সরকারি স্কুলে ছয় ক্যাটাগরিতে ১৪%, বেসরকারিতে ১৫% কোটা

২০২৭ সালের স্কুল ভর্তি: সরকারি-বেসরকারিতে কোটা নিয়ে নতুন প্রস্তাব

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছয় ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্যাটাগরি বাড়িয়ে মোট ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এই নীতিমালার আলোকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

এ বিষয়ে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় চাইলে নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে।’

কোন কোটায় কত শতাংশ

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ সুবিধা পেতে আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে এসব আসন সাধারণ কোটা থেকে পূরণ করা হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তারা এ সুবিধা পাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। যোগ্য শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আসন পূরণ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোনো একটি কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে নির্ধারিত নিয়মে অন্য কোটার যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে আসন পূরণ করা যাবে।

এ ছাড়া যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদর-সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো একটি কোটায় আসন খালি থাকলে তা অন্য ক্যাটাগরি দিয়ে পূরণ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই কোটার আসন শূন্য রাখা হবে না।

বেসরকারি স্কুলে বাড়ছে আরও এক কোটা

সরকারি বিদ্যালয়ের ১৪ শতাংশ কোটার বাইরে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার লক্ষ্যে এ কোটা রাখা হবে। এসব শিশু নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

ঢাকার ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ আসন

খসড়া নীতিমালায় ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। মাউশি ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বদলি হওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সুবিধা

কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১০ মাসের মধ্যে প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।

মহানগর, সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল আগের কর্মস্থল থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকবে।

বদলিজনিত কারণে ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি-শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিদ্যালয়ে আগে থেকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। একই কর্মকর্তা-কর্মচারী পরবর্তী সময়ে আগের কর্মস্থলে ফিরে এলে তাঁর সন্তানকে আগের বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত আসন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তিযোগ্য সন্তানের সংখ্যার সমানসংখ্যক অতিরিক্ত আসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

তবে বালক বিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর ভর্তিযোগ্য সন্তান বালিকা হলে নিকটবর্তী সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। একইভাবে বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর ভর্তিযোগ্য সন্তান বালক হলে নিকটবর্তী সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করা হবে।

সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কর্মরত বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকলে নিকটবর্তী উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করা হবে।

এতিম শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা

কর্মরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেলে তাঁর সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবে, সেই এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

এ ছাড়া সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এমন কোনো শিক্ষার্থী, যার বাবা-মা নেই এবং কোনো কারণে বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়, সে নতুন এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পারস্পরিক বদলিভিত্তিক ভর্তির সুযোগ

একই ভর্তি কমিটির আওতাধীন দুটি বিদ্যালয়ের সম্মতিতে শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির ভিত্তিতে ভর্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কোনো রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করতে হবে। এরপর বোর্ড নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করবে।

তবে এসব বিধান এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের সময় প্রস্তাবিত নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে।

মন্তব্য করুন

ফাতেহা-ই ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন

পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহমের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত তারিখের পরিবর্তে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

বিসিএস শিক্ষা সমিতির কোটি টাকার হিসাবে অসংগতি, অডিটে মিলেছে নানা অনিয়ম

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি’র ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদকালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম ও হিসাবের অসংগতির তথ্য উঠে এসেছে। সমিতির অডিট ও অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ভাউচার ছাড়া টাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না পাওয়া, একই খরচ একাধিকবার দেখানো এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংগঠনের অর্থ ব্যয়ের মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালে সমিতির বর্তমান কমিটির উদ্যোগে আগের কয়েক বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিট করা হয়। প্রফেসর এস এম মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি এ অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

অডিট প্রতিবেদনে সমিতির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ১৬টি অসংগতি ও ফাইন্ডিংস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় ভাউচার ছাড়া নগদ অর্থ প্রদান, একই বিল একাধিকবার উপস্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না থাকার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ লাখ টাকার ব্যয়ের হিসাব নেই

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ মেয়াদের অডিটে সমিতির বিশেষ তহবিল (মামলা) থেকে মোট ৩৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ব্যয়ের বিবরণ অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সমিতির মূল আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক-সংক্রান্ত চেক রেজিস্টার, কেনাকাটার স্টক রেজিস্টার, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্থ প্রাপ্তির রসিদ এবং বকেয়া চাঁদার বিস্তারিত হিসাবও অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাধারণ তহবিল থেকে মামলায় ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়

মামলা পরিচালনার জন্য সমিতির পৃথক বিশেষ তহবিল থাকার পরও সাধারণ তহবিল থেকে এ খাতে অর্থ ব্যয়ের তথ্য পেয়েছে অডিট কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা পরিচালনার নামে সাধারণ তহবিল থেকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এসব ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রিকুইজেশন বা প্রয়োজনীয় কার্যবিবরণী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদারও পূর্ণাঙ্গ হিসাব অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

