সফটওয়্যারে সমস্যা নেই, তবুও আটকে এমপিও শিক্ষকদের বদলির ফল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি সফটওয়্যারে জটিলতার কথা বলা হলেও বাস্তবে সফটওয়্যারে কোনো সমস্যা নেই বলে জানা গেছে। সফটওয়্যারে জটিলতা না থাকার পরও বদলির ফল প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বদলির আবেদন করা শিক্ষকদের আবেদন সম্পাদনার (এডিট) সুযোগ চালু, আবেদন বাতিলের সুযোগ চাওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে শিক্ষকদের ঢাকায় বদলি হওয়ার আগ্রহই বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক সূত্র জানায়, বদলির জন্য আবেদন করা অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে আগ্রহী। তাদের কেউ কেউ স্বামী বা স্ত্রীর (স্পাউজ) কর্মস্থল ঢাকায় দেখিয়ে বদলির আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ঢাকায় চলে এলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টিও বদলির ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বদলি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষক সম্পৃক্ত থাকেন। এ সময়ে তাদের বদলি করা হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত বদলির ফল প্রকাশে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের আবেদন বাতিলের সুযোগ দেওয়া কিংবা আবেদন সম্পাদনার (এডিট) অপশন চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের মাধ্যমে বদলির ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না করার পেছনে একেক সময় একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা সম্ভব। তবে কেন করা হচ্ছে না, সেটি আসলে বোধগম্য নয়।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বদলি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা কষ্টে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত অনেক শিক্ষক ফোন করে তাদের কষ্টের কথা আমাদের জানান। আমরাও চাই দ্রুত বদলির ফল প্রকাশিত হোক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।”

এদিকে শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় সংসদে সভা থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সভায় রয়েছেন বলে জানানো হয়।

এ অবস্থায় বদলির সফটওয়্যারে কোনো জটিলতা না থাকলেও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বদলির ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

বিসিএস শিক্ষা সমিতির কোটি টাকার হিসাবে অসংগতি, অডিটে মিলেছে নানা অনিয়ম

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি’র ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদকালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম ও হিসাবের অসংগতির তথ্য উঠে এসেছে। সমিতির অডিট ও অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ভাউচার ছাড়া টাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না পাওয়া, একই খরচ একাধিকবার দেখানো এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংগঠনের অর্থ ব্যয়ের মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালে সমিতির বর্তমান কমিটির উদ্যোগে আগের কয়েক বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিট করা হয়। প্রফেসর এস এম মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি এ অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

অডিট প্রতিবেদনে সমিতির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ১৬টি অসংগতি ও ফাইন্ডিংস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় ভাউচার ছাড়া নগদ অর্থ প্রদান, একই বিল একাধিকবার উপস্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না থাকার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ লাখ টাকার ব্যয়ের হিসাব নেই

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ মেয়াদের অডিটে সমিতির বিশেষ তহবিল (মামলা) থেকে মোট ৩৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ব্যয়ের বিবরণ অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সমিতির মূল আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক-সংক্রান্ত চেক রেজিস্টার, কেনাকাটার স্টক রেজিস্টার, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্থ প্রাপ্তির রসিদ এবং বকেয়া চাঁদার বিস্তারিত হিসাবও অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাধারণ তহবিল থেকে মামলায় ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়

মামলা পরিচালনার জন্য সমিতির পৃথক বিশেষ তহবিল থাকার পরও সাধারণ তহবিল থেকে এ খাতে অর্থ ব্যয়ের তথ্য পেয়েছে অডিট কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা পরিচালনার নামে সাধারণ তহবিল থেকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এসব ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রিকুইজেশন বা প্রয়োজনীয় কার্যবিবরণী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদারও পূর্ণাঙ্গ হিসাব অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

অডিটে যেসব অনিয়মের তথ্য

অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কয়েকটি অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে শওকত হোসেন নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ কেনার তথ্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে কোনো ভাউচার ছাড়াই কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে নাসিরুল আজম বাপ্পিকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাজী হাসান ও নাজমুল নামে দুজনকে ৩ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির দুপুরের খাবারের বিল একই ভাউচারে দুইবার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এ খাতে খাবারের বিল ১৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং ফটোকপি বাবদ ১ হাজার ৫০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাশ বুকের হিসাব পাওয়া যায়নি বলেও অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অধিকাংশ ভাউচারে কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং তারিখ না থাকার বিষয়ও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমিতির মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পৃথকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করায় দুই হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অমিল দেখা যায়। ফলে সঠিকভাবে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া বিভিন্ন খরচের বিল-ভাউচারে ভ্যাট পরিশোধ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহারের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসের বিলেও কোষাধ্যক্ষ ও সম্পাদকের স্বাক্ষর না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অডিট কমিটির সুপারিশ

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ করেছে অডিট কমিটি। এর মধ্যে প্রতিটি বিল ও ভাউচারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা, ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে ক্যাশ বুক ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদে সমিতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সময়ে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর সমিতির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যা বলছেন বর্তমান সদস্য সচিব

অভিযোগের বিষয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৬ সালে আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা রেখে এসেছিলাম। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিল-ভাউচারসহ জমা দিয়েছিলাম। তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কী হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

অডিট প্রতিবেদনে উঠে আসা আর্থিক অসংগতিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুন

