বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

বিসিএস থেকে সরকারি প্রাথমিকে স্বপ্নের সোপান: ১১১ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১১১ জন প্রধান শিক্ষক (নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে মেধাবী অথচ পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার সার্ভিসে স্থান পাননি, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এমন যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) সচিবালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এই মেধাবীরা এখন দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেলেন। আজ (বুধবার) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সুযোগ ও সম্মানের নতুন দিগন্ত

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-১২ (টাকা ১১,৩০০-২৭, ১৩০) বেতনে যোগদান করবেন। এটি কেবল একটি চাকরি নয়, বরং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি মহৎ দায়িত্ব।

 

নিয়মাবলীতে ভবিষ্যতের হাতছানি

নতুন প্রধান শিক্ষকদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও শর্তাবলী দেওয়া হয়েছে, যা তাদের পেশাগত জীবনে শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পথ দেখাবে:

১. শিক্ষানবিশকাল: যোগদানের পর প্রথম দুই বছর তাদের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। এই সময়কাল তাদের দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২. যোগদানের সময়সীমা: নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবশ্যই ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে তাদের পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগদান করতে ব্যর্থ হলে, তাদের নিয়োগ আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। ৩. আবশ্যিক প্রশিক্ষণ: মানসম্পন্ন পাঠদান ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে, যোগদানের পরবর্তী চার (৪) বছরের মধ্যে তাদের ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি)’ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৪. যোগদান প্রক্রিয়া: শিক্ষকেরা তাদের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করবেন। অফিসার যোগদানপত্র গ্রহণপূর্বক তাদের একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন, যা তাদের সরকারি শিক্ষক হিসেবে নতুন জীবনের সূচনা নিশ্চিত করবে।

এই নিয়োগের মাধ্যমে মেধাবী তরুণদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো, যা নিঃসন্দেহে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এক নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করবে।

মন্তব্য করুন

বেতন–পদোন্নতির দাবিতে রাস্তায় শিক্ষকরা, ক্লাস বন্ধ এক কোটি শিক্ষার্থীর

সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে দেশের সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থী পাঠচ্যুত হয়েছে।

বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকরা পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে।

শাহবাগে হামলার পর কর্মসূচি এগিয়ে আনলেন শিক্ষকরা : ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। মূলত ১৫ নভেম্বরের পর কর্মবিরতির পরিকল্পনা থাকলেও, শনিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার পরই শিক্ষকরা তা আগাম শুরু করেন।

সংগঠনের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের ওপর হামলায় বহু শিক্ষক আহত হয়েছেন, কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের শিক্ষকরা একযোগে ক্লাস বর্জন করেছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”

তিনি আরও জানান, তারা ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে “স্কুলে তালা ঝুলিয়ে” দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষার তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রজব আলী বলেন,

“আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এখন ক্লাস বন্ধ থাকায় তার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এক বছরে দ্বিতীয় দফা আন্দোলন

চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কর্মবিরতিতে গেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর আগে মে মাসে তারা ধাপে ধাপে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা এবং আধাবেলা কর্মবিরতি পালনের পর ২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের আশ্বাসে ১ জুন তারা ক্লাসে ফেরেন। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।


১১তম গ্রেডের আশ্বাস, শিক্ষকদের দাবি ১০ম গ্রেড

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতা আবুল কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন নতুন পে-কমিশনের আলোকে তারা ১০ম গ্রেডের দাবি তুলেছেন।

“সরকার বলছে ১১তম গ্রেড দেবে, কিন্তু এখনো অনুমোদন দেয়নি। তাই আমরা দশম গ্রেডের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি,” বলেন তিনি।


‘দশম গ্রেড যৌক্তিক নয়’—অভিযোগ উপদেষ্টার

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,

“প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন, তাই সহকারী শিক্ষকদের এক লাফে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে আনা সম্ভব নয়। আমরা ১১তম গ্রেডের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানও জানান,

“সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছি। অনুমোদন পেলেই তা কার্যকর হবে।”


শিখন ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা

তিনি আরও বলেন,

“বার্ষিক পরীক্ষার আগে এ কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ফেলবে। বই পেতে দেরি, আগের কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে শিখন ঘাটতি অনেক বেড়েছে।”

মন্তব্য করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন শুরু ৮ নভেম্বর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম ধাপে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আজ, ৮ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রার্থীদের জন্য বেতন হবে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ত্রয়োদশ গ্রেডে। আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাত

মন্তব্য করুন

প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বিনামূল্যের ড্রেস-জুতা-ব্যাগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য স্কুল ড্রেস, জুতা ও স্কুল ব্যাগ জেলা পর্যায়ে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে ইতোমধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার সেট স্কুল ড্রেস, ৬৭ হাজার ৯০০ জোড়া জুতা এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ২১৬টি স্কুল ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে এসব সামগ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

প্রাপ্ত স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ ৬৪ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নিরাপদে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের মৌখিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের এসব সামগ্রী সংরক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা সামগ্রীগুলো গ্রহণ করবেন।

কোন বিভাগ কবে পাবে

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলা ২২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব জেলা ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলা ২৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর এসব সামগ্রী গ্রহণ করবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নির্ধারিত সময়ে স্কুল ড্রেস, জুতা ও স্কুল ব্যাগ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

চরাঞ্চলের স্কুলে পাঠদান বন্ধ, শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী আবাস গড়ে উঠেছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদী বেষ্টিত দিয়ারা নাড়িকেল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আবাসিক হোটেলের মতো ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে বাইরের শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার জায়গা হিসেবে।