অডিটে যেসব অনিয়মের তথ্য

অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কয়েকটি অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে শওকত হোসেন নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ কেনার তথ্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে কোনো ভাউচার ছাড়াই কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে নাসিরুল আজম বাপ্পিকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাজী হাসান ও নাজমুল নামে দুজনকে ৩ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির দুপুরের খাবারের বিল একই ভাউচারে দুইবার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এ খাতে খাবারের বিল ১৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং ফটোকপি বাবদ ১ হাজার ৫০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাশ বুকের হিসাব পাওয়া যায়নি বলেও অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অধিকাংশ ভাউচারে কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং তারিখ না থাকার বিষয়ও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমিতির মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পৃথকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করায় দুই হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অমিল দেখা যায়। ফলে সঠিকভাবে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া বিভিন্ন খরচের বিল-ভাউচারে ভ্যাট পরিশোধ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহারের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসের বিলেও কোষাধ্যক্ষ ও সম্পাদকের স্বাক্ষর না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অডিট কমিটির সুপারিশ

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ করেছে অডিট কমিটি। এর মধ্যে প্রতিটি বিল ও ভাউচারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা, ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে ক্যাশ বুক ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদে সমিতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সময়ে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর সমিতির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যা বলছেন বর্তমান সদস্য সচিব

অভিযোগের বিষয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৬ সালে আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা রেখে এসেছিলাম। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিল-ভাউচারসহ জমা দিয়েছিলাম। তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কী হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

অডিট প্রতিবেদনে উঠে আসা আর্থিক অসংগতিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার এমপিও শিক্ষকদের বদলির আবেদন নেওয়ার নির্দেশ

বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকা থেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে নির্ধারিত ছকে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বর্তমান পদের প্রথম ও সর্বশেষ এমপিও কপি, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানপত্র এবং কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর পাঠাতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান অগ্রায়নপত্রের মাধ্যমে আবেদন ফরোয়ার্ড করবেন এবং এর একটি অনুলিপি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করবেন।

বদলির আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি সংক্রান্ত নীতিমালার সব শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

তবে কোনো শিক্ষকের এমপিও স্থগিত থাকলে, তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বদলির আবেদন ফরোয়ার্ড করা যাবে না।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

১৮ দৈনিক মজুরির কর্মীর নাম নেই তালিকায়, এক দিনে ১২ গাড়ি ভাড়ায় ৯৬ হাজার টাকা

নায়েমের ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে ডিআইএর প্রশ্ন

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) হোস্টেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৬৯ হাজার ১১১ টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। এর মধ্যে হোস্টেল খাতের ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর নায়েমের জমিতে থাকা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করা ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

শুধু অর্থের হিসাব নয়, নায়েমের প্রশিক্ষণ, হোস্টেল ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সে নানা অনিয়মের তথ্য পেয়েছে ডিআইএ। এমনকি দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১৮ জন কর্মচারীকে সম্মানী ও মজুরি দেওয়া হলেও তাদের কাউকেই নায়েমের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের তালিকায় পাওয়া যায়নি।

২৬ প্রশিক্ষণের ৭৮টি টপিকে মিল

ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নায়েম পরিচালিত ২৬ ধরনের প্রশিক্ষণের মডিউল ও টপিকে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণের জন্য আলাদাভাবে মডিউল প্রণয়ন না করায় অর্থ ও সময়ের অপচয় হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে এসিইএম (ACEM) কোর্সে ১০৮টি এবং এসএসসিইএম (SSCEM) কোর্সে ১১৫টি টপিক রয়েছে। দুই কোর্সের ৭৮টি টপিকে সাদৃশ্য পেয়েছে ডিআইএ।

এসিইএম কোর্সটি সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের এবং এসএসসিইএম অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য পরিচালিত হয়। পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতার স্তর ভিন্ন হলেও দুই কোর্সে প্রায় একই ধরনের পাঠ্যসূচি অনুসরণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিআইএর মতে, এতে কোর্স দুটির স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

এ ছাড়া এসিইএম কোর্সের অনুমোদিত উদ্দেশ্য ছিল সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ পুস্তিকার মডিউল ও সিলেবাসে অনুমোদিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি পাওয়া গেছে।

হোস্টেলের অব্যয়িত ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা হয়নি

নায়েমের পাঁচটি হোস্টেলে মোট আসন রয়েছে ৫৫২টি। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এসব হোস্টেলের বিভিন্ন কোর্স বাবদ ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। বিপরীতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৫ টাকা।

তবে এসব ব্যয়ের পক্ষে কোনো স্টক রেজিস্টার বা বিল-ভাউচার নায়েম কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে ডিআইএ। বিভিন্ন ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোস্টেলের প্রকৃত আয় পুরোপুরি প্রদর্শিত হয়নি এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ছিল না। হিসাব অনুযায়ী অব্যয়িত ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয় ৩০ লাখ টাকা, জমা হয়নি কোষাগারে

