। পরবর্তী তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালককে ফোন দিবেন বলে ভয়ভীতি দিয়েছেন এবং পরে তিনি এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন দেন। আমি বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে অবগত করি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. রজব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “শুরুতে সে নিজেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। আলোচনা চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে সে আমাকে খোঁচা দিচ্ছিল। পরে তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাইলে সে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সে যদি সত্যিই ছাত্র হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে সমস্যা কোথায়?”

সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেন প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে নিজেকে ছাত্র পরিচয় দেওয়ায় আমি তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং তাকে অনেক কাগজপত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা উচিত ছিল, সে তা বজায় রাখেনি।”

মন্তব্য করুন

রাবিতে চালু হলো ‘পেপারলেস এক্সাম’, পরীক্ষা শেষে মিলছে ফল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় খাতা-কলম ও প্রশ্নপত্র ছাড়াই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাচ্ছে ফলাফল। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে এ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ ব্যবস্থায় টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিস্টেমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তারা ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে, সঠিক উত্তর কী এবং তার ব্যাখ্যাও জানার সুযোগ রয়েছে।

সিস্টেমটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজেই প্রশ্ন তৈরি করতে এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের কারণে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাগজবিহীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, নতুন এ পরীক্ষা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ‘ই-এক্সাম’ তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। এতে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষা পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও জানান তিনি।

সিস্টেমটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা বৃদ্ধি।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আইসিই বিভাগে পদ্ধতিটি চালু করা হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি শিক্ষা।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

ঢাবির শিক্ষক তাসনিম সিরাজের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ, লাল কার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে লাল কার্ড প্রদর্শন করে তাঁরা এ প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়া একই শ্রেণিকক্ষে একটি বেঞ্চে ছয়জন ছাত্রকে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘রেড কার্ড টু রেসিস্ট, ক্লাসিস্ট অ্যান্ড হিপোক্রিট’ এবং ‘রেড কার্ড টু দোজ হু সাপোর্ট ডিসক্রিমিনেশন, হিউমিলিয়েশন অ্যান্ড বুলিং’—এমন স্লোগান দেন। এর মাধ্যমে বর্ণবাদী, শ্রেণিবিদ্বেষী ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আজ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের অন্যায়, বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে মুখে কালো কাপড় পরিধান করে এবং লাল কার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে তারা অন্যায়ের সমর্থকদের প্রতিও ঘৃণা ব্যক্ত করেন।’

এর আগে গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

মন্তব্য করুন
×