শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু

সম্প্রতি দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি শুরু হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এই বিষয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, ছুটি শুধুমাত্র ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮ অক্টোবর থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। ৮ ও ৯ অক্টোবর শুধুমাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তবে স্কুল খুলে যাবে।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির বিষয়, এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোনো ছুটি বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, তারা ভুল করেছে। সঠিক তথ্য পেতে চাইলে মাউশিতে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 
মন্তব্য করুন

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

জাতীয় নির্বাচন: সকল সংশয় দূর, ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ নির্বাচন - প্রেস সচিব

প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "নির্বাচন নিয়ে যত সংশয় ছিল, সব ধুয়েমুছে গেছে। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।" তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে দীর্ঘ ১৬ বছর 'ফেক ইলেকশন' দেখার পর এবার জনগণ 'রিয়েল ইলেকশন' দেখবে। তাঁর মতে, "এবার ইতিহাসের অন্যতম একটা সেরা নির্বাচন হবে।"

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি আমেজ শুরু হয়ে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে হালুয়াঘাটে নেতাদের পোস্টার দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে দলগুলো যখন আগামী দুই-তিন সপ্তাহ পর থেকে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করবে, তখন নির্বাচনি পরিবেশ আরও বেশি জমজমাট হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

গণতন্ত্রের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (১৬ নভেম্বর) প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমান সময়টা জটিল সংকটে পড়েছে।

ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কিছু গোষ্ঠি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আসন্ন গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন, যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি। বিএনপির প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে, কারণ তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

আজ বাংলাদেশের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা সারা দেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এবং এখনও সেই ক্ষত বহনকারী পরিবারগুলোর জন্য এই রায় সীমিত মাত্রায় হলেও ন্যায়বিচার এনে দিয়েছে।

আমরা বছরের পর বছরের নিপীড়নে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। যে অপরাধগুলো নিয়ে বিচার হয়েছে— তরুণ ও শিশু, যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের আদেশ, যা আমাদের আইন এবং সরকার–নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে লঙ্ঘন করেছে। এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মূল মূল্যবোধ— মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার— কে আঘাত করেছে।

প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা শুধুই সংখ্যা নন; তারা ছিলেন আমাদের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। গত কয়েক মাসের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি— এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও— ব্যবহার করা হয়েছিল। এই রায় তাদের ভোগান্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং আমাদের বিচারব্যবস্থায় অপরাধীদের জবাবদিহির নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহিতার ধারায় পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, এবং তাদের অনেকেই জীবন দিয়ে মূল্য দিয়েছেন— তাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।

সামনের পথচলায় শুধু আইনি জবাবদিহিতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য মানুষ কেন সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলে— তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সাথে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাংলাদেশে শুধু নামেমাত্র টিকে থাকবে না; এটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুদৃঢ় হবে।

মন্তব্য করুন
×