মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও এখনো নিয়োগপত্র পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জুয়েল ইসলাম। ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করলেও দ্বিতীয় দফায় অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পেলেও তার নামে এখনো নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।

জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আমি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করি। অনেকে চাকরিতে যোগদান করলেও আমি এখনো নিয়োগপত্র পাইনি।’

নিজের পারিবারিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার একটি নিম্নবিত্ত পরিবার। আমাদের সম্পদ বলতে বাড়ির জায়গা ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া পরিবারের আয়ের কোনো উপায় নেই। আমার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে।’

জুয়েল আরও বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে এসে ঢাকায় পড়াশোনা করা অসম্ভব। কিন্তু আমার পরিবারের সহায়তায় আমরা চেষ্টা করেছি। কী এক অজানা কারণে আমার নাম তালিকায় আসছে না। বিষয়টি জানতে বারবার জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেছি। তবে সেখান থেকে আমাকে সঠিক কারণ জানানো হয়নি।’

কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাই, দয়া করে আমাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুযোগ দেন। আমার খেটে খাওয়া পরিবারের জন্য হলেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বৃহস্পতিবার যোগদানের কথা ছিল। তবে সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পরে নিয়োগপত্র পেলেও এখনো অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তখনো ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই বাকি ছিল।

মন্ত্রী জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা যাচাই শেষে নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানান তিনি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলার কথা ছিল। এরপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের কথা বলা হয়েছিল।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজ ইচ্ছায় আবেদন করেননি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৫৪ জনে। এসব প্রার্থীর মধ্যেও এখনো অনেকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাননি।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ) ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

আজ বাংলাদেশের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা সারা দেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এবং এখনও সেই ক্ষত বহনকারী পরিবারগুলোর জন্য এই রায় সীমিত মাত্রায় হলেও ন্যায়বিচার এনে দিয়েছে।

আমরা বছরের পর বছরের নিপীড়নে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। যে অপরাধগুলো নিয়ে বিচার হয়েছে— তরুণ ও শিশু, যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের আদেশ, যা আমাদের আইন এবং সরকার–নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে লঙ্ঘন করেছে। এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মূল মূল্যবোধ— মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার— কে আঘাত করেছে।

প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা শুধুই সংখ্যা নন; তারা ছিলেন আমাদের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। গত কয়েক মাসের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি— এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও— ব্যবহার করা হয়েছিল। এই রায় তাদের ভোগান্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং আমাদের বিচারব্যবস্থায় অপরাধীদের জবাবদিহির নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহিতার ধারায় পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, এবং তাদের অনেকেই জীবন দিয়ে মূল্য দিয়েছেন— তাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।

সামনের পথচলায় শুধু আইনি জবাবদিহিতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য মানুষ কেন সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলে— তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সাথে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাংলাদেশে শুধু নামেমাত্র টিকে থাকবে না; এটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুদৃঢ় হবে।

মন্তব্য করুন

মাইলস্টোন দুর্ঘটনা: সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন যমজ দুই শিশু

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত দশ বছর বয়সী যমজ শিশু সারিনাহ জাহান সায়রা ও সাইবাহ জাহান সায়মা।

এ পর্যন্ত বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৩৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

আজ বুধবার সকালে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কার্যালয়ে দুই শিশুকে বিদায় জানান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।

এসময় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জন এই ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। একজনকে ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।’

দুই যমজ শিশুর মধ্যে সায়রা ৩০ শতাংশ এবং সায়মা ১৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা দগ্ধ প্রত্যেক রোগীকে আন্তরিক সেবা দিয়েছেন। তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

‘আহতদের মধ্যে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ফলোআপ চিকিৎসা দিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব বিদেশি চিকিৎসক আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।

 

দুই যমজ শিশুর বাবা-মা ইয়াসিন মজুমদার ও আকলিমা আক্তার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

মন্তব্য করুন

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’, দেওয়া হবে ট্যাব

এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এসব উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।’

মেয়েদের জন্য ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ দেওয়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিতে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটা গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে “পিংকি মোটরসাইকেল” তাদেরকে দেওয়ার জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের জটিলতায়। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি এবার বাজেট অ্যালোকেশন করেছেন জিডিপির ২ শতাংশ এবং এটাকে তিনি উন্নীত করবেন আপ টু ৫ শতাংশ।’

ড. মিলনের দাবি, শিক্ষায় এ ধরনের বড় পরিসরের বিনিয়োগ এর আগে কোনো সরকার করেনি।

মন্তব্য করুন

‘আগের মতোই অবিশ্বাস্য নিম্নমানের উপাচার্য নিয়োগ হচ্ছে’-অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

 

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আগের সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হতো, এখনো সেই ধারার পরিবর্তন হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে এমন কিছু উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের মান ‘অবিশ্বাস্য মাত্রায় নিম্নমানের’ এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘বাংলাদেশে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা: অবস্থা, প্রকৃতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আলাদাভাবে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আইনে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থাকাই যদি অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতার প্রধান শর্ত হতো, তাহলে দেশের চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ স্বাধীনতার ব্যাপক চর্চা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১১০০ শিক্ষক কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—এ মর্মে স্বাক্ষর করলেন? তাদের সবাইকে কি এ স্বাক্ষরের জন্য বাধ্য করা হয়েছিল, নাকি তারা স্বেচ্ছায় তা করেছেন—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সহজে চলে যায় না উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, অ্যাকাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ে কতটা তাগিদ, আগ্রহ ও অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

‘সমস্যা ছাত্র সংগঠনে নয়, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনে’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। তিনি জানান, ষাটের দশক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির একটি পর্যালোচনা করেছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, ছাত্র সংগঠন বা ছাত্র রাজনীতিকে সরাসরি সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠন, ছাত্র রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হলে বলতে হবে—সমস্যা ছাত্র সংগঠনে নয়, সমস্যা সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন নিয়ে।

আনু মুহাম্মদের ভাষ্য, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের বিষয়টি মূলত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এর পুরো কাঠামো রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর নির্ভরশীল এবং সমস্যাটির উৎসও সেখানেই।

আলোচনায় আরও যারা ছিলেন

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস্ রহমান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শেখ নাহিদ নিয়াজী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মী হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন
×