‘৬ লাখ এমপিও শিক্ষককে বদলি করা সম্ভব নয়’

বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রায় ৬ লাখ শিক্ষককে অনলাইনে বদলির সুযোগ দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের বদলি করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এনটিআরসিএর ৬ লাখ শিক্ষককে অনলাইনের মাধ্যমে বদলির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আসলে শিক্ষকদের হয়রানি করা। বাস্তবে বদলি হবে না। কারণ বাংলাদেশে ২ শতাংশ শিক্ষক সরকারি এবং ৯৮ শতাংশ শিক্ষক বেসরকারি।’

তিনি বলেন, সরকারি শিক্ষকদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মন্ত্রী-সচিবদের দপ্তরে ব্যাপক চাপ থাকে। সেখানে ৬ লাখ বেসরকারি শিক্ষককে বদলির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সক্ষমতা তৈরি করা হয়নি।

‘২ শতাংশ সরকারি শিক্ষকের জন্য মন্ত্রী ও সচিবের কক্ষে যে ভিড় থাকে, তা আপনারা দেখেছেন। এই ২ শতাংশ শিক্ষককে যেখানে তারা সামলাতে পারে না, সেখানে কীভাবে ৬ লাখ শিক্ষককে সামলাবে? এটার জন্য কোনো সফটওয়্যার বা সিস্টেম তৈরি করা হয়নি। অথচ শিক্ষকদের বলা হচ্ছে, তোমরা আবেদন করো,’ বলেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা নাচতে নাচতে আবেদন করছেন, তারা মনে করছেন তাদের বদলি হয়ে গেছে। আসলে এটা শিক্ষকদের হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।’

এ সময় প্রথমে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, এ জন্য সরকারের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন নেই।

জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ

সম্মেলনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সেলিম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ২০১০ সালের একটি সমাবেশের আগে তিনি খালেদা জিয়াকে লিখিতভাবে জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়া জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করার কথা বলেছিলেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, তখন আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন করতে পারলে বড় একটি সমাবেশে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে তাকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন—বরগুনা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের গভ. মুসলিম হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) মোহাম্মদ ওসমান গনি, ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান খান এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মাহফুজা খানম।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চার শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অব্যাহতি দুটি শর্তের অধীনে কার্যকর হবে।

শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তাদের নামে কোনো সরকারি পাওনা উদঘাটিত হলে তা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন এবং চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় তারা কোনো ধরনের আর্থিক বা অনার্থিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

এর মধ্যে পেনশন, আনুতোষিকসহ চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও প্রযোজ্য হবে না বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

চিকিৎসা ভাতা ৫০০, বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বড় ব্যবধান

এমপিও শিক্ষকদের ভাতা বৈষম্য নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈষম্য রয়েছে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকা এবং মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। বিপরীতে সরকারি স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। বাড়ি ভাড়াতেও রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান।

এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় তাকে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। এ ছাড়া তাদের অন্যান্য ভাতা সুবিধাও সীমিত। অন্যদিকে সরকারি হাইস্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।

এই বৈষম্য দূর করতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—জানতে চাইলে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

নবম পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

এদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নবম পে-স্কেলের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এটি কার্যকর করতে পৃথক গেজেট জারি করতে হবে।

এখনও সেই গেজেট জারি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী।

এ বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আরেকটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ জানা গেল

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরাই এবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ডের তথ্যমতে, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১১+ এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২২ বছর নির্ধারিত। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী অনুমোদিত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ওইএমএন বা ইএসআইএফ বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সোনালি সেবার স্লিপ প্রিন্ট করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে শিক্ষার্থীর তথ্য ইএসআইএফ পূরণ করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। ফাইনাল সাবমিটের আগে ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

আর রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টাকা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমের জন্য রাখবে এবং ২৪ টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
 

বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যদের ওপর বর্তাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে ইআইআইএন সংগ্রহের পর সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। স্বীকৃতি হালনাগাদ না থাকলে দ্রুত স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইকে’ যোগ দিতে ফ্রান্সে শিক্ষামন্ত্রী

ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ অংশ নিতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’ (Education in the Age of AI: Facts, Frictions, Frontiers)।

সূচি অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘Age Appropriateness and AI in Education’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেবেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘Teachers at the Center: Agency, Competencies and the Teacher-Student Relationship’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এবারের ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষকদের ভূমিকা, এআই ব্যবহারের উপযুক্ততা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×