যাত্রী সংকটে পিংক বাস, প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান বিআরটিসির

সীমিত রুট, প্রচারের ঘাটতি ও যাত্রীসংকটে ধুঁকছে নারীদের জন্য চালু করা বিশেষায়িত পিংক বাস সেবা। গত ১৮ আগস্ট চালুর পর থেকেই এ সেবা পরিচালনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পিংক বাস চালুর আগে মাঠপর্যায়ে গবেষণা ও যাত্রীদের চাহিদা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, সেবাটি সম্প্রসারণে বহরে বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

রাজধানীর গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় নারীরা প্রায়ই অস্বস্তি, হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে গত ১৮ আগস্ট মহিলা বাস সার্ভিস বা পিংক বাস চালু করে বিআরটিসি।

তবে চালুর পর থেকে এ সেবায় প্রত্যাশিত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বাসের আসন ফাঁকা থাকছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দিনে মাত্র দুটি ট্রিপ পরিচালিত হয়—একটি সকালে, অন্যটি বিকেলে। নির্ধারিত সময়ে বাস ধরতে না পারলে তাঁদের নিয়মিত বাস, রিকশা কিংবা অন্য পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, পিংক বাস চালুর উদ্যোগটি যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। রুট নির্ধারণ, ট্রিপের সংখ্যা, সময়সূচি এবং যাত্রীদের যাতায়াতের ধরন নিয়ে কার্যকর মাঠপর্যায়ের গবেষণা করা হলে বর্তমান সমস্যাগুলোর অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে, যেখানে গণপরিবহনের চাহিদা অনেক বেশি, সেখানে শুধু নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।

তবে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, পিংক বাস সেবা গ্রহণে নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে বহরে বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, পিংক বাস সেবাটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। সরকার যখন বৈদ্যুতিক বাস চালু করবে, তখন পিংক বাসের বহরেও বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করা হবে।

বর্তমানে রাজধানীতে ১০টি পিংক বাস চলাচল করছে। এ সেবার আওতা বাড়াতে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

মন্তব্য করুন

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’, দেওয়া হবে ট্যাব

এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এসব উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।’

মেয়েদের জন্য ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ দেওয়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিতে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটা গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে “পিংকি মোটরসাইকেল” তাদেরকে দেওয়ার জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের জটিলতায়। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি এবার বাজেট অ্যালোকেশন করেছেন জিডিপির ২ শতাংশ এবং এটাকে তিনি উন্নীত করবেন আপ টু ৫ শতাংশ।’

ড. মিলনের দাবি, শিক্ষায় এ ধরনের বড় পরিসরের বিনিয়োগ এর আগে কোনো সরকার করেনি।

মন্তব্য করুন

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পুননির্ধারণ শুরু আজ

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার পাশাপাশি জুলাই থেকে প্রাপ্য কয়েক মাসের বকেয়াও সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস++-এর বিশেষ পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এ জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া মূল বেতনের তথ্য দিতে হবে।

এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্যও যাচাই করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী প্রত্যেকের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্য এবং নতুন বেতন কার্যকরের সময় বিবেচনায় নিয়ে বকেয়া অর্থের হিসাব করা হবে। ফলে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সমপরিমাণ বকেয়া পাবেন না। গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ইতিহাসের ওপর নির্ভর করবে বকেয়ার পরিমাণ।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম দুই ধাপ বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোর কারণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় অংশ আগামী দুই অর্থবছরে বহন করতে হবে।

তবে পে ফিক্সেশন করতে গিয়ে কিছু জটিলতারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে আগের বেতনকাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা একাধিক উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে কারিগরি ও প্রশাসনিক কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছে অর্থ বিভাগ।

পে ফিক্সেশনের জন্য অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় যাচাই করবে। তথ্য ও নথির মধ্যে কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই থেকে প্রাপ্য বকেয়া অর্থের হিসাবও নির্ধারণ করা হবে। ফলে চলতি মাসেই নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম সুবিধার পাশাপাশি কয়েক মাসের বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর এ ভাষণে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

জাতীয় পর্যায়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য করুন
×