নতুন শিক্ষানীতি নয়, প্রাথমিক শিক্ষায় আলাদা নীতিমালা হচ্ছে
কাল সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, জানা যাবে দুই উপায়ে
টানা বিক্ষোভের পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
সহকারী শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতি, বন্ধ ৬৫ হাজার স্কুল
বিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন আবেদন বাড়ছে, পাঁচ দিনে আবেদন সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে

বালতি সরানো নিয়ে বিরোধ, যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়ে...

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে ভাইরাল সেই শিক্ষক এবার জেলার শ্রেষ্ঠ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে হাঁটার ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী পাল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদের সই করা এক স্মারকে নির্বাচিত শিক্ষকদের তথ্য বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবার চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিউটি রাণী পাল ছাড়াও রয়েছেন সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগরের আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জের ১ নম্বর চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ। এর আগে চলতি বছরের ২৩ জুলাই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন বিউটি রাণী পাল। নীল শাড়ি পরা অবস্থায় ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে হাঁটার ওই ভিডিও প্রকাশের পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা একই গানকে প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে সমালোচনার মধ্যেও পাশে থাকা শিক্ষক, দেশবাসী, পরিবার ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিউটি রাণী পাল। শিক্ষকতা পেশায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩ আয়োজনে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছিলেন বিউটি রাণী পাল। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ, ‘ভাইভা কার্ড’ ঠেকানোর হুঁশিয়ারি

নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লিখিতের গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী, ডাকসু সদস্য ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে মল চত্বর ও হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে মধুর ক্যান্টিনসংলগ্ন নির্ভীক জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিয়োগে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত পদ্ধতি থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সুপারিশ, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে ভূতে ধরেছে। ভূতের পা থাকে পেছনে, যার কারণে ভূত সামনে গেলেও পিছিয়ে যায়। বিএনপি সরকারও জনগণের ম্যান্ডেট রক্ষা না করে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা মেধাকে ধ্বংস করে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলতে শুরু করেছেন লিখিত পরীক্ষায় শুধু পাস কর, ভাইভাটা আমরা দেখছি। দলীয়দের জন্য ভাইভা কার্ড চালু করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি ২৪তম বিসিএসে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে একটি দলের অধীনে শতাধিক এসপি নিয়োগের অভিযোগও তুলে ধরেন। সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি সরকার নিয়োগে যতই ভাইভা কার্ড নিয়ে আসার চেষ্টা করুক, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি কখনো সম্ভব হতে দেওয়া হবে না।’ নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘চব্বিশের আগে হাসিনা সরকার মেধার সামনে কোটার দেওয়াল তুলে রেখেছিল। ছাত্র-জনতা সেই দেওয়াল ভেঙেছে। তেমনি বর্তমান সরকার ভাইভার নামে যে স্বজনপ্রীতির দেওয়াল দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, সেটিও ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ভেঙে দেবে।’ ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দেক আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার নিয়োগ-বাণিজ্য ও দলীয়করণের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। সরকার যদি মনে করে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য করবে, তাহলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও জুলাইয়ের প্রাচীর গড়ে তোলা হবে।’ সমাবেশ থেকে বক্তারা নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক—উভয় ধাপেই প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সুপারিশের মাধ্যমে যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

নকলের শাস্তিতে কুমিল্লার দুই কলেজ শীর্ষে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লার দুটি কলেজ। কলেজ দুটি হলো—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠান দুটির ১০ জন করে মোট ২০ শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় পড়েছেন। কুমিল্লার এই দুই কলেজের পরেই রয়েছে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ। এ কলেজের ৯ পরীক্ষার্থী নকলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিলসহ অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকল ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে মোট ২৮৮ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কয়েকজনকে পরবর্তী এক থেকে চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। যেভাবে নির্ধারণ করা হয় শাস্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। এরপর অপরাধের ধরন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। ২১৬ জনের শুধু পরীক্ষা বাতিল পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তি পাওয়া ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৪ জনকে পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনকে পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নকল ও অন্যান্য অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

  ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখনও শেষ হয়নি একটি ছোট্ট প্রাণের লড়াই। নেপালের রসুয়া জেলায় বন্যার তিন দিন পর মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা শিশুটিকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি বেড়ে সেখানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরে গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে মাটি ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু স্থাপনা। এরপর থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খনন শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির সন্ধান মেলে। পরে তাকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারের পর শিশুটিকে এপিএফের তিমুরে সীমান্ত চৌকিতে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃষ্টিসীমার কারণে উড্ডয়নে দেরি হয়। ফলে শিশুটিকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। উদ্ধারকারীরা শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে উদ্ধারকর্মীদের সাহস ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন লিখেছেন, ‘যে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দলটি উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’ এদিকে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে স্বজনদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবার বা স্বজনদের সন্ধান করছে। কেউ মানিশা মাগার বা তার পরিবারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার জানিয়েছেন, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে গবেষণা ও মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। বন্যার ভয়াবহতায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নেপালে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিন মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ছয় বছরের মানিশা মাগারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পরও শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে উদ্ধারকর্মীদের মধ্যেও। এখন তার দ্রুত সুস্থতা এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় সবাই।

শতবর্ষী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে যা বললেন সংসদ সদস্য

শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত জাতীয়করণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দুলালপুর চন্দ্রমণি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি হিসাব তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামীকাল (রোববার) আরও একটি হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার কথা জানান তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের হিসাবে এ জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটার রিপোর্ট আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীকে দেব। যেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের শিক্ষকদের এই চাকরি জাতীয়করণের যে প্রত্যাশা, সে প্রত্যাশা যাতে তিনি পূরণ করেন।’ বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষকদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথাও জানান সংসদ সদস্য। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এই সরকার শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করবে।’ তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

অক্টোবর ৩, ২০২৬

মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও এখনো নিয়োগপত্র পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জুয়েল ইসলাম। ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করলেও দ্বিতীয় দফায় অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পেলেও তার নামে এখনো নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আমি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করি। অনেকে চাকরিতে যোগদান করলেও আমি এখনো নিয়োগপত্র পাইনি।’ নিজের পারিবারিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার একটি নিম্নবিত্ত পরিবার। আমাদের সম্পদ বলতে বাড়ির জায়গা ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া পরিবারের আয়ের কোনো উপায় নেই। আমার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে।’ জুয়েল আরও বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে এসে ঢাকায় পড়াশোনা করা অসম্ভব। কিন্তু আমার পরিবারের সহায়তায় আমরা চেষ্টা করেছি। কী এক অজানা কারণে আমার নাম তালিকায় আসছে না। বিষয়টি জানতে বারবার জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেছি। তবে সেখান থেকে আমাকে সঠিক কারণ জানানো হয়নি।’ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাই, দয়া করে আমাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুযোগ দেন। আমার খেটে খাওয়া পরিবারের জন্য হলেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’ এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বৃহস্পতিবার যোগদানের কথা ছিল। তবে সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পরে নিয়োগপত্র পেলেও এখনো অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তখনো ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই বাকি ছিল। মন্ত্রী জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা যাচাই শেষে নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানান তিনি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলার কথা ছিল। এরপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের কথা বলা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজ ইচ্ছায় আবেদন করেননি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৫৪ জনে। এসব প্রার্থীর মধ্যেও এখনো অনেকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাননি।

অক্টোবর ৩, ২০২৬

অননুমোদিত ক্যাম্পাস ও সার্টিফিকেট বাণিজ্য: ইউসেটের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ইউজিসির

অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, ডোমেইন জটিলতা ও সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং সাময়িক অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউসেট) সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইউজিসি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট ২১১ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার খোর্দ ঘোষপাড়ার সামাদবানু টাওয়ারে (প্লট নম্বর ২৯৮-২৯৯) সাত বছরের জন্য ইউসেট অস্থায়ীভাবে স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শর্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সরকার ও ইউজিসি অনুমোদিত ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ঠিকানা বা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইউসেটের অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, ডোমেইন-সংক্রান্ত জটিলতা এবং সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক অনুমতির মেয়াদও শেষ হয়েছে। এসব কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ইউসেটের ভর্তি ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান প্রোগ্রামে ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউজিসি থেকে শিগগিরই পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউজিসির সদস্য ও মুখপাত্র অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন  বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনেই সব বলে দেওয়া হয়েছে। তারা সরকার ও ইউজিসির কোনো নিয়ম মানেনি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা আর কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।’

অক্টোবর ১, ২০২৬

‘হতাশা ছিল বলেই পড়াশোনা করেছি, হতাশাকে নেগেটিভলি দেখি না’

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর থেকে। এ সময়ে ভর্তিচ্ছুদের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে জানার আগ্রহও বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় নিজের সাফল্য, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আদন নুসরাত। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ১২১তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে পছন্দের বিষয় ইংরেজি বিভাগ হওয়ায় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম। ভর্তি পরীক্ষায় আপনার সাফল্যের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল? বেশ ভালো লেগেছিল। কারণ আমার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু পছন্দের বিষয় ইংরেজি পাইনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়েছিলাম। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কতদিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন এবং কীভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন? গুছিয়ে পড়াটা কম হয়েছে বলা যায়। আসলে সেভাবে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টের পর বন্ধুদের অনেকের চান্স হয়ে যায়। তখন যখন মনে হলো, আমাকে সার্ভাইভ করতে হবে, এরপর থেকে রাতদিন টানা পড়েছি। আমার দরকার ছিল একটা সিট। ঠিক করেছিলাম, ইংলিশে যদি একশটা সিট থাকে, একটা আমার। আবার যদি দশটা সিটও থাকে, একটা যেকোনো মূল্যে আমারই। প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন? আপনার পড়ার রুটিনটা কেমন ছিল? শুরু থেকে বি ইউনিটের জন্য পড়িনি, তাই পরে আমার পড়ার চাপ একটু বেশি ছিল বলা যায়। যখন থেকে সিরিয়াস হয়েছি, বেসিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে পুরোটা সময় পড়েছি। কোনো নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না। তিনটায় ঘুম ভাঙলেও তাহাজ্জুদ পড়ে পড়া শুরু করেছি। দুপুরেও পড়েছি। মোটকথা, যখন সুযোগ পেয়েছি তখনই পড়েছি। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন? সাধারণ জ্ঞান (জিকে) কঠিন মনে হয়েছে। এজন্য আমি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি জিকে অংশে। বারবার পড়তাম, ভুলে যেতাম, আবার পড়তাম। মনে হতো, যেন আমি পড়ছি ভুলে যাওয়ার জন্যই। আপনার প্রস্তুতিতে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে? সেভাবে কোচিং করা হয়নি। তবে নিজেকে যাচাই করার জন্য কোচিংয়ের মডেল টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে ব্যাখ্যাসহ বিসিএস প্রশ্নব্যাংক সমাধান করেছি। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নব্যাংক সমাধান করেছি। এতে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়েছিল। এরপর টপিকভিত্তিক পড়েছি। আগে থেকেই প্রশ্নব্যাংক সমাধান করায় বুঝতে পেরেছি কোন টপিক থেকে কেমন প্রশ্ন হয় এবং কোথায় কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে কোন ধরনের অংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন? আমি জিকে-তে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এটি পুরোপুরি মুখস্থনির্ভর একটি অংশ। ইংরেজি আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিল, কারণ শব্দভান্ডার ও গ্রামারে ভালো দখল ছিল। কিন্তু যখন জিকে অংশে যেতাম, তখন কিছুটা হতাশ হয়ে যেতাম। এ কারণে জিকে বেশি বেশি পড়তাম। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সও পড়েছি। পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল? প্রথমে পুরো প্রশ্ন পড়ে গেছি। এক পলক দেখেই উত্তর করা যায়—এমন প্রশ্নগুলো আগে শেষ করেছি। যেগুলোর উত্তর সঙ্গে সঙ্গে করতে পারিনি, সেগুলোর পাশে পেন্সিল দিয়ে হালকা ডট দিয়েছি। এরপর ডট দেওয়া প্রশ্নগুলো আবার পড়েছি এবং উত্তর করার চেষ্টা করেছি। যেগুলোর উত্তর করেছি, সেগুলোর ডট ইরেজার দিয়ে মুছে দিয়েছি। তৃতীয়বার সময় নিয়ে বাকি প্রশ্নগুলো চিন্তা করে উত্তর করেছি। প্রস্তুতির সময় কখনো হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল? হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন? পুরোটা সময়ই হতাশ ছিলাম। প্রায়ই কান্নাকাটি করতাম। তবে হতাশা ছিল বলেই আমি পড়াশোনা করেছি। তাই হতাশাকে আমি নেগেটিভভাবে দেখি না। আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক বা বন্ধুদের ভূমিকা কতটা ছিল? আব্বু-আম্মু নিয়মিত দোয়া করতেন। আম্মু কাউকে জোরে শব্দ করতে দিতেন না, যাতে আমার মনোযোগ নষ্ট না হয়। শিক্ষকদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। তবে ওই সময়টাতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি কথা হয়নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগকে পছন্দ করার বিশেষ কারণ কী? আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সাবজেক্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান এসেছিল ডি ইউনিট থেকে। সেখানে ইংরেজি পাইনি। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে চলে আসি। বিভাগ পছন্দ করার কারণ ছিল—আমার উপন্যাস, কবিতা ও ছোটগল্প পড়তে ভালো লাগত। আউটবুক হিসেবে যেগুলো ভালো লাগে, সেগুলো একাডেমিক বই হিসেবে পড়তে আরও ভালো লাগবে—এমনটাই মনে হয়েছিল। ভবিষ্যতে যারা ভর্তি পরীক্ষা দেবে, তাদের জন্য

