মিড-ডে মিলে নতুন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে নতুন পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে কুপন ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন দেওয়া হবে। ওই কুপন দিয়ে স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্ত খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে তারা।

তবে তালিকাভুক্ত দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছে পছন্দের খাবার না পেলে শিক্ষার্থী খাবার কিনবে না এবং কুপনের অর্থ তার কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করা হবে। শিক্ষার্থীরা ওই তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কুপনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যদি তালিকাভুক্ত দোকানে বা ব্যবসায়ীর কাছে পছন্দ অনুযায়ী খাবার না পায়, তখন কিনবে না। কুপনের অর্থ শিক্ষার্থীর কাছেই থাকবে।’

মন্ত্রী জানান, কুপনভিত্তিক মিড-ডে মিলের এই পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

বিনামূল্যের বইয়ের মান নিয়েও সতর্ক মন্ত্রণালয়

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের বইয়ের মান নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বইয়ের মান নিশ্চিত করতে পাঁচ স্তরে যাচাই করা হচ্ছে। মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট বই বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘কেউ কাগজের মান খারাপ দিলেই সেই বই বাতিল করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ বই কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পরও কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বই সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে যাওয়ার পরও যদি কোনো বইয়ের মান খারাপ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রিন্টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

ক্লাস চলাকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেঝে ধসে আহত ৫ শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মেঝের একাংশ ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির একটি কক্ষে ক্লাস চলছিল। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঝের একাংশ নিচের দিকে ধসে পড়ে। এতে কক্ষে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাহিম বাদশা, মো. আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। তারা সবাই বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সবুতর নেছা বলেন, ‘ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝে ধসে পড়ে। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তারা সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেঝের এক পাশের বালি ও মাটি সরে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়টির ভবনটি নতুন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার কারণ এবং ভবনের অবস্থা যাচাই করতে এলজিইডির প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন চলবে

সরকারি আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিতের পর ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

সরকারি আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা। তারা জানিয়েছেন, চলমান কর্মবিরতি ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি একসঙ্গে চলবে। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় শিক্ষক নেতারা অর্থসচিব ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকে বসবেন।

এর আগে রোববার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।

বৈঠকে উপস্থিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ জানান, বৈঠকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন, এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।

বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বাস দেয় যে এসব দাবি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং দ্রুততম সময়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন, তবে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু এরপরই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে মতানৈক্য তৈরি হয়। শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষক ও নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন। সবশেষ রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমান জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, কর্মবিরতি স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, কেউ ভুলভাবে প্রচার করে থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আগামীকাল লক্ষাধিক শিক্ষক কেন্দ্রীয় অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। শিক্ষকদের ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে বহু শিক্ষক আহত হন। পরে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং রোববার থেকে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক পাঠদান থেকে বিরত থাকেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। কর্মবিরতি শুরুর পর থেকে এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করলেও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড ১৩তম থেকে ১২তম করার প্রস্তাব দেয়। এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন।

মন্তব্য করুন

শিক্ষকদের ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি অযৌক্তিক: গণশিক্ষা উপদেষ্টা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেড থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার যে দাবি তুলেছেন, সে বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার মন্তব্য করেছেন যে, এক লাফে ১০ম গ্রেডে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। তিনি বলেন, অধিকাংশ সহকারী শিক্ষকই মনে করেন, এ দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও সাধারণ শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাদের একই গ্রেডে আনা সম্ভব নয়। তাই একবারে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে, তিনি জানিয়েছেন যে, সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডের সুযোগ তৈরি করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি, এ মুহূর্তে আন্দোলনে যাওয়াকে অযৌক্তিক মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক রায় পোদ্দার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে এসব মন্তব্য করেন। সভায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষকদের নৈতিকতা, ব্যবহারিক দক্ষতা, সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে, তিনি আরও জানান, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। এখন ৮০ শতাংশ পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, যা আগে ছিল ৬৫ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

