১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ অনিশ্চিত, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদপ্রার্থীদের শঙ্কা
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগের সুপারিশ না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কয়েকশ ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদপ্রার্থী। প্রতি ট্রেডে দুজনের পরিবর্তে একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের নতুন নীতিমালার কারণে শূন্যপদ ও নিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
প্রার্থীদের দাবি, প্রতি ট্রেডে দুজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের নীতিমালার আলোকে ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় তাঁদের চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এর আগে ষষ্ঠ ও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিও একই নীতিমালার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত শূন্যপদ না থাকায় তখনও অনেক প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পাননি।
এ অবস্থায় নতুন করে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে নীতিমালার পরিবর্তন। তাঁদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে প্রতি ট্রেডে দুজনের পরিবর্তে একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর রাখার বিধান করা হয়েছে। ফলে নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা কমে যেতে পারে। এতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও অনেক প্রার্থী আবারও নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানতে চাইলে বিভাগের যুগ্মসচিব (কারিগরি-১) মো. গাউছুল আজম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তারপর আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারব। তবে কেউ বঞ্চিত হোক সেটি কারোই কাম্য নয়।’
নিয়োগের সুপারিশের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের আশঙ্কা, প্রতি ট্রেডে দুটি পদের পরিবর্তে একটি পদ নির্ধারণের ফলে নিয়োগের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমানে চলমান বদলি প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট শূন্যপদগুলোও নতুন নীতিমালার প্রভাবে নিয়োগের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মো. রায়হান নামে এক প্রার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, সময় ও অর্থ ব্যয় করে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে নিয়োগের সুযোগ কমে যায়, তাহলে প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। যে নীতিমালার আলোকে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, পরবর্তী সময়ে সেই নীতিমালার পরিবর্তনের ফলে কেন তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হবে?’
শুধু চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের বিষয় নয়, প্রতি ট্রেডে একজন শিক্ষক নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কারিগরি শিক্ষার মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, শিক্ষকসংকট বাড়লে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মো. শামীম ইসলাম নামে আরেক প্রার্থী জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ক্লাস পিরিয়ড বিন্যাস অনুযায়ী তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক মিলিয়ে সপ্তাহে মোট ৩২টি ক্লাস নিতে হয়। একজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টরের পক্ষে এতগুলো ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষকস্বল্পতার কারণে একজন শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে পাঠদানের মান কমে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং কারিগরি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতা, অবসর কিংবা অন্যান্য কারণে কোনো পদ শূন্য হলে নতুন শিক্ষক নিয়োগে সময় লাগতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হলে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুপারিশের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা বলছেন, সরকার যখন কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, প্রতি ট্রেডে দুটি পদের পরিবর্তে একটি পদ নির্ধারণ করলে একদিকে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকস্বল্পতা আরও প্রকট হতে পারে।
এ কারণে আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে নীতিমালার সংশ্লিষ্ট অংশ পুনর্বিবেচনা করে প্রতি ট্রেডে দুজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর নিয়োগের আগের বিধান পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রার্থীদের প্রত্যাশা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কারিগরি শিক্ষার মান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায়, ১৮তম নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও শত শত ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদপ্রার্থী আবারও নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
অক্টোবর ১২, ২০২৬