ভর্তি তথ্যের সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অ্যাডমিশন হাব’

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে ভর্তি পরীক্ষা, মানবণ্টন ও নেগেটিভ মার্কিং কত, আবেদন কখন শুরু ও শেষ, ফি কত কিংবা ফলাফল কোথায়—ভর্তি-সংক্রান্ত এসব তথ্য এখন পাওয়া যাবে এক প্ল্যাটফর্মেই। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এমনই উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কোথায় কখন পরীক্ষা, কোন বিষয়ে কত নম্বর, নেগেটিভ মার্কিং কত, আবেদন কখন শুরু ও শেষ, আবেদন ফি কত কিংবা ফলাফল কোথায় প্রকাশ হয়েছে—এসব তথ্য খুঁজতে গিয়ে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতেও পড়তে হয় ভর্তি-ইচ্ছুকদের।

শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি কমিয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন সহায়ক সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম তালুকদার। তাঁর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাডমিশন হাব’। ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন।

এক প্ল্যাটফর্মে ভর্তি পরীক্ষার তথ্য

‘অ্যাডমিশন হাব’-এ পরীক্ষার সময়, তথ্য, আবেদন, অ্যাডমিট, ফলাফল, সাবজেক্ট রিভিউ এবং ভর্তি ব্লগ ও গাইড—এই সাতটি প্রধান সুবিধা রাখা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়, কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং নেগেটিভ মার্কিং কত—এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আবেদনের শুরুর ও শেষ তারিখ, বিভিন্ন বিভাগ বা ইউনিটের আবেদন ফি এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের সময়সীমা জানা যাবে এবং প্ল্যাটফর্ম থেকেই তা ডাউনলোড করা যাবে।

ফলাফলও পাওয়া যাবে এক জায়গায়

ভর্তি পরীক্ষার পর ফলাফল দেখার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যেতে হবে না। ‘অ্যাডমিশন হাব’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল এক জায়গায় দেখার সুবিধা রাখা হয়েছে।

জানা যাবে পছন্দের বিষয়ের বিস্তারিত

প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ‘সাবজেক্ট রিভিউ’। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিগ্রি ও বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

কোনো বিষয়ে কী পড়ানো হয়, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পড়ানো হয়, আসন সংখ্যা কত এবং ওই বিষয়ে পড়াশোনা শেষে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে—এসব তথ্যও পাওয়া যাবে ‘সাবজেক্ট রিভিউ’তে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিটভিত্তিক ভর্তি গাইড

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ‘অ্যাডমিশন হাব’-এ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিটভিত্তিক ভর্তি গাইড। এসব গাইডে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন, আবেদনের প্রয়োজনীয় লিংক এবং প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুষদভেদে ভর্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদাভাবে সাজানো থাকায় শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সহজে ধারণা নিতে পারবেন।

থাকছে যাতায়াতসহ বিভিন্ন সহায়ক সুবিধা

ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি সহায়ক সুবিধাও রাখা হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। আবেদন করার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি ও স্বাক্ষরের আকার নির্ধারিত মাপে পরিবর্তনের সুবিধা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন বাসের রুট ও ভাড়ার তথ্য, চলন্ত ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও বিলম্বের তথ্য, মেট্রোরেলের ভাড়ার তালিকা, সময়সূচি ও স্টেশনসংক্রান্ত তথ্য এবং ট্রেনের সময়সূচিও পাওয়া যাবে এখানে।

কৃষি গুচ্ছে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘কৃষি গুচ্ছ জিপিএ ক্যালকুলেটর’। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তাঁর এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জিপিএ অনুযায়ী কৃষি গুচ্ছে আবেদন করার জন্য যোগ্য কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।

যেভাবে উদ্যোগের শুরু

নতুন এ উদ্যোগ সম্পর্কে মো. জাহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় একজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ঘুরে ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে হয়। তিনিও শিক্ষার্থী হিসেবে এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা আসে।

তিনি বলেন, ‘‘এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে একজন শিক্ষার্থী এক জায়গা থেকেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পেতে পারে।’’