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশের দাবিতে রংপুরে চাকরিপ্রার্থীদের মানববন্ধন

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চার ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রার্থীরা। যে চার পদের ফল আটকে চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। বিজ্ঞপ্তির আওতায় বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন। তবে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। পদগুলো হলো— প্রদর্শক—৫১৪টি গবেষণা সহকারী—২১টি সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার—৬৯টি ল্যাবরেটরি সহকারী—৬টি আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। কিন্তু ভাইভা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। ‘আমরা অনিশ্চয়তায়’ মাউশির নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, ‘প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’ পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের ফল প্রকাশ হলেও চারটি ক্যাটাগরির ফল আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। একই নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতনীতি কেন হবে? আমাদের একবার মন্ত্রণালয়ে, আবার মাউশিতে পাঠানো হচ্ছে। আমরা যেন ফুটবলের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছি।’ চার দফা দাবি স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো— ১. অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা। ২. ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা। ৩. নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। ৪. নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা। এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। ভাইভা শেষের দুই বছরের বেশি সময়েও ফল প্রকাশ হয়নি, দ্রুত নিয়োগের দাবি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চার ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রার্থীরা। যে চার পদের ফল আটকে চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। বিজ্ঞপ্তির আওতায় বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন। তবে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। পদগুলো হলো— প্রদর্শক—৫১৪টি গবেষণা সহকারী—২১টি সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার—৬৯টি ল্যাবরেটরি সহকারী—৬টি আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। কিন্তু ভাইভা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। ‘আমরা অনিশ্চয়তায়’ মাউশির নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, ‘প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’ পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের ফল প্রকাশ হলেও চারটি ক্যাটাগরির ফল আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। একই নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতনীতি কেন হবে? আমাদের একবার মন্ত্রণালয়ে, আবার মাউশিতে পাঠানো হচ্ছে। আমরা যেন ফুটবলের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছি।’ চার দফা দাবি স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো— ১. অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা। ২. ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা। ৩. নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। ৪. নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা। এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

