প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। আগামী রোববার অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থসচিব বলেন, রোববার অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তখন নতুন বেতনকাঠামোর সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে। এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬&rsq...
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লার দুটি কলেজ। কলেজ দুটি হলো—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির ১০ জন করে মোট ২০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় পড়েছেন। কুমিল্লার এই দুই কলেজের পরেই রয়েছে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ। এ কলেজের ৯ পরীক্ষার্থী নকলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে মোট ২৮৮ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কয়েকজনকে পরবর্তী এক থেকে চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। যেভাবে নির্ধারণ করা হয় শাস্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। এরপর অপরাধের ধরন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। ২১৬ জনের শুধু পরীক্ষা বাতিল পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তি পাওয়া ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৪ জনকে পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনকে পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নকল ও অন্যান্য অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখনও শেষ হয়নি একটি ছোট্ট প্রাণের লড়াই। নেপালের রসুয়া জেলায় বন্যার তিন দিন পর মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা শিশুটিকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি বেড়ে সেখানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরে গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে মাটি ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু স্থাপনা। এরপর থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খনন শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির সন্ধান মেলে। পরে তাকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারের পর শিশুটিকে এপিএফের তিমুরে সীমান্ত চৌকিতে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃষ্টিসীমার কারণে উড্ডয়নে দেরি হয়। ফলে শিশুটিকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। উদ্ধারকারীরা শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে উদ্ধারকর্মীদের সাহস ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন লিখেছেন, ‘যে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দলটি উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’ এদিকে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে স্বজনদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবার বা স্বজনদের সন্ধান করছে। কেউ মানিশা মাগার বা তার পরিবারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার জানিয়েছেন, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে গবেষণা ও মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। বন্যার ভয়াবহতায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নেপালে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিন মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ছয় বছরের মানিশা মাগারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পরও শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে উদ্ধারকর্মীদের মধ্যেও। এখন তার দ্রুত সুস্থতা এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় সবাই।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার দরপত্রে ফের ছাপাখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একাধিক লটে একক দরপত্র জমা পড়ায় এ অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যে অষ্টম ও নবম শ্রেণির আটটি লটে একমাত্র দরদাতা হিসেবে অংশ নিয়েছে আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই ছাপার আটটি লটে দরপত্র জমা দিয়েছে আনন্দ প্রিন্টার্স। এসব লটে অন্য কোনো ছাপাখানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি। ফলে একক দরদাতা হিসেবে সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাব করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এনসিটিবির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের প্রতি ফর্মা (৮ পৃষ্ঠা) ছাপার প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী প্রাক্কলিত দরের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি বা ১০ শতাংশ কম দর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আনন্দ প্রিন্টার্স যে আটটি লটে একক দরপত্র জমা দিয়েছে, সেগুলোতে ১৫ লাখের বেশি বই রয়েছে। এসব বই ছাপাতে কয়েক কোটি ফর্মা প্রয়োজন হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়া হলে শুধু এই আট লটের বই ছাপাতেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।’ তার অভিযোগ, ছাপাখানাগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিভিন্ন লট ভাগাভাগি করে নেওয়ায় কোনো কোনো লটে অন্য প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি। ফলে একক দরদাতা হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠান বেশি দর দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মূল্যায়নে বাদ পড়ছে আট লট এনসিটিবি সূত্র জানায়, একক দরপত্রের পাশাপাশি প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি দর দেওয়ায় আনন্দ প্রিন্টার্সের আটটি লটের দরপত্র মূল্যায়নে বাদ পড়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব লটে কাজ দিলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে—এমন বিবেচনায় মূল্যায়ন কমিটি লটগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে। লটগুলো বাতিল হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি। আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. রাব্বানী জব্বারের সঙ্গে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের সাবেক নেতার প্রতিষ্ঠান আনন্দ প্রিন্টার্স রাব্বানী জব্বার সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। ২০২১ সালে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাব্বানী জব্বার পাঠ্যবই ছাপার কাজের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে বর্তমান দরপত্রে আনন্দ প্রিন্টার্সের অংশগ্রহণ ও একক দরদাতা হওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ‘সিন্ডিকেট করে কাউকে লাভবান হতে দেওয়া হবে না’ এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘অষ্টম ও নবম শ্রেণির বইয়ের টেন্ডার ওপেন করার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করেছেন। এটি এখন সরকারি ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি কোনো লটের রি-টেন্ডার বা পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রয়োজন পড়ে, সেটা করা হবে। কাউকে সিন্ডিকেট করে লাভবান হতে দেওয়া হবে না।’ ৩০ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপানো হবে এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির জন্য তিন কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি এবং নবম শ্রেণির জন্য পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই রয়েছে। এসব পাঠ্যবই ছাপাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা। বিপুল পরিমাণ এ সরকারি কাজের দরপত্রে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ব্যয় ঠেকানো নিয়ে এখন নজর রয়েছে এনসিটিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET-UG)–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রহ্লাদ যোশীকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা আসন থেকে নির্বাচিত প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কয়লা, খনি ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন। গত মে মাসের শেষ দিকে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। জুনের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ভারতে ফিরে এসে দিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। টানা ২৬ দিন অনশন করার পর চলতি সপ্তাহে তিনি সরকারের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করেন। এদিকে আন্দোলন দ্রুত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দেয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারের আশ্বাসে ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে সিজেপি। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের লাগাতার চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল শুক্রবার থেকে এ আবেদন শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন এক-দুই দিনের মধ্যেই শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন। যেভাবে আবেদন ও ফি জমা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে সিস্টেম থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। পে-স্লিপের মাধ্যমে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ফি পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের Online Payment Gateway ব্যবহার করেও ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া AMERICAN EXPRESS, VISA, DBBL, NEXUS ও MASTER CARD-এর মাধ্যমেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীরা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করতে পারবেন। ফি পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। সময়সীমা মেনে আবেদন করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে না। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হবে না। ব্যাংকের প্রচলিত অন্য কোনো ফরম ব্যবহার করে ফি জমা দিলে পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না। আবেদন ফরম বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ১ হাজার ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া (ইমন)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নিয়োগ এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তাঁর পদত্যাগের পর চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের পর এবার পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া।
প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে মো. রিপন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দিতে পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হলে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পরিচয় যাচাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর তাকে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএসসি। পিএসসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. রিপন হোসেন অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ছিলেন। তার রোল নম্বর ২১০১১৮৭। নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পরিচয় যাচাই করতে প্রবেশপত্রের ছবি এবং মৌখিক পরীক্ষার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে দেখেন। এতে তার পরিচয় নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি পিএসসির উপপরিচালক শোভন সমাদ্দারকে জানানো হলে তিনি উপসচিব ওয়াসিমুল বারীকে অবহিত করেন। পরে কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে যাচাই-বাছাই ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পিএসসি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিপন হোসেন নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি ওই নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক—কোনো পরীক্ষাতেই নিজে অংশ নেননি। তার পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি লাভের অপচেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসদুপায় অবলম্বন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৮৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে কারও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, আবার কাউকে এক থেকে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধের ধরন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর, ১৪ জনের পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনের পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে আসা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা নিষিদ্ধ করতে ফের কড়া নির্দেশ দিয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। নোয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি নোয়াখালী সদর উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ওই নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন নিয়ে আসছে এবং শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো নিষিদ্ধ করা হলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন কোচিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না। তাই শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো বন্ধসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কাজ করছে—বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো এনসিটিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়েও নজরদারি করছে। প্রেস মালিকদের সঙ্গেও চলছে নিয়মিত সমন্বয়। সম্প্রতি এনসিটিবি অডিটোরিয়ামে বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানে মালিকরা মুদ্রণ ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধান করা হলে সময়মতো বই সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মত দেন। এর পরপরই গত মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি দেশের এক হাজারের বেশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। সভায় আগের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরবরাহকৃত বইয়ের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বই গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বই পাঠানোর সময় মাঠপর্যায় সঠিকভাবে অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বই সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে নির্ধারিত সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার প্রতিনিধি পালন করবেন—এ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৬ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৫ নভেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি প্রকাশ করে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৬৭৫৭/২০২৫–এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ৮ সেপ্টেম্বর যে পরিপত্র (যেখানে সংশোধিত প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী নিয়মিত বা অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল) জারি করেছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে প্রবিধানমালা-২০২৪-এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী ইউএনও (উপজেলা পর্যায়) এবং ডিসি বা তার প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়) সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। অফিস আদেশে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিলুপ্ত হবে। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। শনিবার (১৫ নভেম্বর) নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পুষ্টিহীনতা ও বিদ্যালয় চলাকালে শিশুদের ক্ষুধা দূর করতে সহায়তা করবে, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আরও মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়বে। তিনি জানান, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই উদ্যোগটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ডমেনিকো স্কালপেল্লি। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হবে। এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের বেশি হবে, ঝরে পড়া কমবে, প্রতি বছর প্রকৃত ভর্তির হার ১০ শতাংশের বেশি বাড়বে এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন দল। আপনি কি মনে করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকারে ব্যবস্থা করা উচিৎ?