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট কমানো এবং সঠিক ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মটিতে আরও বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আসছে মোবাইল অ্যাপ

ওয়েব প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি বর্তমানে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজও চলছে। তবে অ্যাপটি এখনো চালু হয়নি। কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

‘অ্যাডমিশন হাব’ ব্যবহার করা যাবে admission.talukdaracademy.com.bd ঠিকানায়।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক দ্বিতীয়বর্ষের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৫ সালের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয়বর্ষ পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে বিতরণ করবেন। পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয় কোড অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। অন্য কোনো বিষয় কোডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

পরীক্ষার হলে উপস্থিতির সময় পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তা প্রদর্শন করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে, সেসব পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে নটর ডেম ও হলিক্রসের বিশেষ শর্ত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানীর নটর ডেম কলেজ ও হলিক্রস কলেজ। দুই কলেজেই নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জিপিএ ও অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তিচ্ছুদের জন্য কিছু বিশেষ শর্তও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

এর মধ্যে নটর ডেম কলেজ ধূমপায়ীদের আবেদন না করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হলিক্রস কলেজ জানিয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নটর ডেম কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, কলেজের আইডি কার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ধূমপায়ীদেরও আবেদন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হলিক্রস কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব নিয়ম মানতে অনাগ্রহী বা আপত্তি রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের আবেদন না করার পরামর্শ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি দেওয়া হবে। পাশাপাশি কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ও শর্তে যাদের আপত্তি রয়েছে, তাদেরও আবেদন না করার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

গুচ্ছে যুক্ত হতে চায় নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয়, একক ভর্তি পরীক্ষার পথে যবিপ্রবি

 

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এবার ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে গুচ্ছভুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নতুন তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)।

গুচ্ছে যুক্ত হতে আগ্রহী নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয় হলো—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি এখনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করলে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুচ্ছে আবেদন করবে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রায় দুই দশক আগে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান বলেন, “আমরা এই সপ্তাহেই আবেদন করব। এর আগে ইউজিসির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেব। এজন্য ঢাকা যাচ্ছি।”

ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমাদের দেশের ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম খুবই ভালো। তাই গুচ্ছের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে আনুষ্ঠানিকতা ও গতানুগতিক সুবিধা রয়েছে, সেগুলো পেলেই চলবে।”

গুচ্ছে থাকতে চায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ৫৮তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, “আমরা অবশ্যই গুচ্ছ ভর্তিতে যুক্ত হতে চাই।”

‘গুচ্ছে যুক্ত হতেই হবে’ মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনও জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০২৩ সালে। এটি দেশের ৫৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ছিল ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়’। পরে ২০২৫ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়।

মেহেরপুর জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন নিয়োগ পান। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।

উপাচার্য ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “গুচ্ছে যুক্ত হতেই হবে। কারণ আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। যেহেতু কিছুটা সময় আছে, সে অনুযায়ী আবেদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াও চলমান। গতবার আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তাই এবার গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থান পরিদর্শনের কাজ চলছে। একাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য ইউজিসি বিষয় অনুমোদনের প্রক্রিয়াও গ্রহণ করেছে।

শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। সেটির কাজ চলমান। সাবজেক্ট ও ক্লাস প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াও চলছে। এগুলোর অগ্রগতির পর আশা করি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করাতে পারব।”

গুচ্ছ ছাড়ার পথে যবিপ্রবি

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের তাগাদা দিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর প্রতিবছরই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে প্রতিবারই কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যবিপ্রবি গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো সময় ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে।

এখনো চূড়ান্ত হয়নি গুচ্ছের সময়সূচি

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া সামনে রেখে ইতোমধ্যে ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে গুচ্ছভুক্ত সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপাচার্য জানিয়েছেন, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে শিগগিরই সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে, ভর্তি পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্ব নেবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “এর আগে একটা মিটিং হয়েছে। সে মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সামনে আরও মিটিং আছে। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে কীভাবে পরীক্ষা হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নেবে।”

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের একটি মিটিং হবে। ওই মিটিংয়ের আগে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে বা কবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা মিটিংয়ের পর বলতে পারব।”