সরকারি স্কুলে ছয় ক্যাটাগরিতে ১৪%, বেসরকারিতে ১৫% কোটা

২০২৭ সালের স্কুল ভর্তি: সরকারি-বেসরকারিতে কোটা নিয়ে নতুন প্রস্তাব

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছয় ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্যাটাগরি বাড়িয়ে মোট ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এই নীতিমালার আলোকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

এ বিষয়ে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় চাইলে নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে।’

কোন কোটায় কত শতাংশ

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ সুবিধা পেতে আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে এসব আসন সাধারণ কোটা থেকে পূরণ করা হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তারা এ সুবিধা পাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। যোগ্য শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আসন পূরণ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোনো একটি কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে নির্ধারিত নিয়মে অন্য কোটার যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে আসন পূরণ করা যাবে।

এ ছাড়া যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদর-সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো একটি কোটায় আসন খালি থাকলে তা অন্য ক্যাটাগরি দিয়ে পূরণ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই কোটার আসন শূন্য রাখা হবে না।

বেসরকারি স্কুলে বাড়ছে আরও এক কোটা

সরকারি বিদ্যালয়ের ১৪ শতাংশ কোটার বাইরে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার লক্ষ্যে এ কোটা রাখা হবে। এসব শিশু নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

ঢাকার ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ আসন

খসড়া নীতিমালায় ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। মাউশি ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বদলি হওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সুবিধা

কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১০ মাসের মধ্যে প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।

মহানগর, সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল আগের কর্মস্থল থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকবে।

বদলিজনিত কারণে ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি-শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিদ্যালয়ে আগে থেকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। একই কর্মকর্তা-কর্মচারী পরবর্তী সময়ে আগের কর্মস্থলে ফিরে এলে তাঁর সন্তানকে আগের বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত আসন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তিযোগ্য সন্তানের সংখ্যার সমানসংখ্যক অতিরিক্ত আসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

তবে বালক বিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর ভর্তিযোগ্য সন্তান বালিকা হলে নিকটবর্তী সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। একইভাবে বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর ভর্তিযোগ্য সন্তান বালক হলে নিকটবর্তী সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করা হবে।

সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কর্মরত বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকলে নিকটবর্তী উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করা হবে।

এতিম শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা

কর্মরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেলে তাঁর সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবে, সেই এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

এ ছাড়া সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এমন কোনো শিক্ষার্থী, যার বাবা-মা নেই এবং কোনো কারণে বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়, সে নতুন এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পারস্পরিক বদলিভিত্তিক ভর্তির সুযোগ

একই ভর্তি কমিটির আওতাধীন দুটি বিদ্যালয়ের সম্মতিতে শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির ভিত্তিতে ভর্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।

শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কোনো রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করতে হবে। এরপর বোর্ড নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করবে।

তবে এসব বিধান এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের সময় প্রস্তাবিত নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে।

মন্তব্য করুন

চিকিৎসা ভাতা ৫০০, বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বড় ব্যবধান

এমপিও শিক্ষকদের ভাতা বৈষম্য নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈষম্য রয়েছে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকা এবং মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। বিপরীতে সরকারি স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। বাড়ি ভাড়াতেও রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান।

এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় তাকে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। এ ছাড়া তাদের অন্যান্য ভাতা সুবিধাও সীমিত। অন্যদিকে সরকারি হাইস্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।

এই বৈষম্য দূর করতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—জানতে চাইলে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

নবম পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

এদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নবম পে-স্কেলের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এটি কার্যকর করতে পৃথক গেজেট জারি করতে হবে।

এখনও সেই গেজেট জারি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী।

এ বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আরেকটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

মন্তব্য করুন

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন শিক্ষামন্ত্রী

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সফরকালে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক ফোরাম ও সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সফরের অংশ হিসেবে চীনের বিভিন্ন কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করবেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব সফরের মাধ্যমে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ হবে।

সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ কার্যক্রমের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

অক্টোবরের প্রথমার্ধে এমপিও শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের পরিকল্পনা

বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের জন্য অক্টোবরের প্রথমার্ধকে লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বদলি প্রক্রিয়ায় থাকা বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের পর সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষকদের বদলি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বদলির সার্বিক বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে অবহিত করা হয়। সভায় টেলিটকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বদলির ফল প্রকাশের সময় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রাথমিকভাবে অক্টোবরের প্রথমার্ধের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ]মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষকদের বদলি নিয়ে আবারও সভা হবে। সেখানে বদলি প্রক্রিয়ায় থাকা জটিলতাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা হবে, সেটি জানার পর বদলির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সীমা বলা যাবে। যদি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়, তাহলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেও ফল প্রকাশ করা হতে পারে।’

যেসব বিষয়ে আলোচনা

সভা সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদনে ভুল থাকা শিক্ষকদের আবেদন এডিট বা বাতিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি শূন্য পদ না থাকা এবং জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিস্থাপন হওয়া ১৯৫টি পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা  বলেন, ‘যাদের আবেদনে ভুল হয়েছে, তাদের আবেদন এডিট বা বাতিলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ইতিবাচক। তবে শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত না থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রোববারের সভায় বদলি নিয়ে বেশ কিছু বিষয় আলোচনা হলেও কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার আবারও সভা ডাকা হয়েছে।

সোমবার ফের সভা

মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি নিয়ে আগামীকাল সোমবার দুপুর ২টায় আবারও সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবারের সভায় বদলি প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসনে সিদ্ধান্ত এলে ফল প্রকাশের সময়সীমা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন
×