নবম পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরাও, প্রজ্ঞাপনের আগে পেরোতে হবে ৪ ধাপ

সরকারি চাকরিজীবীদের মতো নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। তবে তাদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আর এ প্রজ্ঞাপন জারির আগে চারটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার সময়ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একই প্রক্রিয়ায় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব মো. মজিবুর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ১ জুলাই ২০১৫ থেকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর নির্ধারিত নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাবেন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর তফসিল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আদেশটি ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর করা হয় এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পরিচালক (শিক্ষা), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এ নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অষ্টম পে-স্কেলের সময়ের মতো এবারও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন হবে। এজন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ার চারটি ধাপ শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৬৪১ শিক্ষক-কর্মচারী, বিএড স্কেল পাবেন ৩ হাজার ৯৫ জন

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ৬৪১ শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন করে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৯৫ শিক্ষককে বিএড স্কেল দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত মাউশির এমপিও কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাউশির নথি অনুযায়ী, নতুন করে এমপিওভুক্তির তালিকায় স্কুল পর্যায়ের ৩৭৮ এবং কলেজ পর্যায়ের ২৬৩ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। স্কুল পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া ৩৭৮ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৩০, চট্টগ্রামের ১৬, কুমিল্লার ১০, ঢাকার ৬৬, খুলনার ১৩, ময়মনসিংহের ৩৮, রাজশাহীর ১২৬, রংপুরের ৬৩ এবং সিলেটের ১৬ জন রয়েছেন। অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ২৬৩ শিক্ষক-কর্মচারী। এর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৯, চট্টগ্রামের ৩, কুমিল্লার ৬, ঢাকার ৪৬, খুলনার ৫৮, ময়মনসিংহের ২০, রাজশাহীর ১০২, রংপুরের ১১ এবং সিলেটের ৮ জন রয়েছেন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে স্কুল ও কলেজ—উভয় পর্যায়েই রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্কুল পর্যায়ে এ সংখ্যা ১২৬ এবং কলেজ পর্যায়ে ১০২ জন। অর্থাৎ নতুন এমপিওভুক্তির তালিকায় দুই পর্যায়েই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী অঞ্চল।

আমার এলাকার সংবাদ

মিড-ডে মিলে নতুন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে নতুন পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে কুপন ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন দেওয়া হবে। ওই কুপন দিয়ে স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্ত খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে তারা। তবে তালিকাভুক্ত দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছে পছন্দের খাবার না পেলে শিক্ষার্থী খাবার কিনবে না এবং কুপনের অর্থ তার কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করা হবে। শিক্ষার্থীরা ওই তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কুপনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে। তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যদি তালিকাভুক্ত দোকানে বা ব্যবসায়ীর কাছে পছন্দ অনুযায়ী খাবার না পায়, তখন কিনবে না। কুপনের অর্থ শিক্ষার্থীর কাছেই থাকবে।’ মন্ত্রী জানান, কুপনভিত্তিক মিড-ডে মিলের এই পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। বিনামূল্যের বইয়ের মান নিয়েও সতর্ক মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের বইয়ের মান নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বইয়ের মান নিশ্চিত করতে পাঁচ স্তরে যাচাই করা হচ্ছে। মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট বই বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘কেউ কাগজের মান খারাপ দিলেই সেই বই বাতিল করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ বই কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পরও কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বই সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে যাওয়ার পরও যদি কোনো বইয়ের মান খারাপ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রিন্টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন জরিপ

আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন দল। আপনি কি মনে করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকারে ব্যবস্থা করা উচিৎ?

×