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “গুচ্ছ ভর্তি কমিটির মিটিং নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গত বছরের ভর্তি কার্যক্রমের ক্লোজিং হয়েছে কিছুদিন হলো। এবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে সিদ্ধান্তও হয়নি।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এস্টাবলিশমেন্টের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালন করেছে, গতবার দায়িত্বে ছিল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারও ধারাবাহিকভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী দায়িত্ব যাবে।”

গতবার গুচ্ছে ছিল ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায় ছিল ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, সিদ্ধান্ত বুধবার

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্তত আটটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়েছে। তবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় শুরুতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার নজির থাকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে বৈঠক করে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশের সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বুয়েট ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান রোববার (৩০ আগস্ট) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা এখনও তারিখ নির্ধারণ করিনি। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হতে এখনও মাসখানেক বাকি। ফলে পরীক্ষার ফলাফল হওয়ার আগে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ সম্ভব নয়। তবে আগামী বুধবার আমরা বসে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেব।’

এইচএসসি ফলের ওপর নির্ভর করছে ভর্তি প্রক্রিয়া

বুয়েটের ভর্তি প্রক্রিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট জিপিএর শর্ত পূরণ করে শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান। আমরা বোর্ড থেকে ফলাফল সংগ্রহ করি। তার ভিত্তিতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই।’

তিনি জানান, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রকাশে নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের বিভিন্ন তারিখে ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করেছে। ফলে ফল প্রকাশে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করা কঠিন হতে পারে।

অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হয়ে ফলাফল আসতে অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত চলে যাবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডিসেম্বর বুক করে ফেলেছে। তবে কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল না হলে তখন সময়সূচি ঠিক রাখা যাবে না। এ কারণে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। তবে বুধবার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে তোলা হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন নেই

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি আগের মতোই থাকবে। প্রাথমিক আবেদনের পর নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে আসন সংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে। তবে কতজন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নায়েব মো. গোলাম জাকারিয়াও জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ফলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করলেও বুয়েটের ক্ষেত্রে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত সময়সূচি জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

সরকারি স্কুলে ভর্তি: স্কুলে ভর্তিতে ৬৩ শতাংশই কোটা

সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি।

৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে
প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়।

প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ
ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে।

মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ,
“অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।”

অন্যান্য কোটাগুলো
নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে—

  • মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫%

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১%

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০%

  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২%

  • অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫%

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে।

অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান।

কোটা নিয়ে মতভেদ
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।”

নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে
মাউশির মহাপরিচালক  বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”

মন্তব্য করুন

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পরীক্ষা হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে।

এদিকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ও আবেদনের তথ্য তুলে ধরা হলো—

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১২ ডিসেম্বর ‘এ’ ইউনিট, ১৯ ডিসেম্বর ‘বি’ ইউনিট, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা ইউনিট এবং ২৬ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করা যাবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর। ১৭ ডিসেম্বর ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিট এবং ১৮ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে চূড়ান্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ভর্তিচ্ছুদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমআইএসটি

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট এবং ১৯ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৮ জানুয়ারি ২০২৭। ওই দিন ‘বি’ ইউনিটের (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা হবে।

প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ—এই সাতটি বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭। ওই দিন ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৮ জানুয়ারি ‘ই’ ইউনিট, ১৫ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ২২ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট এবং ২৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টায়। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

কুয়েট

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা হবে ৮ জানুয়ারি ২০২৭।

খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী—এই তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

রুয়েট

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ জানুয়ারি ২০২৭।

ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটির সভাপতি ও রুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। ওই দিন ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিট, ৩ ফেব্রুয়ারি ‘বি১’ ইউনিট, ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বি২’ ইউনিট, ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বি’ ইউনিট, ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

‘বি১’, ‘বি২’ ও ‘ডি১’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে।

চবিতে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শাবিপ্রবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি।

মেডিকেল ও ডেন্টাল

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরীক্ষার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ভর্তিচ্ছুদের প্রতি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×