চরাঞ্চলের স্কুলে পাঠদান বন্ধ, শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী আবাস গড়ে উঠেছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদী বেষ্টিত দিয়ারা নাড়িকেল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আবাসিক হোটেলের মতো ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে বাইরের শ্রমিকদের অস্থায়ী থাকার জায়গা হিসেবে।

এ অঞ্চলের আরও অন্তত দশটি বিদ্যালয়ে একই চিত্র— কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, আবার কোথাও শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শিক্ষক অনুপস্থিত। ফলে বিদ্যালয়গুলো কাগজে-কলমে চালু থাকলেও বাস্তবে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী বেষ্টিত এই এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে বাইরের কৃষি শ্রমিকরা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সম্প্রতি কিছু স্কুল কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “কিছু মানুষ এখন বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকে, রান্না-বান্নাও করে। শুনেছি তারা টাকা দিয়ে ঘর ব্যবহার করে। এটা তো সরকারি স্কুল— এমন হওয়া ঠিক নয়।”

চরখুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “স্থানীয় মাতব্বর মান্নান শিকদার তার আবাদি জমিতে কাজের জন্য বাইরে থেকে কিছু শ্রমিক এনেছেন। তারাই স্কুলে অবস্থান করছেন। ভাড়া দেওয়া হয়নি, তারা জোর করে আছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি।”

শিক্ষার্থী না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী খুবই কম। একটি রুমেই কষ্ট করে ক্লাস নিতে হয়।”

একই অবস্থা ইউনিয়নের মোজাফফরপুর, বিশ্বনাথপুর আকন্দি, নুরুদ্দিন সরদারেরকান্দি ও কটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু শিক্ষার্থী নেই, কোথাও আবার উল্টো। শ্রেণিকক্ষ ধুলায় ঢাকা, মাঠে নেই শিশুদের কোলাহল।

স্থানীয় অভিভাবক রফিক শেখ বলেন, “আমাদের এলাকার স্কুলগুলো শুধু নামেই আছে। শিক্ষকরা মাসে এক-দুদিন এসে সই করে চলে যান। বাচ্চারা পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে মাদ্রাসায় চলে যাচ্ছে।”
রোকেয়া বেগম বলেন, “আমরা চাই সন্তানরা স্কুলে যাক, কিন্তু শিক্ষক না থাকায় তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক না হলে এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

অন্যদিকে, শিক্ষকরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। নৌযান সংকট, নদীর স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

মোজাফফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া সত্যিই কঠিন। বর্ষাকালে নদীর স্রোতের কারণে নৌকা পাওয়া যায় না।”
বিশ্বনাথপুর আকনকান্দি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, “অনেক সময় নৌকা না পেলে পুরো দিনই স্কুলে পৌঁছানো যায় না। তাই কখনো কখনো দুপুরে ছুটি দিতে হয়।”

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভাড়া দেওয়া বা শ্রমিক থাকার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্র: আরটিভি নিউজ

মন্তব্য করুন

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ: ১৬৫ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'স্কুল ফিডিং' কর্মসূচি শুরু হচ্ছে নভেম্বরে

আগামী নভেম্বর মাস থেকে দেশের ১৬৫টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পেতে শুরু করবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালক জানান, নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখ থেকে এই 'স্কুল ফিডিং' কার্যক্রমটি চালু হবে। কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৬৫টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩১ লাখ শিশুকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, সপ্তাহে পাঁচ দিন শিশুদের ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি, বিস্কুট এবং দেশীয় ফলসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যতিক্রম: দারিদ্র্যের হার অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য ব্যবহার করে প্রতিটি জেলা থেকে সবচেয়ে দরিদ্র একটি করে উপজেলাকে এই কর্মসূচির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার দেওয়া হবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সকল উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।

মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার যেমন—ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি, উন্নত মানের বিস্কুট ও মৌসুমি ফল সরবরাহ করার মাধ্যমে শিশুরা স্কুলে আরও বেশি মনোযোগী হবে এবং তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

মন্তব্য করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: আবেদন শুরু ৮ নভেম্বর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম ধাপে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আজ, ৮ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রার্থীদের জন্য বেতন হবে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ত্রয়োদশ গ্রেডে। আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাত

মন্তব্য করুন
×