ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ, ‘ভাইভা কার্ড’ ঠেকানোর হুঁশিয়ারি

নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লিখিতের গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী, ডাকসু সদস্য ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে মল চত্বর ও হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে মধুর ক্যান্টিনসংলগ্ন নির্ভীক জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিয়োগে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত পদ্ধতি থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সুপারিশ, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে ভূতে ধরেছে। ভূতের পা থাকে পেছনে, যার কারণে ভূত সামনে গেলেও পিছিয়ে যায়। বিএনপি সরকারও জনগণের ম্যান্ডেট রক্ষা না করে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা মেধাকে ধ্বংস করে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলতে শুরু করেছেন লিখিত পরীক্ষায় শুধু পাস কর, ভাইভাটা আমরা দেখছি। দলীয়দের জন্য ভাইভা কার্ড চালু করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি ২৪তম বিসিএসে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে একটি দলের অধীনে শতাধিক এসপি নিয়োগের অভিযোগও তুলে ধরেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি সরকার নিয়োগে যতই ভাইভা কার্ড নিয়ে আসার চেষ্টা করুক, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি কখনো সম্ভব হতে দেওয়া হবে না।’ নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘চব্বিশের আগে হাসিনা সরকার মেধার সামনে কোটার দেওয়াল তুলে রেখেছিল। ছাত্র-জনতা সেই দেওয়াল ভেঙেছে। তেমনি বর্তমান সরকার ভাইভার নামে যে স্বজনপ্রীতির দেওয়াল দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, সেটিও ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ভেঙে দেবে।’

ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দেক আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার নিয়োগ-বাণিজ্য ও দলীয়করণের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। সরকার যদি মনে করে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য করবে, তাহলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও জুলাইয়ের প্রাচীর গড়ে তোলা হবে।’

সমাবেশ থেকে বক্তারা নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক—উভয় ধাপেই প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সুপারিশের মাধ্যমে যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

মন্তব্য করুন

স্কুল-কলেজ নির্মাণে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের তদন্ত শুরু

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) আওতাধীন স্কুল ও কলেজের একতলা ভবন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত ৯ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক ভবনের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। অথচ বরাদ্দ অর্থের ৯০ শতাংশই ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছে, আর কাজের মানও খুব নিম্নমানের।

অনেক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 이에 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৩ অক্টোবর ইইডির প্রধান প্রকৌশলীকে পাঁচ প্রকৌশলী ও ১১ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর ইইডি আদেশ জারি করে। ১৭ নভেম্বর ওই পাঁচ প্রকৌশলী ও ১১ ঠিকাদার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশিত হয়েছেন।

অনিয়মের অভিযোগে থাকা প্রকৌশলীদের মধ্যে রয়েছেন:

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ মো. আসাদুজ্জামান

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পিআরএল) মীর মুয়াজ্জেম হোসেন

  • নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. জরজিসুর রহমান

  • ঢাকা মেট্রোর উপসহকারী প্রকৌশলী এ কে এম মনিরুজ্জামান

  • উপসহকারী প্রকৌশলী জামিল হোসেন

একাধিক সূত্রের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা ও ওএসডি প্রকৌশলী রায়হান বাদশার সঙ্গে আসাদুজ্জামান ও জরজিসুরের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে তাদের স্বপদে থাকা অবস্থায় তদন্ত কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী সাংবাদিককে জানান, “মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি কাজ করছে।”

নাটোর জেলার একাধিক স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিলমারিয়া দাখিল মাদরাসার কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২১ সালের ২২ জুন। ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজের মাত্র ৩০ শতাংশ বাকি থাকলেও ঠিকাদারকে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছে না।

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে ‘লাইসেন্স বাণিজ্য’ চলছে। দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ দেশে একাধিক জেলায় একচেটিয়া কাজ পাচ্ছে এবং লাইসেন্স ভাড়া বাবদ অর্থ রাজনৈতিক ফান্ডে যাচ্ছে। এর সঙ্গে প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান যুক্ত।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ প্রকৌশলী জরজিসুর রহমানকে অভিজ্ঞতা, বিভাগ বা মেধাক্রম ছাড়াই যান্ত্রিক নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