নায়েমের জমিতে থাকা ক্যাফেটেরিয়া-১, লন্ড্রি, সেলুন ও মনোহারী দোকান থেকে আদায় করা অর্থ নায়েম কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নিজস্ব তহবিলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া বাবদ আদায় করা হয়েছে—

  • ক্যাফেটেরিয়া-১ থেকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা

  • লন্ড্রি থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা

  • সেলুন থেকে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫০ টাকা

  • মনোহারী দোকান থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা

সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে পাওয়া পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

সরকারি বেতন নেওয়া কর্মচারী ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে

নায়েমের রাজস্ব খাত থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া একজন কর্মচারী প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন না করে ক্যাফেটেরিয়া-১-এর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিপিআর না মেনে ক্রয়

রাজস্ব খাতের সরকারি বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে ডিআইএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে পণ্য সংগ্রহ ও পূর্ত—দুই ধরনের কাজই দেওয়া হয়েছে। পণ্য গ্রহণের জন্য কমিটি থাকলেও বাস্তবে শুধু স্টোরকিপারের মাধ্যমে পণ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

পণ্য গ্রহণের সময় গ্রহণকারী কমিটির মাধ্যমে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মান যাচাই, হিসাবসংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং একই প্রকৃতির কাজের সঙ্গে ভিন্ন প্রকৃতির আইটেম যুক্ত করে ক্রয় না করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এক দিনে ১২ গাড়ি, ভাড়া দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা

জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের ৪৫ দিনের বেসিক ট্রেনিং কোর্স হিসেবে এসইডিপির অর্থায়নে ইপিএসটি স্কিমের আওতায় ইনডাকশন ট্রেনিং পরিচালনা করে নায়েম। নিরীক্ষাকাল পর্যন্ত মোট ৪০টি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে পঞ্চম ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্স পর্যালোচনা করে ডিআইএ দেখতে পায়, দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১৮ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন ধরনের সম্মানী ও মজুরি দেওয়া হয়েছে। তবে নায়েমের দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মীদের তালিকায় তাদের কারও নাম পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অর্থ কাদের পরিশোধ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ডিআইএ।

এ ছাড়া অফিস অ্যাটাচমেন্টে থাকা ৪০ জন এবং কোর্স পরিচালকদের তিনজনের জন্য একদিনে ১২টি গাড়ি ভাড়া করা হয়। এ বাবদ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চম এসিএসডি কোর্সে অফিস অ্যাটাচমেন্টের প্রতিটি গাড়ির ভাড়া ছিল ৪ হাজার টাকা। অথচ পঞ্চম ইনডাকশন কোর্সে প্রতিটি গাড়ির ভাড়া দেখানো হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এটিকে অস্বাভাবিক বেশি বলে উল্লেখ করেছে ডিআইএ।

নিরীক্ষায় অস্বাভাবিক সংখ্যক যানবাহন ও সহায়ক জনবল ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র ও গ্রহণপত্রের ঘাটতি, পুনরাবৃত্ত সামগ্রী ক্রয় এবং যানবাহন ও জ্বালানি খাতে একই ধরনের ব্যয়ের প্রবণতাও চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্টক টেকিং নেই, পড়ে আছে অকেজো মালামাল

পরিদর্শনের সময় নায়েমের প্রশাসনিক ভবনের বেজমেন্ট ও স্টোর রুমের সামনের করিডোরে নিলামযোগ্য চেয়ার, এসি, ফটোকপি মেশিন, ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ফ্রিজ স্তুপাকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ছাড়া ১০ আসনবিশিষ্ট একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা-মেট্রো-চ-৫১-৯৬৭৩) দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকা মালামাল নিলামের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত স্টক টেকিং চালুর সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে, জেনে নিন নতুন বেতন

নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো আগামী ১ জুলাই থেকেই তাদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছে।

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই গ্রেড অনুযায়ী বাড়বে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা যেভাবে বাড়বে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একই হারে সেই সুবিধা পাবেন না। এমনকি নতুন কাঠামোয় টেলিফোন বিল পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

তিন ধাপে বাড়বে বেসিক

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন তিন ধাপে বাড়ানো হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসিক ৩০ শতাংশ বাড়বে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬৫ শতাংশ হবে। সর্বশেষ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেসিক শতভাগ বাড়বে বলে জানা গেছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে যাবে।

কোন গ্রেডে কত বেতন

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

নবম গ্রেডের প্রভাষকদের বর্তমান মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা। নতুন কাঠামোয় এই বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিএড ডিগ্রিধারীরা ১০ম গ্রেডে বেতন পান। এ গ্রেডে বর্তমানে মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।

১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

১৬তম গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা।

অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের মূল বেতন বেড়ে হবে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা একইভাবে বাড়বে না।

মন্তব্য করুন
×