এ অঞ্চলের আরও অন্তত দশটি বিদ্যালয়ে একই চিত্র— কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, আবার কোথাও শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শিক্ষক অনুপস্থিত। ফলে বিদ্যালয়গুলো কাগজে-কলমে চালু থাকলেও বাস্তবে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী বেষ্টিত এই এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে বাইরের কৃষি শ্রমিকরা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সম্প্রতি কিছু স্কুল কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “কিছু মানুষ এখন বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকে, রান্না-বান্নাও করে। শুনেছি তারা টাকা দিয়ে ঘর ব্যবহার করে। এটা তো সরকারি স্কুল— এমন হওয়া ঠিক নয়।”

চরখুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “স্থানীয় মাতব্বর মান্নান শিকদার তার আবাদি জমিতে কাজের জন্য বাইরে থেকে কিছু শ্রমিক এনেছেন। তারাই স্কুলে অবস্থান করছেন। ভাড়া দেওয়া হয়নি, তারা জোর করে আছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।”

শিক্ষার্থী না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী খুবই কম। একটি রুমেই কষ্ট করে ক্লাস নিতে হয়।”

একই অবস্থা ইউনিয়নের মোজাফফরপুর, বিশ্বনাথপুর আকন্দি, নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি ও কটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, কোথাও আবার উল্টো। শ্রেণিকক্ষ ধুলায় ঢাকা, মাঠে নেই শিশুদের কোলাহল।

স্থানীয় অভিভাবক রফিক শেখ বলেন, “আমাদের এলাকার স্কুলগুলো শুধু নামেই আছে। শিক্ষকরা মাসে এক-দুদিন এসে সই করে চলে যান। বাচ্চারা পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে।”
রোকেয়া বেগম বলেন, “আমরা চাই সন্তানরা স্কুলে যাক, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক না হলে এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

অন্যদিকে, শিক্ষকরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। নৌযান সংকট, নদীর স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

মোজাফফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া সত্যিই কঠিন। বর্ষাকালে নদীর স্রোতের কারণে নৌকা পাওয়া যায় না।”
বিশ্বনাথপুর আকনকান্দি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, “অনেক সময় নৌকা না পেলে পুরো দিনই স্কুলে পৌঁছানো যায় না। তাই কখনো কখনো দুপুরে ছুটি দিতে হয়।”

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভাড়া দেওয়া বা শ্রমিক থাকার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র: আরটিভি নিউজ

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: ৫৩৪ বিদ্যালয়ে ২৬১৭ কোটি টাকার ‘রূপান্তর যাত্রা’ শুরু

 দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও মানসম্মত করতে এক বিশাল অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচির সূচনা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। প্রায় ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে, সারাদেশের ৫৩৪টি নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেহারা পাল্টে দেওয়ার এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

‘বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১০টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায়, গ্রামীণ ও নগরীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এক নতুন রূপে সেজে উঠবে।

 

যেসব স্কুলে আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক সাম্প্রতিক চিঠিতে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি প্রধান ধারার বিদ্যালয় উপকৃত হবে:

১. মডেল স্কুলসমূহ: ৬৪টি জেলার বিদ্যমান ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলগুলোর তথ্য ইতিমধ্যেই আইপিইএমআইএস সিস্টেম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ২. সিটি কর্পোরেশন এলাকার স্কুলসমূহ: দেশের ১০টি সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে নির্বাচিত ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ৪৬টি বিদ্যালয়ের তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক প্রত্যয়নসহ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।

 

২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকার রূপরেখা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ (২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা) ব্যয় হবে বিদ্যালয়ের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • আধুনিক শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ: শিক্ষার্থীদের আরামদায়ক ও কার্যকর পাঠদানের পরিবেশ সৃষ্টি।

  • স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন: স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার মান নিশ্চিত করা।

  • বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ: নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

  • প্রশাসনিক ভবনের আধুনিকায়ন: শিক্ষকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি।

  • খেলার মাঠের উন্নয়ন: শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত খেলার পরিবেশ তৈরি।

 

সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সঠিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪৬টি বিদ্যালয়ের তালিকা প্রেরণের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যয়নপত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। এর ফলস্বরূপ, শিশুরা বিদ্যালয়ে আসার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হবে এবং জাতি গঠনের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

এই প্রকল্প কেবল ইট-সিমেন্টের উন্নয়ন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত শিক্ষণ-শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার এক সুদূরপ্রসারী বিনিয়োগ, যা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

মন্তব্য করুন

ডিপিএডের মানোন্নয়ন পরীক্ষা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর, রুটিন প্রকাশ

ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানোন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ পরীক্ষা চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

নেপের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে এ সুযোগ কেবল প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

পরীক্ষার সূচি

১০ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষা পরিচিতি ও শিক্ষাদর্শন এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিখন মূল্যায়ন ও ফলাবর্তন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষণ পদ্ধতি-কৌশল ও শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষাক্রম ও শিখন সামগ্রী পরীক্ষা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিশুর বিকাশ ও শিখন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন-বাংলা পরীক্ষা হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাণিতিক দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই এ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি হননি—এমন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানাবেন। প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে নির্ধারিত গোপনীয় ই-মেইলে পাঠানো হবে। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট নিজে ই-মেইল পরিচালনা করবেন এবং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

পরীক্ষার হলে বই, খাতা, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি, ল্যাপটপসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া যাবে না।

প্রতিটি পরীক্ষা শেষে নেপ থেকে পাঠানো কোড নম্বর ব্যবহার করে উত্তরপত্র কোডিং করতে হবে। এরপর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতিসংক্রান্ত ইউনিটভিত্তিক উত্তরপত্র মিলিয়ে প্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য ২০০ টাকা বীমাকৃত পার্সেলের মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রথম সেমিস্টারের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী আবারও অনুত্তীর্ণ হলে ভবিষ্যতে তাকে আর মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়নি।

এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন, অনিয়ম বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে ডিপিএড নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন
×