নাটোরের কয়েকটি স্কুল ও কলেজের নির্মাণে অসংখ্য কোটি টাকা বিল পরিশোধ হলেও কাজ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী মিলিত হয়ে বিল ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন।

তদন্ত কমিটি সোমবার সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে।

মন্তব্য করুন

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম

ফল খারাপ হলেও প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়েছে

বছর এইচএসসি সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশে পাসের হার কমলেওপ্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়েছেবলে মন্তব্য করেছেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

সরকার চেয়েছে যেন এবার প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়। তাই প্রশ্নপত্রের ধরন খাতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে সামগ্রিক ফলাফল কিছুটা কম হলেও মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “প্রশ্নের ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আগে থেকে জানালে তারা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতো।

অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কলেজের ফলাফল সন্তোষজনক। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। ভিকারুননিসা স্কুল ওরিয়েন্টেড কলেজএখানে লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের আমরা তৈরি করেছি। মেধার তারতম্য থাকতেই পারে, সবাই সমান মেধাবী নয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বছর এইচএসসিতে অংশ নেয় ,৫১৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেয় ,৪৯৫ জন এবং পাস করেছে ,৪৩৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ৮০ জন শিক্ষার্থী।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী

  • বিজ্ঞান বিভাগে: পাস করেছে ,৮০৭ জন, ফেল ৬০ জন, জিপিএ পেয়েছে ৭৯৭ জন।
  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে: পাস ৩১৬ জন, ফেল ১১ জন, জিপিএ পেয়েছে ১০৫ জন।
  • মানবিক বিভাগে: পাস ৩১১ জন, ফেল জন, জিপিএ পেয়েছে ৮৪ জন।

তিন বিভাগে মোট জিপিএ পেয়েছে ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী। অধ্যক্ষের ভাষায়, “এবারের ফলাফল হয়তো আগের মতো ঝলমলে নয়, কিন্তু এটি বাস্তব সৎ মূল্যায়নের প্রতিফলন।

 

মন্তব্য করুন

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আবারও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সময়মতো, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গত ১৬ বছরের স্বৈরতন্ত্রে টানা তিনটি নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার কার্যকর হয়নি।

একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এবং পরে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল (স্থগিত) করায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও নৌ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে কথোপকথন হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে লাখো মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশে একটি নতুন সূচনা করেছে।

যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে চলমান সংলাপ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের অপব্যবহার বেড়েই চলেছে।

এর জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর সরকার নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুই নেতা মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুহাম্মদ ইউনূস জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তরুণরা আশা হারিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন, তাই তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বঙ্গোপসাগরে গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা জাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান উড়োজাহাজ যোগাযোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান এবং জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক।

মন্তব্য করুন

পাঠ্যবই ছাপায় ফের সিন্ডিকেটের অভিযোগ, একাই ৮ লটে আনন্দ প্রিন্টার্স

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার দরপত্রে ফের ছাপাখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একাধিক লটে একক দরপত্র জমা পড়ায় এ অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যে অষ্টম ও নবম শ্রেণির আটটি লটে একমাত্র দরদাতা হিসেবে অংশ নিয়েছে আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই ছাপার আটটি লটে দরপত্র জমা দিয়েছে আনন্দ প্রিন্টার্স। এসব লটে অন্য কোনো ছাপাখানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। ফলে একক দরদাতা হিসেবে সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাব করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনসিটিবির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের প্রতি ফর্মা (৮ পৃষ্ঠা) ছাপার প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী প্রাক্কলিত দরের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি বা ১০ শতাংশ কম দর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আনন্দ প্রিন্টার্স যে আটটি লটে একক দরপত্র জমা দিয়েছে, সেগুলোতে ১৫ লাখের বেশি বই রয়েছে। এসব বই ছাপাতে কয়েক কোটি ফর্মা প্রয়োজন হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়া হলে শুধু এই আট লটের বই ছাপাতেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।’

তার অভিযোগ, ছাপাখানাগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিভিন্ন লট ভাগাভাগি করে নেওয়ায় কোনো কোনো লটে অন্য প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি। ফলে একক দরদাতা হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠান বেশি দর দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

মূল্যায়নে বাদ পড়ছে আট লট

এনসিটিবি সূত্র জানায়, একক দরপত্রের পাশাপাশি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর দেওয়ায় আনন্দ প্রিন্টার্সের আটটি লটের দরপত্র মূল্যায়নে বাদ পড়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব লটে কাজ দিলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে—এমন বিবেচনায় মূল্যায়ন কমিটি লটগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে।

লটগুলো বাতিল হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. রাব্বানী জব্বারের সঙ্গে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতার প্রতিষ্ঠান আনন্দ প্রিন্টার্স

রাব্বানী জব্বার সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। ২০২১ সালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাব্বানী জব্বার পাঠ্যবই ছাপার কাজের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে বর্তমান দরপত্রে আনন্দ প্রিন্টার্সের অংশগ্রহণ ও একক দরদাতা হওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘সিন্ডিকেট করে কাউকে লাভবান হতে দেওয়া হবে না’

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের টেন্ডার ওপেন করার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করেছেন। এটি এখন সরকারি ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি কোনো লটের রি-টেন্ডার বা পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন পড়ে, সেটা করা হবে। কাউকে সিন্ডিকেট করে লাভবান হতে দেওয়া হবে না।’

৩০ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপানো হবে

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির জন্য তিন কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবম শ্রেণির জন্য পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই রয়েছে।

এসব পাঠ্যবই ছাপাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা। বিপুল পরিমাণ এ সরকারি কাজের দরপত্রে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ব্যয় ঠেকানো নিয়ে এখন নজর রয়েছে এনসিটিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

মন্তব্য করুন

নকলের শাস্তিতে কুমিল্লার দুই কলেজ শীর্ষে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লার দুটি কলেজ। কলেজ দুটি হলো—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির ১০ জন করে মোট ২০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় পড়েছেন।

কুমিল্লার এই দুই কলেজের পরেই রয়েছে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ। এ কলেজের ৯ পরীক্ষার্থী নকলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে মোট ২৮৮ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কয়েকজনকে পরবর্তী এক থেকে চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

যেভাবে নির্ধারণ করা হয় শাস্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। এরপর অপরাধের ধরন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়।

অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়।

২১৬ জনের শুধু পরীক্ষা বাতিল

পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তি পাওয়া ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৪ জনকে পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনকে পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, নকল ও অন্যান্য অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

 

ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখনও শেষ হয়নি একটি ছোট্ট প্রাণের লড়াই। নেপালের রসুয়া জেলায় বন্যার তিন দিন পর মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা শিশুটিকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে।

রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি বেড়ে সেখানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরে গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে মাটি ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু স্থাপনা। এরপর থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খনন শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির সন্ধান মেলে। পরে তাকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে এপিএফের তিমুরে সীমান্ত চৌকিতে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃষ্টিসীমার কারণে উড্ডয়নে দেরি হয়। ফলে শিশুটিকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। উদ্ধারকারীরা শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন।

পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা

তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে উদ্ধারকর্মীদের সাহস ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন লিখেছেন, ‘যে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দলটি উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’

এদিকে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে স্বজনদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবার বা স্বজনদের সন্ধান করছে। কেউ মানিশা মাগার বা তার পরিবারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার জানিয়েছেন, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে গবেষণা ও মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বন্যার ভয়াবহতায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নেপালে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিন মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ছয় বছরের মানিশা মাগারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পরও শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে উদ্ধারকর্মীদের মধ্যেও। এখন তার দ্রুত সুস্থতা এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় সবাই।

মন্তব্য করুন
×